গ্যালারি

রেসিপিঃ দমে মাটন গ্রেভী, আফগান ভিলেজ স্টাইল ফলোড (এক্সকুসিভ)


বাংলাদেশে পুরুষেরা ঘরে রান্না করে না বা করতে চান না, পুরুষেরা রান্না পারে না তা নয়, যত সামান্য পুরুষ সেই চেষ্টা করে তারাও মা, বোন, স্ত্রীর পীড়ায় সেই রান্নাঘরে প্রবেশ করতেও চান না! বাংলার নারীরা রান্নাঘরে একাই স্বাধীনতা চান, সেখানে কোন পুরুষ প্রবেশ করুক তা ভাবতেও পারেন না, সহ্য তো দুরের কথা! অথচ নিজের স্বার্থেই সকল নারীর রান্নাঘর উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত ছিলো! একজন মা তার মেয়েকে রান্না শিখান বা বলেন কিন্তু ছেলেকে কখনো বলেনও না, যে রান্না শিখে নে! অন্যদিকে বিবাহিত পুরুষেরা রান্নাঘরে প্রবেশ করলে একটু ফ্রী স্পেস দেয়া, কটু কথা বলা থেকে বিরত থাকা, নানান সামগ্রী একটু যোগাড় রাখা, স্বাদের ব্যাপারে একটু উদার থাকা, উৎসাহ দেয়া, নিজে একটু দূরে থেকে তা খেয়াল রাখা ইত্যাদি ইত্যাদির দরকার! জানি আপনারা হয়ত আমার সাথে একমত হবেন না, তবে আমি আমার প্রায় ১২/১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, পুরুষের জন্য সত্যই এই সব মোকাবেলা করে রান্নাঘরে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া/করা দুঃসাধ্য কাজ! অর্থ উপার্জনের মত বিশ্রী কাজ করে তিনি ঘরেও নিশ্চয় এমন পরিস্থিতি চাইবেন না!😁

যাই হোক, কথা বললে অনেক কথা বলা চলে। এত কথা বলেই কি লাভ হবে! দুই দিনের দুনিয়া, সহ্য করে যাওয়াই ভাল, সামান্য ছোটখাট প্রতিভা থাকলে সেটা লুকিয়ে রাখা ভাল! যা বলছিলাম, গত কয়েকদিন আগে আফগানিস্থানের রান্নার ভিডিও ব্লগ দেখে একটা রান্নায় যেয়ে মন আটকে গিয়েছিল! খুব একটা কঠিন রান্না নয়, আফগানিস্থানের কোন এক গ্রামে ক্ষেতের কোনায় কয়েকজন মিলে এমন রান্না করছিলো যা তারা পরে রুটি দিয়ে খেয়েছিল। ভাবলাম, আজ ছুটির দিন, রান্না করেই ফেলি! তবে ওদের মত পুরা কৌশল নিলেও মশলা পাতিতে আমি আমাদের মত করে সাজিয়ে নিয়েছি, কারন ওদের মত করে রান্না করলে আমি খেতে পারলেও হয়ত পরিবারের অন্যরা খেতে পারবে না বা খেতে বসে হয়ত বলবে রান্না ভাল হয় নাই, ফলে চিন্তা করেছি সবাই মিলে খাব এবং সবাই আনন্দ পেলে তবেই না রান্না সার্থক! চলুন দেখে ফেলি!

উপকরণ ও পরিমানঃ
– মাটন বা খাসির গোশত, ১ কেজি
– আলু, ৩/৪ টা
– টমেটো, ৪/৫টা মাঝারি
– ক্যাপ্সিকাম, ৩/৪টা মাঝারি
– পেঁয়াজ, ৪/৫টা আস্ত, ২/৩টা কুঁচি
– কাঁচা মরিচ, আস্ত কয়েকটা
– রসুন, আস্ত ৩/৪টা (এর পরিমান বাড়িয়েও দিতে পারেন, খেতে খুব মজাদার)
– লাল মরিচ গুড়া, এক টেবিল চামচ, ঝাল বুঝে কম বেশী
– হলুদ গুড়া, এক চা চামচ
– জিরা গুড়া, ১ টেবিল চামচ
– আদা, বাটা বা কুঁচি, ২/৪ টেবিল চামচ
– টক দই, ৫/৬ টেবিল চামচ
– গরম মশলা (কয়েকটা এলাচি, কয়েক পিস দারু চিনি, কয়েকটা লবঙ্গ)
– লবন, পরিমান মত
– তেল, ৮/১০ টেবিল চামচ কম বেশী
– পানি, পরিমান মত বা এক কাপ
– গোল মরিচের গুড়া, চাইলে দিতে পারেন, স্বাদ বাড়বে
– চিনি, হাফ চা চামচ (যদি স্বাদ আরো বাড়াতে চান, না দিলে নাই)
– আটা বা ময়দার কাই, যা দিয়ে রান্নার পাত্রের সাথে সিল করে দেয়া হয়, ছবি দেখুন

