গ্যালারি

কিছু গল্প ও নানান পদের ভর্তার ছবি, ছবি গুলো ২০০৯ সালের তোলা! (ছবি ব্লগ)


দেখতে দেখতে কত দিন পার হয়ে গেল, কত সাগরের ঢেউ গোনা হল! রেসিপি লেখার প্রায় ১১ বছর পার হতে চলল, কত স্মৃতি কত কথা মনে জমা হয়ে আছে! যখন এমন রেসিপি লেখা শুরু করেছিলাম, তখন ইউটিউবের তেমন জনপ্রিয় ছিল না, কত মানুষ কত স্থান থেকে রেসিপি দেখতে আসত! প্রথমে যখন নানান বাংলা ব্লগে লিখতে শুরু করেছিলাম, অনেকে সেটা মানতে পারত না, বিশেষ করে অনলাইনে এক শ্রেণীর আঁতেল ছিল, তাঁরা রিরি করে উঠত! ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এখন আর তাদের দেখা যায় না এবং তাদের সেই বাংলা ব্লগ গুলো এখন আর অনলাইনেও নেই বা বন্ধ হয়ে গেছে বা মরে মরে বেঁচে আছে! খুব দুঃখ নিয়েই ওয়ার্ডপ্রেস এবং ফেবুর হেল্পে নিজেই এই ‘গল্প ও রান্না’ চালিয়ে যাচ্ছিলাম এবং আমি আজও আছি, ভালমতোই আছি!

তা ছাড়া আমাদের রান্নার বা ঘরের খাবারের ছবি অনলাইনে ব্লগ বা ফেবুতে দিলেই আর এক শ্রেনী ছিল যারা কাই কাই করে উঠত! আলু ভর্তা কিংবা ছোট মাছের কোন ছবি দিলে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিত এবং বলত, আর ছবি পেলেন না! লাইক কমেন্ট তো আসতই না! ব্লগে ডাউন সাইন চাপতে দেরী হত না! আর এখন তো দেখি, খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে নিজেই ছবি দিচ্ছে! ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে! অন্যদিকে ছেলে রান্না করছি, এটাও অনেকে সহ্য করতে পারত না! অনেক কথা শুনেছি, এখন আর সেই বাদর গুলো নেই! অনেকে গর্তে প্রবেশ করে ফেলেছে!

যাই হোক, বলে আর কি লাভ! আমরা মানুষ এমনই! আমি শুরু করেছিলাম একটা স্লোগান নিয়ে, “গল্প ও রান্না, বাংলাদেশের সাধারণ পরিবারের ঘরের খাবার রান্নার রেসিপি সমারোহ/ রান্নায় নুতন আগ্রহী, প্রবাসী, ব্যাচেলরদের জন্য হাতেখড়ি কিংবা ব্যবস্থাপত্র” বলেই! সারা দুনিয়ার কোনা কোনা থেকে মানুষের আগমন এই ব্লগে এখনো জারি আছে, এটাই আনন্দ! মাঝে আমি অনেক দিন এক্টিভ থাকতে পারি নাই, সরকার প্রায় ১০/১২ মাস সাইট বাংলাদেশে বন্ধ করে রাখার পরেও মানুষের ভালবাসা আমাকে আনন্দ দিয়েছে! আমি বলতে পারি, আপনাদের ভালবাসায় আমি ধন্য! বর্তমানে গুগলে যে কোন বাংলা খাবারের নাম লিখে চার্চ দিলে আমার রেসিপি বা ছবি পাবেন, এটা কম সাফল্য নয়! তবে আমি অগে থেকেই বলে আসছি, আমি আছি নুতন রান্নাকারীদের সাথে, আমি আছি যারা আজ থেকে বা এই সময় থেকে রান্না শিখতে বা করতে চান তাদের সাথেই! আমার ধারাবাহিক ছবি গুলো দেখে আমি নিশ্চিত আপনি রান্না করতেই পারেন।

