গ্যালারি

উপহারঃ হাত ঘড়ি, সৌদি আরব থেকে


উপহার পেতে কার না ভাল লাগে! যে কোন বয়সেই কারো কাছ থেকে উপহার পেলে ভাল সবারই ভাল লাগে। আমি নিজে উপহার দিতে বেশী পছন্দ করি (অবশ্য অনেক বিয়েতে ইচ্ছা করেই দেই না, কারন মনে করি তার উপহার দিয়ে কোন লাভ হবে না!)। তবে কাউকে উপহার দিতে গেলে বেশ ভাবনায় পড়তে হয়, যাকে উপহার দিবো তার আর্থিক অবস্থা, অবস্থান ইত্যাদি চিন্তা করতে হয়! কয়েকদিন আগে, আমেরিকায় থাকা এক ভাগিনা, তার বিয়ের রিসিপশন। তাকে কি দেয়া যায়। আমি সারা বেইলী রোড ঘুরে একটা শাড়ি দোকানে ভাগিনার স্ত্রীর জন্য একটা শাড়ী কিনতে চাইছিলাম। এক বন্ধুকে (সেও দাওয়াতি ছিল) ফোন দিলাম, সে কখন আসবে, সে আমার অবস্থান জানতে চাইলো। আমি বললাম, আমি শাড়ি কিঞ্ছি দেখে সে খুব অবাক হল এবং বলল, তুই যে শাড়ী দিবি সেটা ভাগিনা বউ কখনো পড়বে না, তোর টাকা জলে যাবে! আমিও চিন্তা করলাম, হ্যাঁ, এই শাড়ী সে কিছুতেই পরবে না বা শাড়ি তার কোন কাজেই লাগবে না! আমার বন্ধু আরো কিছু যুক্তি দেখালো, অবশ্যই মেনে নিলাম! উপহার দিতে আসলে স্থান, কাল, পাত্র ইত্যাদি ভেবে দিতে হয়, নাইলে উপহার মাটিতেই পড়ে থাকে! এই জন্য আমি অনেক দাওয়াত উপহার ছাড়া খেয়েছি! এবং এতে আমি কিছু মনে করি না!

আমার চেয়ে ধনী বন্ধুদের আমি কখনোই উপহার দেই না (মিষ্টি বা ফুলকে কি উপহার বলা যায়, এই সব বাইরে রেখে চিন্তা করছি) বা দিতে চাই না! কি দেব এদের, এদের সবই আছে, কোন উপহার এদের প্রয়োজন নেই! এদিকে আমি দেখেছি, আমার ধনী বন্ধুরা উপহার চায়ও না, তাঁরা উপস্থিতি চায় মাত্র। যথা সময়ে উপস্থিত থাকা এবং আড্ডা দেয়া এদের লক্ষ থাকে! আমিও যখন কাউকে দাওয়াত দেই তখন উপহার আশাও করি না, যারা কাছের বা মাইন্ড করবে না তাদের উপহার আনতে নিষেধ করি। আমার কাছেও বন্ধু বা আত্মীয়দের উপস্থিতি কাম্য এবং আনন্দের! মানসিক ভাবে আমি নিজকে এই সবের উর্ধে উঠাতে পেরেছি বলে মনে করি!


ছবি ১, এক সৌদি প্রবাসী ভাই উপহার স্বরূপ হাত ঘড়ি পাঠিয়েছেন (অনেক অনেক ভালবাসা ভাই), হাত ঘড়ি নিতে চাইছিলাম না (বার বার ওবায়দুল কাদের সাহেবের ধরা খাবার কথা মনে পড়ছিলো!) যাই হোক, বিষয় সেটা না, বিষয়টা চেপে গেলেই পারতাম!


ছবি ২, আপনাদের জানানোর জন্য একটা তথ্য দেয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না, সৌদিতেও এখন প্রতিটা কেনা কাটায় ভ্যাট নেয়া হয় (ইনভয়েজ দেখুন)! সরকার কোথায় গিয়ে ঠেকেছে দেখেন!

ফেবু স্ট্যাটাস!


ছবি ৩, ঘড়ি আমাদের হাতে!


ছবি ৩, বিকালে বন্ধুদের আড্ডা। উপহারের চেয়ে উপস্থিতি/আড্ডাই এখন ভাল লাগে! এরা আমার স্কুলের বন্ধু, আমরা সবাই একসাথে এসএসসি পাশ করেছি, ঢাকার মতিঝিল মডেল হাই স্কুল থেকে! বহু বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর আনার অনলাইন বা ফেবু আসার পর আমরা একত্রিত হতে পেরেছিলাম বা পারি! এদের দেখলে ভাল লাগে। আমি এদের কথা শুনি বেশি, ওরা একেকটা কথা শুরু করলে আর থামতে চায় না!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s