গ্যালারি

বিয়ে শাদীর খাবার দাবার ও অন্য কিছু – ১৬ (ফেবুবন্ধু রাজেনের বিয়ে)


ব্লগ কিংবা অনলাইন থেকে পরিচিত আমার অনেক বন্ধু আছে, সময়ে সময়ে অনেকের সাথে দেখা হয়েছে কিংবা হবে। এই সুত্রে বহু বছর আগে পরিচিত হয়েছিল রাজেনের সাথে, প্রথম দেখা হয়েছিল শব্দনীড় ব্লগের একটা পিকনিকে, আমি সেই পিকনিকে পরিবার সহ যোগ দিয়েছিলাম। রাজেনকে দেখে খুব আন্তরিক মনে হয়েছিল এবং সেই থেকে ওর সাথে আর কখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় নাই। পরবর্তীতে সে আমেরিকা গেল, মাঝে একবার আসলো, স্টার কাবাবে দাওয়াত দিলো, আর অনলাইনে যোগাযোগ তো ছিলই! খুব ভাল ছেলে! ওকে মনে রাখার আর একটা আলাদা কারন ছিলো, ঠিক ওর মত চেহারা বয়সের আমার প্রিয়তমা স্ত্রীর একজন ভাই আছে এবং তার নামও ‘রাজন’, রাজন ইটালীতে প্রবাসী (সেও গত বছর বিয়ে করেছে)। নাম চেহারা ইত্যাদির কারনে ওকে ভুলে যাবার কোন কারন ছিলো না, এমন কি ওর কথা আমি আমার স্ত্রীর সাথেও গল্প করতাম! কয়েকদিন আগে রাজেন দেশে আসলো, আমি খেয়াল করি নাই। ফেবুতে সে মেসেজ দিল এবং জানালো আমি শনিবার ফ্রী আছি কি না! সে আরো জানালো আমার কাবিন হয়েছে (Amar kabin hoyeche. Saturday te program. Dhanmondi White Hall e (27 no rd) Apni ashben. Khushi hobo. Time 7:30 PM.), শনিবার বিয়ে এবং যথা রীতি দাওয়াত দিলো, ধান্মন্ডিতে একটা বিবাহঘরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে!

এই বছরে যত দাওয়াত বিশেষ করে বিয়ের দাওয়াত পেলেই এটেন্ড করবো প্রতিজ্ঞা করেছি, কারন গত কয়েক বছর বিবাহের দাওয়াত উপেক্ষা করেছি। বিবাহের খাবার যদিও এখন আর শরীরের জন্য ভাল নয়, তবুও উপস্থিত থাকার মধ্যেও একটা আলাদা আনন্দ আছে! যাই হোক, বাসায় রাজেনের বিবাহের দাওয়াতের কথা জানাতে স্ত্রী বেশ উৎসাহ দিলেন এবং বললেন অবশ্যই যাবে, ছোট ভাই রাজেনের বিবাহে না গেলে কেমনে হয়! উপহার নিয়ে কথা হল, কি উপহার দেয়া যায়! আমি ভেবে কিছু পেলাম না!

তবে উপহার নিয়ে আমার মতামত এমনই, যা পূর্বের একটা ব্লগে লিখেছিলাম!

উপহার পেতে কার না ভাল লাগে! যে কোন বয়সেই কারো কাছ থেকে উপহার পেলে ভাল সবারই ভাল লাগে। আমি নিজে উপহার দিতে বেশী পছন্দ করি (অবশ্য অনেক বিয়েতে ইচ্ছা করেই দেই না, কারন মনে করি তার উপহার দিয়ে কোন লাভ হবে না!)। তবে কাউকে উপহার দিতে গেলে বেশ ভাবনায় পড়তে হয়, যাকে উপহার দিবো তার আর্থিক অবস্থা, অবস্থান ইত্যাদি চিন্তা করতে হয়! কয়েকদিন আগে, আমেরিকায় থাকা এক ভাগিনা, তার বিয়ের রিসিপশন। তাকে কি দেয়া যায়। আমি সারা বেইলী রোড ঘুরে একটা শাড়ি দোকানে ভাগিনার স্ত্রীর জন্য একটা শাড়ী কিনতে চাইছিলাম। এক বন্ধুকে (সেও দাওয়াতি ছিল) ফোন দিলাম, সে কখন আসবে, সে আমার অবস্থান জানতে চাইলো। আমি বললাম, আমি শাড়ি কিঞ্ছি দেখে সে খুব অবাক হল এবং বলল, তুই যে শাড়ী দিবি সেটা ভাগিনা বউ কখনো পড়বে না, তোর টাকা জলে যাবে! আমিও চিন্তা করলাম, হ্যাঁ, এই শাড়ী সে কিছুতেই পরবে না বা শাড়ি তার কোন কাজেই লাগবে না! আমার বন্ধু আরো কিছু যুক্তি দেখালো, অবশ্যই মেনে নিলাম! উপহার দিতে আসলে স্থান, কাল, পাত্র ইত্যাদি ভেবে দিতে হয়, নাইলে উপহার মাটিতেই পড়ে থাকে! এই জন্য আমি অনেক দাওয়াত উপহার ছাড়া খেয়েছি! এবং এতে আমি কিছু মনে করি না!

