গ্যালারি

আমাদের গ্রামের বাড়ী বানানোর স্মৃতি কথা! (শুরু থেকে শেষ ধারাবাহিক ছবি ২০০৯তে তোলা)


যতদুর মনে পড়ে, ২০০৮ সালের দিকে একদিন আম্মা আমাকে বললেন, “এই ঢাকা শহর আর ভাল লাগছে না! তোরা সবাই বড় হয়েছিস, বিয়ে করেছিস, তোদের মত করে তোরা থাকিস, তোদের ছেলে মেয়ে আছে, তোরা তোদের মত করে থাক। আমি কারো কাছেই থাকতে চাই না, যদি পারিস আমাকে গ্রামের বাড়িতে একটা ঘর তুলে দে”! বলে রাখা ভাল, আমরা তিন ভাই এক বোন, বোন ইটালীতে স্বামীর কাছে থাকে। আমরা তিন ভাইএর দুই ভাই আমি ও ছোট ঢাকা এবং বড় ভাই চট্রগ্রামে থাকেন। বাবা চাচারা ১০ ভাই বোন, কয়েক চাচা ও তাদের পরিবার গ্রামে থাকেন। বাড়ী ভাগাভাগি হয়েছে, কিন্তু আমাদের ভিটে শূন্য, ঘর নেই! বাবা মারা গিয়েছেন কয়েক বছর আগে, আম্মা ঘুরে ফিরে ভাইদের কাছে থাকেন তবে ছোট ভাইয়ের কাছেই স্বাচ্ছন্দ পেতেন! আমি তখন আলাদা ছোট দুই রুম নিয়ে থাকি!

সেদিন রাতে আমি মুলত আর ঘুমাই নাই, আমি সারা রাত কেঁদেছি আর ভেবেছি! একটা মানুষ বয়স হয়ে গেলে কত একা হয়ে যায়, সব কিছু থেকেও কিছুতেই যেন নাই, এমন একটা অবস্থায় এসে যায় (এখন আমি নিজেই বুঝি)! পাশে প্রিয়তমা স্ত্রী ও আমার বড় ছেলে (তখন আমার এক ছেলে, বয়স ৬ বছরের) কেহ কিছু বুঝে নাই! এবং শেষ রাতের দিকে মসজিদের আযান কানে বাজছে, তখনোও আমি ভেবে চলেছি! আমার হাতে কিছু টাকা আছে এবং সেটাই মুলত আমার জমানো টাকা ছিল। ঢাকাতেও আমি নিজে তেমন কিছু করি নাই, জমি বা ফ্লাট কিছুই নেই (তবে এতদুর মনে আছে জায়গা ভেদে ১২-১৫ লাখেই হাজার বারশত স্কয়ার ফিটের ফ্লাট পাওয়া যেত), বেসরকারী চাকুরী টাকা হাতে না থাকলে হঠাত চাকুরী গেলে চলবো কি করে ইত্যাদি ইত্যাদি!

মাথায় যত ভাবনাই আসছিলো, সব মায়ের মুখের কাছে উড়ে যাচ্ছিলো, দুনিয়ার সব কিছুই তুচ্ছ মনে হচ্ছিলো! এমতাবস্তায় আমি একাই সিদান্ত নিয়েই ফেললাম, হ্যাঁ মায়ের জন্য গ্রামে বাড়ী বানিয়ে দিতেই হবে, আমার সাথে কেহ থাকুক আর না থাকুক, আমার সব টাকা গেলে যাক। তিনি অন্তত নিজের মত করে নিজে আনন্দে বাঁচতে পারবেন, গ্রামে তার অনেক সঙ্গী সাথী মিলবে, চাচা চাচীমাদের সাথে উনার সময় ভাল কাটবে। তিনি নিজেই নিজের দেখা শুনা করতে পারবেন, কাজের লোক থাকবে! প্রয়োজনে তিনি যে কোন স্থানে বেড়াতে যেতে পারবেন, আবার ফিরে যাবেন নিজের ঘরে, মানে বুঝতে পারছিলাম তিনি নিজেই আবার একটা কেন্দ্রবিন্দু হতে পারবেন! আমরাও সবাই তাকে কেন্দ্র করে আবার বাঁচতে পারবো! ব্যস, পরদিন ঘুম থেকে উঠে অফিস এবং বিকেলেই ছুটি নিয়ে বাড়ী চলে গেলাম!

চাচাদের সাথে কথা বলে নিলাম, জায়গা চিনহিত করে নিলাম! ভাইদের জানালাম, বললাম, কেহ যদি দাও দিবে, না দিলে নাই! আমি একাই মায়ের জন্য বাড়ী বানাবো! ভাইয়েরা তখন নিজেরাও খুব স্বচ্ছল ছিল না, দিনে আনে দিনে খায় অবস্থা, তবুও ওরা নিজেরা সায় দিলো এবং যা পারে দিবে বলল! আমি আর দেরী করলাম না! ঢাকায় ফিরে এসে মাকে বললাম, আমি বাড়ী বানানোর সিধান্ত নিয়েছি! তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে জড়িয়ে দোয়া করলেন, আমি কেঁদেছিলাম আবারো! (এই লেখা লিখতেও আমি কাঁদছি!)

