গ্যালারি

আড্ডাঃ হোটেল ৭১, বিজয় নগর (Hotel 71, Bijoy Nogor)


আমাদের রাজধানীতে প্রচুর থাকার হোটেল আছে! এখন দিনের পর দিন আরো আরো হোটেল হচ্ছে! এটা খারাপ নয়, ভাল লক্ষন! এই সব হোটেলে থাকার সুযোগ হয় নাই বা বলা চলে থাকি নাই! মুল কারন এই শহরেই আমার বাসা আছে এবং তার উপরে বিবাহিত আমি, রাতে বাইরে থাকার সাহস নাই! যাই হোক, তবুও কার না ইচ্ছা হয়, এই সব হোটেলের ভিতর কেমন বা কি কি আছে? কারা থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি, কি কি খাবার রান্না হয়! আমি সব জানতে চাই!

একবারের পুরানো গল্প মনে পড়ছে, আমার এক বন্ধু বাসা থেকে রাগ করে পালিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমার সহযোগিতায় রুম ভাড়া নিয়েছিল! সে সন্ধ্যায় বাসা থেকে পালিয়েছিল এবং আমার অফিসে এসে কান্না জুড়ে দেয়! আমি তাকে সান্তনা দিয়ে অনেক চেষ্টা করি, সে কিছুতেই বাসায় ফিরে যাবে না! এদিকে আমার নাইট ডিউটি, ফলে অনেকক্ষণ সময় দিলাম, পরে সে বলল ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য! সেই মোতাবেক ব্যবস্থা হয়ে গেল, সেও হোটেলে রাত কাটাবে বলে চলে গেল! আমার সাথে শেষ কথা হল, গাড়ি হোটেলের বেইসমেটে রাখবে এবং সকালে আমি সে নাস্তা একসাথে খাব, পরে সে অন্য কোন শহরের দিকে রাওয়ানা হয়ে যাবে, এই ঢাকা শহরে আর থাকবে না! তার পরিকল্পনা আমারো ভাল লেগেছিল, আমি এখনো চাই পালিয়ে যেতে, পারি না!

যাই হোক, সারা রাত তার পরিবার অনেক খোজাখুজি করলো, থানায় জিডি করলো। আমাকেও জিজ্ঞেস করলো, আমার প্রতি তার নিষেধ থাকায় কিছু বলি নাই! এদিকে ভোর সকালে তার গাড়ি হোটেলের বেইসমেটে ধরা খায় এবং তার পরিবার নিশ্চিত হয় সে সেই হোটেলে রাত থেকেছে, কাউন্টারে যোগাযোগ করে কি করে বের করে ফেলে! এই সব পরে জেনেছিলাম! আমি নাইট ডিউটি শেষে হোটেলে যাই এবং মনে মনে ভাবতে থাকি, সারা হোটেল দেখবো, দুইজনে নাস্তা খাব ইত্যাদি ইত্যাদি! আমি রিশিপশন থেকে রুমে ফোন করতে যারা কন্ঠ শুনলাম, তা ভিন্ন মনে হল এবং তার শ্যালক হিসাবে এই কন্ঠ আমি চিন্তে পারলাম, কারন এর সাথে আমি আগেও টেলিফোনে কথা বলেছি! আই মিন হাতে নাতে আমরা দুইজনেই কট খেলাম!

আমাদের পরিকল্পনা ভেস্তে গেল, তাকে বাসায় নিয়ে গেল! আমিও বাসায় ফিরে গেলাম! পাঁচ বা সাত তাঁরা হোটেলে আর নাস্তা হল না বা ফেরত গেলাম বাসায়, কিছু না দেখেই! এই তো, এখনো এই ঘটনা মনে হলে, দুই বন্ধু মিলে হাসি! কি আমাদের পরিকল্পনা ছিলো!

যাই হোক, দুনিয়ার নানান দেশের হোটেলে থাকা বা খাওয়ার সু্যোগ হয়েছে, শুধু দেশেই পারছি না! হা হা হা…

কয়েকদিন আগে এমনই এক বন্ধু মেরিকা থেকে এলো এবং তার আর এক বন্ধু সাথে হোটেল একাত্তরে উঠল! আমাকে বলতেই আমি সন্ধ্যা রাতে হাজির হলাম! আমি রাত একটায় বাসায় ফিরে গিয়েছিলাম সেদিন! বন্ধু ইচ্ছায় এই হোটেল পুরো ঘুরে দেখেছি, খেয়েছি! এই হোটেলে একটা বার (লাইভ গানের ব্যবস্থা সহ) আছে, সেটাও দেখেছি! হোটেলের বুফে ও আলাদা একটা রেস্টুরেন্ট আছে! এটা মাঝারি মানের একটা হোটেল! ঢাকার বিজয় নগর, কাকরাইল এই সব এলাকায় এমন মানের আরো বেশ কয়েকটা হোটেল আছে!

এই হোটেলের নামের চমকের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্য আলাদা একটা পরিচিতি হয়ে গেছে! চলুন, কিছু ছবি দেখি, তবে স্বীকার করে নেই, সব ছবি তুলি নাই কারন আমাদের সাথে আরো কিছু সেই দিনের পরিচিত বন্ধু ছিল, তাঁরা আবার কি মনে করে বা ইত্যাদি ইত্যাদি!


ছবি ১, রুমের বসার জায়গা, আরামসে আড্ডা দেয়া যায়!


ছবি ২, প্রধান বেড!


ছবি ৩, টিভির পাশে আলাদা একটা সিঙ্গেল বেড!


ছবি ৪, এটা মনে হয় লেখক ভাইদের জন্য একটা সিঙ্গেল টেবিল, যারা হোটেলে বসে লিখতে পছন্দ করেন! হোটেলে রুম নিয়ে লেখার বেশ কিছু ঘটনা আমি জানি, তবে এখন আর সেই লেখকেরা নেই, তেমন কথাও শুনি না! আগে শুনতাম লেখকেরা এই রকম হোটেলে রুম ভাড়া নিতেন এবং টানা লিখে শেষ করতেন! বিশেষ করে সিনেমার কাহিনী বা যে কোন গল্প উপন্যাস ইত্যাদি! আমাদের দেশেও এমন লেখক ছিলেন, যারা কক্সবাজার বা এমনই স্থানে যেয়ে হোটেলে উঠে লিখতেন! আজ তেমন আর নেই!


ছবি ৫, আমার মেরিকান বন্ধু!


ছবি ৪, আয়না!


ছবি ৬, একটা ছোট খাট ফ্রীজ!


ছবি ৭, এখানে বসেই আড্ডা জমে উঠেছিল!


ছবি ৮, হোটেল একাত্তর!


ছবি ৯, বন্ধুরা!

আরো ব্যাপক লেখার দরকার ছিলো, সময়াভাবে উঠে যেতে হচ্ছে! সবাইকে ধন্যবাদ। আনন্দে থাকুন সবাই! আবারো শুভেচ্ছা।

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s