আমার চেয়ে ধনী বন্ধুদের আমি কখনোই উপহার দেই না (মিষ্টি বা ফুলকে কি উপহার বলা যায়, এই সব বাইরে রেখে চিন্তা করছি) বা দিতে চাই না! কি দেব এদের, এদের সবই আছে, কোন উপহার এদের প্রয়োজন নেই! এদিকে আমি দেখেছি, আমার ধনী বন্ধুরা উপহার চায়ও না, তাঁরা উপস্থিতি চায় মাত্র। যথা সময়ে উপস্থিত থাকা এবং আড্ডা দেয়া এদের লক্ষ থাকে! আমিও যখন কাউকে দাওয়াত দেই তখন উপহার আশাও করি না, যারা কাছের বা মাইন্ড করবে না তাদের উপহার আনতে নিষেধ করি। আমার কাছেও বন্ধু বা আত্মীয়দের উপস্থিতি কাম্য এবং আনন্দের! মানসিক ভাবে আমি নিজকে এই সবের উর্ধে উঠাতে পেরেছি বলে মনে করি!

রাজেন আমেরিকায় থাকে, তার জন্য মুলত কোন উপহারই যোগ্য নয়। আমি যাই দিবো তার কোন মূল্য হবে না! ভেবে ভেবে অনেক সময় পার করলাম! যাই হোক, শনিবার আমাদের পূর্ন অফিস! অফিসে ছেড়ে বের হতে হতে রাত ৯টা বেজে যায় কিন্তু আমার অপেক্ষা আর ফুরায় না। আমি সন্ধ্যা ৭টায় রাস্তায় নেমে পড়লাম। নয়া পল্টন থেকে মোহাম্মদ পুর বা ২৭ নং ধান্মন্ডির বিবাহ ঘরে যেতে একটা পাঠাও ভাড়া করলাম, পথে পাঠাও মাষ্টারের সাথে রাষ্ট্র নিয়ে নানান কথা হল, এবং প্রায় দেড় ঘন্টা পরে যানযট ভেঙ্গে বিবাহ ঘরে পৌঁছে যাই! যথারীতি রাজেনকে দেখে আনন্দ পেলাম।

রাজেন তার নববিবাহিতা স্ত্রীর সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল, ‘বড়ভাই’! বাকী পরিচয় আমিই দিয়েছিলাম! আমি তার স্ত্রীকে বলেছি, ‘রাজেন খুব ভাল ছেলে’! ওদের জন্য দোয়া থাকলো, ওদের জীবন কাটুক আনন্দে। ফেরার তাড়ায় বেশিক্ষন বসা হল না, খেয়েই ফিরতে হল, বেশ জমজমাট অনুষ্ঠান ছিলো! যাই হোক, বাকী চলুন ছবিতে দেখি। বিবাহের মুল ব্যাপার একই! বাংলাদেশের সব বিবাহ একই স্টাইল, এই খাবার দাবার!


ছবি ১, রাজেনের হাসি মুখ।


ছবি ২


ছবি ৩, বন্ধুদের সাথে ছবি তোলা।


ছবি ৪, বিবাহ মানেই মিলন মেলা।


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭, এই দৃশ্য দেখতে ভাল লাগে!


ছবি ৮, টিকিয়া।


ছবি ৯, সালাদ।


ছবি ১০, চাটনী!


ছবি ১১, চিংড়ি।


ছবি ১২, আমার প্লেট। বোরহানী ও জরদার ছবি তুলতে পারি নাই, আশে পাশের মানুষেরা আমার ছবি তোলা দেখে কি মনে করে আবার! হা হা হা…। কাচ্চি বিরিয়ানী বেশ মজাদার ছিলো।


ছবি ১৩, বিবাহ মানেই আত্মীয় স্বজনের মিলন মেলা।


ছবি ১৪, ছেলে পক্ষের উপহার নেয়ার কোন স্টল নজর পড়লো না!


ছবি ১৫, এই একই হলে আমি আরো একটা বিবাহে যোগ দিয়েছিলাম।


ছবি ১৬, রাজেনের বিবাহ হয়েছিল ১ নং হলে!


ছবি ১৭, দারুন দৃশ্য।


ছবি ১৮, হোয়াইট হল। একই হলের ভিতর একই সময়ে তিন তিনটে বিবাহ বা এই রকম অনুষ্ঠান হয়ে থাকে, ব্যস্ত ঢাকার ব্যস্ত চিত্র!

তবে বুঝতে পারলাম, এটা মুলত যৌথ অনুষ্ঠান ছিল। আজকাল বিবাহে একই অনুষ্ঠানই হয় কারন একই বিয়ের দুই দাওয়াত আর কেহ চায় না, এই হচ্ছে এখনকার চিন্তা ভাবনা। মুলত মানুষের ব্যস্ততা ও সময়, সাথে যোগ হয়েছে, রাস্তায় গাড়ির যানযট! সব মিলিয়ে মানুষ এখন আর একই বিয়েতে দুইবার যেতে চায় না!

আবারো রাজেনের জন্য দোয়া করি, বিবাহ হয়েছে বলে আশা করি আমাদের যোগাযোগ বন্ধ হবে না, বিবাহে ওর ব্যস্ততা বাড়লেও আশা করি আমাদের যোগাযোগ থাকবে। ওকে স্বপরিবারে একবার বাসায় দাওয়াত দিতে হবে।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s