ব্যস, সেই সপ্তাহেই গ্রামে আমার এক চাচার (তিনি চাচাদের মধ্যে ৬ষ্ট) একাউন্টে টাকা ট্র্যন্সফার করলাম, ইট কিনতে বললাম! এদিকে আমি এক্সেল শিটে নকশা করতে বসে পড়লাম, অফিস শেষের পরে! কয়টা রুম হলে ভাল, সবাই গেলে কোথায় বসতে পারবে ইত্যাদি সাধারণ চিন্তা নিয়ে এক্সেল সিটেই ড্রাফট ফাইন্যাল এবং প্রিন্ট নিয়ে নিলাম! পরের শুক্রবারেই মাটিতে কোপ পড়লো, গর্ত হল! এর পর টানা ৮/১০ মাস প্রতি বৃহস্প্রতিবার রাতে বাড়ী শনিবার সকালে ঢাকায় ফেরা, সরাসরি অফিস! বাড়ী ফাইন্যাল হয়ে গেল, সবাই আনন্দিত। আম্মা পুরো এই কয়েক মাস বাড়ীতেই ছিলেন এবং নিজেই দেখাশূনা করেছেন, এবং বেশ খুশি মনেই সময় কাটিয়েছেন!

একদিন বাড়ী থাকার পুরাই উপযুক্ত হল, আমরা ভাইরা সবাই স্ত্রী সন্তানদের নিজে বাড়ীতে গেলাম, সবার সেকি আনন্দ! সেই আনন্দের দিন ভুলে যাবার নয়! তবে যতদুর মনে পড়ে, এর মাস ছয়েক পরে আম্মা তার মেয়ের কাছে ইটালীতে চলে যান এবং সেই বাড়িতে তালা পড়ে, আমি ও ভাইরা কদাচিৎ যাই দেখে আসি, একজন চাচীমা মাঝে খুলে কাজের লোক দিয়ে পরিস্কার করেন! এভাবেই! তবে বছর দুয়েক পরে আম্মা আবার ফিরে আসেন এবং সেই বাড়ীতে আবারো থাকতে শুরু করেন! (ক্রমশ)


ছবি ১


ছবি ২


ছবি ৩


ছবি ৪, আম্মা ও একজন চাচীমা।


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮, আম্মার তদারকি চলছেই।


ছবি ৯


ছবি ১০, সেই সময়ে আমি!


ছবি ১১


ছবি ১২


ছবি ১৩


ছবি ১৪


ছবি ১৫


ছবি ১৬


ছবি ১৭


ছবি ১৮, রান্নাঘর এবং ডাইনিং রুমের যোগাযোগ! এটা নিয়ে অনেকের কাছে কত কথা শুনেছি, কেহ কেহ বলেছে এটা হোটেল নাকি ইত্যাদি!


ছবি ১৯, আম্মা এবং ছোট চাচীমা


ছবি ২০, মায়ের মুখের হাসি


ছবি ২১


ছবি ২২


ছবি ২৩, ছাদ!


ছবি ২৪, ভেতরের কাজ


ছবি ২৫, বাইরের প্লাষ্টার!


ছবি ২৬


ছবি ২৭


ছবি ২৮, আমার লাগানো পাতা বাহার! (এখন অনেক বড় হয়েছে)


ছবি ২৯, বৃষ্টিতেও কাজ বন্ধ হয় নাই!


ছবি ৩০


ছবি ৩১


ছবি ৩২


ছবি ৩৩


ছবি ৩৪, আমি  ও ছোট ভাই।


ছবি ৩৫


ছবি ৩৬, শীতের দিনে এভাবে ছেলেকে খাওয়াত আমার প্রিয়তমা স্ত্রী!


ছবি ৩৭


ছবি ৩৮


ছবি ৩৯, এই সেই ফাঁকা জায়গা, কানেক্টেড উইথ কিচেন এবং ড্রয়িং ডাইনিং!


ছবি ৪০


ছবি ৪১


ছবি ৪২, তখনো ব্লগিং করতাম!


ছবি ৪৩


ছবি ৪৪


ছবি ৪৫, কোন এক বিকেলে!


ছবি ৪৬, পেছনটা! এখন অনেক গাছ গাছালি!


ছবি ৪৭, পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমাদের ছবি, শুধু বাবা নেই! এই আফসোস এই জীবনে যাবে না! তিনি আমাদের সুখ দেখে যেতে পারলেন না!

সবাইকে ধন্যবাদ! মায়ের দোয়ায় এখন ভাল আছি! আপনাদের ভালবাসা কাম্য!

5 responses to “আমাদের গ্রামের বাড়ী বানানোর স্মৃতি কথা! (শুরু থেকে শেষ ধারাবাহিক ছবি ২০০৯তে তোলা)

  1. ভাই খাদ্য রসিক না আপনার ছবি দেখার টানে আসলাম। যদিও আপনার একটা খিচুড়ির সহজ রেসেপি দিয়ে আমি কয়েকবার খিচুড়ি খেয়েছি। তাই আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। ভাল থাকেন আপনার অন্তরে জীবনেে শান্তি থাকুকএই কামনা…. মানহুস

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s