যাই হোক, অনেক গল্প জমে আছে,আজ কাল তেমন গল্প করতে পারছি না আপনাদের সাথে! সংক্ষেপে সামান্য গল্প করি! যখন শুরু করি তখন আমার কাছে কোন ক্যামেরা ছিল না! মোবাইলে (তাও মান হীন বলেই মনে হত, আমার কাছে একটা এলজি ফোন ছিল বা এর আগের ফিলিপস কোন একটা সেট ছিল, তেমন মনে নাই) ছবি তুলে পোষ্ট করতাম! এর পর আমার ছোট বোন আমাকে একটা লুমেক্স ক্যামেরা দিয়েছিল, সেটা দিয়েই মুল ছবি তোলা শুরু করেছিলাম! কিন্তু বাংলা ব্লগ গুলোতে সেই ছবি দেয়া কঠিন ব্যাপার ছিল, অনেক জায়গা নষ্ট করত, নেট স্লো, পাশাপাশি ব্লগ গুলো ছবি মেনে নিতে পারত না, আপলোড কঠিন কাজ ছিল! ঠিক এমনই সময়ে ইয়াহু ফ্লিকার এসে পড়ে, এরা তখন ছবি জমা রাখার জন্য বিখ্যাত ছিল। দুনিয়ার সব ফটোগ্রাফার ফ্লিকারে একাউন্ট করে ছবি রাখত এবং হাই কোয়ালিটর ছবি লিঙ্ক ধরে নানান স্থানে তা বিক্রী বা প্রেরন করা হত (মাঝে অনেক কথা বলে শেষ করা যাবে না)! মুলত এর পরেই এমন ছবি রাখার স্থানের অনেক অনেক কোম্পানী এসে গেল, গুগল নিজেও এসে পড়লো, সম্ভবত ‘পিকাসো’ ছিল গুগলের ছবি রাখার জায়গা! আমিও রেসিপি লিখতে একেক স্থানে একেক সময়ে ছবি রাখা শুরু করি! এমন কোন স্থান নেই যে আমি ছবি রাখি নাই! মানে যেখানে সামান্য ফ্রী স্থান পেতাম সেখানেই ছবি রাখতাম! এবং এই ছবি গুলোর লিঙ্ক পরে লেখায় ব্যবহার করতাম।

আমি যদি এখন পর্যন্ত শুরু রেসিপি লিখি ১১শত এবং ১৫টা করে ছবি হলেও (এর বেশী সব সময়েই, গড়ে বললাম), আমার ছবির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ হাজারের বেশী! তা হলে বুঝে নিন, আমি কি করে এই ছবি গুলো ম্যানেজ করলাম! তা ছাড়া আমি রেসিপি ছাড়াও যে সব বিষয়ে ব্লগ লিখতাম তাতেই দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য ছবি যোগ করতাম! অবস্থা ভেবে দেখুন! তবে সব চেয়ে বেশী ছবি রেখেছিলাম, ‘ফটো বাকেটে’ ‘PhotoBucket’ (এদের ছবি আপলোড এবং লিঙ্ক বিতরন সহজ ছিলো, সাথে ফ্রি জায়গা ছিল অনেক)! এই কোম্পানী ছিল কয়েকজন তরুণের প্রচেষ্টা, কিন্তু পরে এই কোম্পানী সম্ভবত একটা জাপানী সফটওয়ার কোম্পানী কিনে নেয় এবং তাঁরা তাদের ব্যবসাহিক দিক দেখতে গিয়ে, ছবি গুলোতে বা ফ্রি একাউন্ট গুলোতে একটা ব্যান্ডউইথ লিমিট লাগিয়ে দেয়! ফলে সামান্য দিনেই এত ছবির ভিজিউলাইজেশনে সেই ব্যান্ডউইথ শেষ হয়ে পড়ত! নিচে একটা নমুনা দিচ্ছি! এদিকে এত ছবি সরিয়ে নেয়াও আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, কিছু অবশ্য গুগলে ট্যান্সফার করেছি, অনেক পারি নাই! এখন অনেক রেসিপির ছবি সেখানেই পড়ে আছে, আপনারা এই ছবি গুলো এখন জাপ্সা এবং তাদের সীল মোহরে দেখে থাকেন! আমি যদি টাকা দেই তবে তাঁরা এগুলো উন্মুক্ত করে দিবে, যা আমার পক্ষে সম্ভব নয়!


