গ্যালারি

রেসিপিঃ লাল শাক ভাজি (বিগেইনার্স ওনলি)


লাল শাক ভাজি, খুব সহজ এবং সাধারন রান্না। সামান্য এমন একটা রান্না করেই গরম ভাত নিয়ে বসে যেতে পারেন। লাল শাকের উপকার নিয়ে নেটে দেখছিলাম। অমৃতবাজার পত্রিকার মিঃ মাহফুজ সাহেবের এই লেখাটা আপনাদের জন্য তুলে দিচ্ছি। লালশাক এর পর আপনাদের প্রিয় হয়ে উঠবেই!

লাল শাকের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা (প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার)
আমাদের দেহের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য লাল শাকের গুরুত্ব অনেক বেশি। লাল শাক রূপে যেমন মনোহারী গুণেও তেমন কার্যকরী। গবেষণায় দেখা গেছে লাল শাকের শরীরে এমন কিছু উপকারি উপাদান রয়েছে, যা ৩০ বছর বয়স এর পর থেকে শরীরের ভাঙন আটকানোর পাশাপাশি একাধিক রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। পাতের ভাতকে নতুন রূপ দিতেও সেরা। ছোট বড় সবাই এর স্বাদের ভক্ত। প্রতিদিন যদি এই শাকটি খাওয়া যায়, তাহলে আয়ু তো বাড়েই, সেই সঙ্গে সুস্থ জীবনের পথ অনেকাংশেই প্রশস্ত হয়।

তাই আজ জেনে নেয়া যাক লাল শাকের পুষ্টিগুণঃ
প্রতি ১০০ গ্রাম লাল শাকে আছে ক্যালসিয়াম ৩৭৪ মি. গ্রা., শর্করা ৪.৯৬ মি. গ্রা., প্রোটিন ৫.৩৪ মি. গ্রা., স্নেহ ০.১৪ মি. গ্রা., ভিটামিন বি১ ০.১০ মি. গ্রা., ভিটামিন বি২ ০.১৩ মি. গ্রা., ভিটামিন সি ৪২.৯০ মি. গ্রা., ক্যারোটিন ১১.৯৪ মি. গ্রা., অন্যান্য খনিজ ১.০৬ মি. গ্রা., খাদ্য শক্তি ৪৩ কিলোক্যালরি।

১. কোলেস্টরল স্বাভাবিক রাখতে:
লাল শাক রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
২. ক্যান্সার প্রতিরোধে:
লাল শাকের এন্টি অক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
৩. মস্তিষ্ক ভাল রাখে:
মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করতে লাল শাকের ভূমিকা অনেক।
৪. কিডনি সমস্যা দূর করতে:
কিডনি ফাংশনগুলো ভালো রাখতে ও কিডনি পরিষ্কার রাখতে লাল শাক খুব ভালো।
৫. ভালো দৃষ্টি শক্তি:
লাল শাকে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধির জন্য খুব উপকারী।
৬. রক্তশূন্যতা রোধ করে:
দেহের রক্তশূন্যতা রোধ করতে লাল শাক খুব উপকারী কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে।
৭. ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে:
বিশেষ করে দাঁতের সুস্থতা, হাঁড় গঠন, গর্ভবতী এবং প্রসূতি মায়েদের দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে এই শাক উপকারী।

যাই হোক, উপরের লেখা গুলো পড়ে নিশ্চয় আপনারা বুঝতে পারছেন! লাল শাক রান্না এবং ভাজি দুই ভাবেই খাবারের পাতে আনা যায়, সাথে ছোট মাছ বা শোল/টাকি এমন ধরনের মাছের ছোট টুকরা বা চিংড়ি দিয়েও রান্না করা যায়। এমন রান্না আগেই আপনাদের দেখেয়েছি। আজ সেই পুরানো ভাজি, মনে হল আপনাদের আবার দেখিয়ে দেই। যারা নুতন রান্না করছেন, তাদের জন্য এমন রান্না এক্সপেরিমেন্ট হয়ে থাকবে! চলুন দেখে ফেলি।

প্রনালী ও বর্ননাঃ
ছবি ১, তেল গরম করে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, কাঁচা মরিচ কুঁচি ও সামান্য লবণ দিয়ে ভাঁজুন, পেঁয়াজের রঙ হলদে হয়ে যাবে।

ছবি ২, এবার কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে কুঁচিয়ে রাখা শাক দিন।  ভাল করে খুন্তি দিয়ে মিশিয়ে নিন।

ছবি ৩, সামান্য কিছু সময়ের জন্য ঢাকনা দিন, আগুন মাঝারি আঁচে রাখুন।

ছবি ৪, অবস্থা এমনি হয়ে যাবে।  শাক নরম হবে, পানি বের হবে।

ছবি ৫, আগুন বাড়িয়ে নাড়িয়ে ভাঁজুন।  শাক নরম হয়ে গেলে ফাইন্যাল লবণ দেখুন।

ছবি ৬, এই তো হয়ে গেল, সর্ব মোট মিনিট ১৫/২০! গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।

ছবি ৭, শুক্রবার হলে এমনি আরো কিছু আইটেম নিয়ে বস্তে পারেন।  খাবারের চেয়ে আরো কোন ভালবাসা হয় না! আপনি যদি কাউকে ভালবাসেন তবে তাকে নিশ্চয় ভাল খাবার পরিবেশন করবেন।  রান্না করে কাউকে খাওয়ানোর চেয়ে বেশি আনন্দ আর এই দুনিয়াতে নেই!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s