প্রণালীঃ
ছবি ১, গোশত ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রান্নার পাত্রে নিন।

ছবি ২, এবার উপরে উল্লেখিত সব মশালাপাতি দিয়ে দিন, লবন দিতে ভুলবেন না!

ছবি ৩, সামান্য পেঁয়াজ কুঁচি।

ছবি ৪, ভাল করে মাখিয়ে রাখুন।

ছবি ৫, এবার আলু, ক্যাপ্সিক্যাম, টমেটো, পেঁয়াজ ও রসুন সাজিয়ে বসিয়ে দিন।

ছবি ৬, এমন দেখাবে।

ছবি ৭, এবার তেল ছিটিয়ে দিন।

ছবি ৮, হাফ কাপ পানি দিন।

ছবি ৯, এই রকম দেখাবে।

ছবি ১০, এবার পাত্রের মুখ সিল করার জন্য আটা বা ময়দার কাই দিয়ে এভাবে রাখুন।

ছবি ১১, এবার ঢাকনা লাগিয়ে দিন।

ছবি ১২, এভাবে।

ছবি ১৩, আগুন ১৫/২০ মিনিটের জন্য বাড়িয়ে দিতে পারেন।

ছবি ১৪, এর পর চুলায় একটা তাওয়া দিয়ে আগুন মাঝারি করে দিন এবং পাত্রটি বসিয়ে দিন।  এভাবে ঘন্টা খানেক থাকবে।  মাঝে মাঝে হাড়ি তুলে নাড়িয়ে দিতে ভুল্বেন না, আবার বেশি আগুন হয়ে গেলে পানি শুকিয়ে পুড়ে যেতে পারে ফলে চুলায় দিয়ে কোথায় চলে যাবেন না।

ছবি ১৫, ঢাকনা খুলে দেখুন।  একটা কাঠি দিয়ে গোশত তুলে দেখুন নরম হল কি না। যদি নরম না হয় তবে আরো কিছুক্ষন রাখুন।  ঝোল কমাতে চাইলেও আগুন বাড়িয়ে দিতে পারেন।

ছবি ১৬, পরিবেশনা।  দেখেই বলে দেয়া যাবে, স্বাদ কেমন হবে।

ছবি ১৭, রান্না শেষে এভাবে আপনি একটা ছবি তুলে রাখতে পারেন বটেই! সাথে মুখে বলতে পারেন, ফাইন্যাল প্রোডাক্ট! মাটন কুকিং, আফগান ভিলেইজ স্টাইল!😍

সবাইকে শুভেচ্ছা।  রান্না করুন, প্রিয়জনদের মুখে রান্না তুলে ভাল্বাসার কথা জানান দিন!

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

4 responses to “রেসিপিঃ দমে মাটন গ্রেভী, আফগান ভিলেজ স্টাইল ফলোড (এক্সকুসিভ)

  1. প্রণালী শুধু ছবিতে না দিয়ে ،বর্ণনা দিলে বেশি ভালো হতো !
    বুঝতো অনেক কাঁচা হাতের রাধুনীরাও ۔۔۔۔۔

    Liked by 1 person

  2. আঙ্কেল গল্প ও রান্না থেকে হঠাৎ করে Fancy Kitchen এ ডাইভার্ট হলেন কেন বুঝলাম না। আগের বাংলা হেডিংটায় একটা প্রাণবন্ত ব্যাপার ছিল 😦

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s