এই ছবি গুলোর জন্য আমি নিজেই দুঃখিত! তবে সময় পেলে সরিয়ে অন্য কোথায় রাখবো বা পেমেন্ট করে ঠিক করে দেব! ব্যাপার না! তবে যখন তাদের এই বিজনেস পলিসি বুঝতে পারি এর পর আর তাদের কাছে কোন ছবি রাখি নাই! এখন ওয়ার্ডপ্রেস নিজেই ১৫জিবি ফ্রী দিচ্ছে, অনেক জায়গা। তবে ছবি রিসাইজ এবং মান কিছুটা কমে যাচ্ছে! এদিকে আমার হাতে আর ক্যামেরা নেই, চলে আসছে ভাল মোবাইল, সামসাং নোট সিরিজ! এখন ছবি আরো ঝকঝকে এবং কম স্পেস দখল করছে! (বিট, বাইট, মেগা, গেগা হিসাব নিয়ে আর একদিন বসবো!)

যাই হোক, আজ কি মনে করে ইয়াহুর ফ্লিকারে প্রবেশ করছিলাম, সেখানে আমার ২১০টা ছবি (এরা ২০০টা ছবি ফ্রী রাখতে দিত, সেই ছোট বোনের দেয়া ক্যামেরার ও মোবাইলের) জমা আছে দেখলাম! ছবি গুলোর থেকে কয়েকটা ভর্তার আইটেম এবং আঁচারের ছবি আপনাদের সামনে হাজির করলাম! আমার মনে বার বার মনে হয়েছে, যখন টাকা কড়ি কম ছিলো, তখন মুলত ভাল খাবার খেয়েছি! খেতে বসে প্রথমে ভর্তা দিয়ে শুরু করতাম, আহ সেই দিন গুলো! এখন অনেক বড় হয়েছি, দুনিয়ার অনেক কিছুই দেখা শেষ তবে সেই খাবার আর খেতে পারছি না! এই তো বুঝি মানুষের জীবন!

চলুন, ছবি দেখি!

ছবি ১, টমেটো ভর্তা ও মাচ ভর্তা!


ছবি ২, বেগুণ ভর্তা।


ছবি ৩, আলু ভর্তা (আলু ভর্তা মলা আমার দায়িত্ব ছিলো)!


ছবি ৪, আলু ভর্তা, কিছু তুলে নেবার পর মনে হল, ছবি তুলি!


ছবি ৫, পেঁয়াজ মরিচ এবং ভিনেগার বা লেবুর রস। তেহারী বিরিয়ানী রান্না হলে, এমন লাগতোই!


ছবি ৬, কাঁচা মরিচ ভর্তা, ফেবারেট।


ছবি ৭, আঁচারের তেলে আলু ভর্তা!


ছবি ৮,  মরিচ ভর্তা, চিংড়ি মাছ টেলে!


ছবি ৯, রুই মাছ ভর্তা!


ছবি ১০, শুকনা মরিচ ভর্তা, পেঁয়াজ তেলে!


ছবি ১২, দুই পদের বেগুণ ভর্তা, যতদুর মনে পড়ে এক্টায় ডিম দিয়ে,  অন্যটায় বেগুণ পুড়িয়ে!


ছবি ১৩, শোল মাছ ভর্তা!


ছবি ১৪, থানকুনি পাতা  পেঁয়াজ কাঁচা মরিচ ভর্তা।


ছবি ১৫, জল্পাই  আঁচার


ছবি ১৬, জল্পাই এবং আমের আঁচার।


ছবি ১৭, আম ভর্তা, বাসায় হয়ত কোন ছুটির দিনে!


ছবি ১৮, সেই সব দিন গুলো! অভাবেও হাসি মুখে থাকা যেত! অথচ এখন আর সেই আর স্বভাব নেই! সবাই ব্যস্ত, আমিও ছুটে চলছি টাকার পিছনে, বার বার মন হয় টাকা থাকলেই বুঝি কিছু ভালবাসা বেশী পাব, কয়েকটা দিন বেশী বাঁচবো!

সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই।

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s