গ্যালারি

রেসিপিঃ চিংড়ি ভাঁজা (সাদামাটা এক রান্নার গল্প)


অনেক দিন রেসিপি লেখা হয় না, বলে চলে সময়াভাবে পারি না! ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় এই কথা এই এখনকার দুনিয়াতে চলে না! আমরা যে পরিমান সময় নিয়ে এখকার এই দুনিয়াতে আসছি, তার বেশীর ভাগ সময় আমাদের অর্থ উপার্জনের পিছনেই ব্যয় করতে হচ্ছে কারন এই দুনিয়াতে এখন অর্থই সব কিছুর হোতা! অর্থ না থাকলে কিছুই করা যায় না বা যাচ্ছে না! যাই হোক, তবুও আমার প্রিয় বিষয় রান্না! এত দিনের অভ্যাস ছাড়া মুস্কিল বলে এখনো রান্না ঘরে প্রবেশ করি। যাই হোক, সেটাও কথা না। কথা হচ্ছে আমার কয়েকজন বন্ধু বাসায় আসবে তাদের জন্য কিছু একটা নুতন আইটেম করা দরকার, এমনিতে ওরা কেহ বিরিয়ানী জাতীয় খাবার চাচ্ছে না, সবাই ভাত মাছ খেতে চাইচ্ছে! ফলে আমি নিজে উপাযাজক হয়ে একটা আইটেম বানালাম, যদিও আমার প্রিয়তমা স্ত্রী আমার এই আইটেম করা থেকে আমাকে অনেকবার বিরত রাখার চেষ্টা করেছে, আমি তার কথা কান দেই নাই!

এই বিষয়ে আপনাদের একটা গল্প বলতে চাই! আমাদের বিবাহের কয়েকদিন আগে বা পরে আমাদের মালিবাগ বাসায় আমার শ্বশুর মশাই এবং আরো কিছু আত্মীয় এসেছিলেন! আমি রান্না ভাল না জানলেও সেই সময় থেকেই রান্না নিয়ে এক্সপেরিম্যান্ট চালাতাম! ফলে আইটেম বাড়াতে আমি আম্মাকে বললাম, চলেন ডিমের কোরমা করি! ডিমের কোরমা হয়েছিল বটে, তবে পরে শুনেছিলাম, আমার শ্বশুর মশাই এটা খেয়ে নাকি তিনি আর সারা জীবনে ভুলতে পারেন নাই! জামাই এটা কি রান্না করেছে? এমন রান্না নাকি উনার বাপদাদার আমলেও হয় নাই! হা হা হা, হা হা হা, পাঠকবৃন্দ, আসলে চিনি একটু বেশি পড়েছিল! যাই হোক, এই জন্য আমার কোন মৌলিক রান্না দেখলে, এখনো প্রিয়তমা স্ত্রী আমাকে বলেন, এমন রান্না আর করো না!!

আসলে রান্না হচ্ছে আমার ভালবাসা। এই ভালবাসা নিয়ে কাজ না করলে হয় কি করে! যাই হোক, বন্ধুদের জন্য আমি চাইলে এই চিংড়ি মাছ গুলো দিয়ে খোসা ছাড়িয়ে একটা সাধারণ রান্না করতে পারতাম, আমি তা চাই নাই। আমি ভেবেছি ওরা এমন আলাদা ধরনের চিংড়ি ভাঁজা খেয়ে আমাদের রান্না অনেকদিন মনে রাখুক! রেসিপিটা দেখানোর আগেই বলে নেই, আমি আমার ভাবনাতে সফল হয়েছিলাম! ওরা খেয়ে ভালই বলেছিল!

তবে আরো বলে রাখা ভাল, এমন ধরনের চিংড়ি ভাঁজা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাতে বা উত্তর আমেরিকাতে হয়ে থাকে, আমি আমার আইডিয়া কালেক্ট করেছিলাম, মার্ক উইন্সের একটা ব্রাজিল ভ্রমনের ভিডিও দেখে! চলুন দেখে ফেলি! তবে নানান কাজে বেশি ব্যস্ততার জন্য ধাপে ধাপে ছবি তুলতে পারি নাই। আমি মুল রেসিপিটা আপনাদের তুলে দিচ্ছি মাত্র!

১। চিংড়ি গুলো ভাল করে পানিতে পরিস্কার করে নিয়েছি।
২। লবন পানিতেও ভাল করে ভিজিয়ে ধুয়ে নিয়েছি।
৩। সয়াসস ও ফিসসসে অনেকক্ষণ ভিজিয়ে রেখেছি।
৪। তার পর পানি ঝরিয়ে শুকিয়ে ফেলেছি।
৫। গরম ডুবো তেলে ভেঁজে নিয়েছি।
৬। পরিবেশনে সামান্য ধনিয়া পাতার কুঁচি দিয়েছি (এটা মুলত দেখার সৌন্দর্য্য)।

ছবি ১ঃ এভাবে পরিবেশন করা হয়েছিল।

ছবি ২ঃ পুরো টেবিল, এই সাজানো সঠিক হয় নাই, আরো সুন্দর করা যেত!

ছবি ৩ঃ আমরা আমরাই।

সবাই আনন্দে থাকুন, রান্না করুন। নিজে রান্না করে প্রিয়জনদের মুখে তুলে দিন, দুনিয়াতে এর চেয়ে আর কি আনন্দ আছে!

শুভেচ্ছা নিন।

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s