গ্যালারি

রেসিপিঃ পাতলা ডাল (সাধারণ ঘরের রান্না)


বলা চলে বোবা হয়ে আছি! মনে হয় যেন কিছুই আর বলার নেই, আর বলে বা বুঝেও কি হবে! কাকে বলবো, কি জন্য বলবো! কি নিঃস্ব, কি নিঃসঙ্গতা, কি নিস্তব্ধতা! তবুও বেঁচে থাকতে হয়, বেঁচে থাকার জন্য খেতে হয়! এছাড়া মানুষের আর কি করার আছে। গতকাল রাতে অফিস ফিরে সাদা ভাতের সাথে ডাল দিয়ে খেতে মন চাইছিলো। বাসায় শুধু আম্মা ছিলেন, স্ত্রী পুত্ররা বেড়াতে গিয়েছে। এই বয়সে এসে রান্নার জন্য আম্মাকে কিছু বলতে ইচ্ছা হয় না, আবার আমি নিজে রান্না ঘরে গেলে আম্মাও পিছনে পিছনে লেগে থাকেন বা আমার কাছে মনে হয় আম্মা এখনো তার ছেলে রান্না করুক এটা মেনে নিতে পারেন না! হয়ত মা বলেই! মায়ের যত বয়স হউক বা ছেলে মেয়েরা যত বড় হউক, মা তো মা’ই! মায়ের থাকে নিস্বার্থ ভালবাসা। নারীদের এই চরিত্রে কোন ফেল নাই, নাড়ী ছেড়া ধন সন্তান বটেই!

যাই হোক, আম্মাই বলা চলে সব ঘুছিয়ে দিয়েছেন, আমি শুধু রান্নার কাজ করেছি মাত্র! আমার প্রিয়তমা স্ত্রী এমন পাতলা ডাল তেমন রান্না করেন না। তিনি গাঢ বা ঘন করে রান্না করেন এবং পরিমাণে সব কিছু বেশী দেন ফলে আমার কাছে পাতলা ডাল নয় ঘন তরকারী মনে হয়।

এমন রান্না ডাল মুলত দুনিয়াতে কোথায় রান্না হয় কি না জানি না, তবে সাদা ভাতের সাথে এই ডাল খাবারের একটা আলাদা আনন্দ এনে দেয়। আমি বিধাতাকে এই ডাল আমাদের খাবারের উপযোগী করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ বা বিশেষ শুকরিয়া জানাই। এমন দারুন খাবার যে আমি তো ডাল দিয়েই এক প্লেট সাবাড় করে দিতে পারি। আপনারা মুলত জানেন বা স্বীকার করেন কি না জানি না! আমাদের মুল খাবারের তিনটে ধাপ আছে (দুনিয়ার সব দেশের মত)! ১) ভর্তা ভাঁজি দিয়ে টানো ২) মাছ গোশত দিয়ে টানো ৩) ডাল দিয়ে টানো। আপনারা কি বলেন, আশা করছি খাবার খেতে বসলে খেয়াল রাখবেন। হা হা হা, আমি আসলে বাড়িয়ে বলছি না!

যাই হোক, এমন ডালের রান্না আগেও দেখিয়েছি, তবুও এমন সাধারণ আপনাদের না দেখিয়ে পারি না, বিশেষ করে আমি যখন রান্নাঘরে আছি। তা ছাড়া এমন রান্না আমাদের বাংলাদেশী জীবনে খুব উল্লেখযোগ্য! চলুন দেখে ফেলি। খুব সাধারণ রান্না, আশা করি আপনারা দেখেই বুঝতে পারবেন। তবে আজ এই রেসিপি লিখতে গিয়ে আমার একটা ঘটনা মনে পড়ছে, আমি জীবনে প্রথম কখন এমন পাতলা ডাল রান্না করি। রান্নায় তখন আমার এত জানা ছিল না। ২০০৫ বা ২০০৬ সালের দিকে আমরা কয়েক বন্ধু (১০/১২ জন হবে) মিলে সিলেটে বেড়াতে যাই, সেখানে দুপুরে বড় পাতিলে আমি আমার জীবনের প্রথম ডাল রান্না করি, অবশ্য হেল্পার হিসাবে এক বন্ধু ছিলো। সেই দিলের ডালের কথা এখনো মনে পড়ে, এত বড় পাতিলের ডাল সবাই শেষ করে ফেলেছিল। মুরগীর গোশত লিমিটেড ধার্য্য থাকায় ওরা সেদিন ডালেই মুল কর্ম সেরেছিল! হা হা হা, শুধু ডাল দিয়ে এমন হাপুস করে খাবার খাওয়া যায়, এটা আমি সেদিন সেখানে না থাকলে বুঝতে পারতাম না! হ্যাঁ, তবে এখন বুঝি!

চলুন, কথা না বাড়িয়ে কাজে মন দেই।  আশা করি যারা নুতন রান্না করছেন বা শিখছেন তাদের জন্য এই রান্না খুব কাজ দিবে!

ছবি ১, রান্নার আগেই সব যোগাড় করে নেয়া উত্তম।  ডাল ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে।  পাশে টমেটো কুচি, পেঁয়াজ কুচি, ধনিয়া পাতা কুচি এবং কাচা মরিচ।


ছবি ২, পরিমান মত পানি দিয়ে তাতে কয়েক চামচ তেল দিন এবং চুলায় বসিয়ে দিন।  আমরা এক বড় বাটির জন্য এক মুষ্টি ডাল নিয়েছি, পানি মোটামুটি এক লিটার।


ছবি ৩, এবার একে একে টমেটো, পেঁয়াজ কুচি, কাচা মরিচ দিয়ে দিন।


ছবি ৪, সামান্য হলুদ গুড়া দিন, অনুমান করে সামান্য লবন দিন, বেশী নয়, পরে ফাইন্যাল লবন দেখার সুযোগ থাকবে, ফলে লবন বেশী নয়, মনে রাখবেন, লবন বেশি হয়ে গেলে যে কোন রান্নাই অখাদ্য হয়ে পড়ে, ফলে সতর্কতা জরুরী।


ছবি ৫, আগুন  মাঝারি করে দিন।


ছবি ৬, ঢাকনা দিতে পারেন, চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না।  মোটামুটি ২০/২৫ মিনিটেই ডাল গলে যাবে।


ছবি ৭, এই অবস্থায় এসে যাবে।  এর পর ঘুটা দিয়ে সব মিশিয়ে দিন।


ছবি ৮, ভাল করে ঘুটা দিয়ে ডাল মিশিয়ে নিন। এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন।


ছবি ৯, আগুন মাঝারি আঁচে, ধনিয়া কুঁচি দিন।


ছবি ১০, বাগার দেয়া, এটা রসুন দিয়ে হলে আরো স্বাদ বাড়ত। তেলে পেঁয়াজ কুঁচি ভেঁজে রান্না ডালে দিয়ে দেয়া। এর জন্যই স্বাদ হাজার গুন বেড়ে যায়।


ছবি ১১, এভাবে দিয়ে দিতে হয়।


ছবি ১২, নাড়িয়ে নিন। ব্যস, হয়ে গেল।


ছবি ১৩, পরিবেশনা।


ছবি ১৪, গরম গরম।


ছবি ১৫, সাদা ভাতের সাথে কিংবা খাবারের শেষে! আহ, দারুন।

সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ আমার আম্মা ফিরোজা বেগম

One response to “রেসিপিঃ পাতলা ডাল (সাধারণ ঘরের রান্না)

  1. ভাইজান রান্নায় আপনার দক্ষতা অসাধারণ।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s