গ্যালারি

রেসিপিঃ মগজ ভূনা (খাসির)


দুনিয়াতে উপরওয়ালা আমাদের জন্য কত কি খাবার রেখেছেন, তা বলে শেষ করা যায় না! আমরা বেঁচে থাকি খাবার খেয়ে এবং আশ্চর্য এই যে, প্রায় প্রতিদিন আমরা একই খাবার খাই না! কোথা থেকে কি আমাদের ভাগ্যে জুটে যায় তা চিন্তা করলে অবাক হতে হয়! আমরা জানি না, এর পরেই আমাদের কি খেতে হবে, কিন্তু কিছু না কিছু এসেই পড়ছে এবং আমরা তা খাচ্ছি! তবে প্রত্যেক মানুষের জন্য খাবারের একটা লিমিট বা পারমিশন আছে।  মানুষ চাইলেও এর বেশি খাবার খেতে পারে না বা সম্ভব নয়! সেটাও উপরওয়ালার মেহেরবানী, বেশি খেলেও মরে, না খেলেও মানুষ মরে!

যাই হোক, কয়েকদিন আগে প্রিয়তমা স্ত্রী জানালেন, ছাগলের মাথার গোস্ত খেতে চান! কয়েকবার বাজারে গেলেও প্রায় ভুলে যাচ্ছিলাম।  অফিসে বসে হঠাত হটাত মনে পড়লে, চিন্তিত হয়ে পড়ছিলাম! স্ত্রী একটা কিছু খেতে চাইলেন আর আমি সেটা খাওয়াতে পারলাম না, এ কেমন কথা! যাই হোক, সেদিন বাজারে গিয়েই দেখি খাসির গোশতের দোকানে বেশ কয়েকটা মাথা আছে! দাম করে দুটো নিয়ে নিলাম (প্রতিটা ২০০ টাকা, টাকা না গাছের পাতা!)! কেটে কুটে নিয়ে এলেও রান্নার সময় পাচ্ছিলাম না।  গতকাল রাতে মগজ এবং গোস্ত আলাদা করে রান্না হল।  যথারীতি আমাদের বাংলাদেশী সহজ রান্না।, আমাদের হাতের কাছের মশলাপাতি দিয়েই! চলুন ছবিতে রান্না দেখি! যারা নুতন রান্না করতে চাইছেন তাদের জন্য বেশ আনন্দ দায়ক হবে বলে মনে করছি! পরের রেসিপিতে মাথায় গোস্তের রেসিপি দেখিয়ে দেব, দুই চুলায় দুটো রান্না একই সময়ে হয়েছে!

ছবি ১, রান্না শুরুর আগে ধুয়ে এভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে।

পরিমান ও উপকরনঃ
– মগজ, ২টা (এ আর এমন কি)
– পেঁয়াজ কুচি, মাঝারি দুইটা
– এলাচি, ৩/৪ টা
– দারুচিনি, ৩/৪ পিস
– লং, ৩/৪ টা
– রসুন পেষ্ট, এক টেবিল চামচ
– আদা পেস্ট, এক টেবিল চামচ
– মরিচ গুড়া, ঝাল বুঝে, হাফ চা চামচ
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচের সামান্য কম/বেশি
– জিরা গুড়া, হাফ চা চামচ
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা
– ধনিয়া পাতা কুচি, পরিমান মত
– লবন, পরিমান মত
– তেল, কয়েক টেবিল চামচ (কম তেলেই রান্না করুন, তেল শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয় কিছু না)
– পানি, পরিমান মত

  • সরিষা বাটা, এক চা চামচ (না থাকলে নাই, আমরা দিয়েছি, স্বাদ একটু বাড়াতে)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ২, তেল গরম করে তাতে সামান্য লবন দিয়ে পেঁয়াজ কুচি, রসুন বাটা, আদা বাটা দিয়ে ভাঁজুন।


ছবি ৩, সরিষা বাটাও দিতে পারেন, তবে না থাকলে নাই! ভাঁজুন।


ছবি ৪, ভাজা শেষে কিছু পানি দিন এবং এর পর মরিচ গুড়া, হলুদ গুড়া, জিরা গুড়া দিন।


ছবি ৫, ভাল করে কষিয়ে নিন। চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না! কাঁচা মরিচ এই পর্যায়ে দিয়ে দিতে পারেন।


ছবি ৬, তেল উঠে এই অবস্থায় এসে যাবে।


ছবি ৭, এবার মগজ দিয়ে দিন।


ছবি ৮, খুন্তি দিয়ে ভেঙ্গে বা কেটে দিন, তবে বেশি গলাগলা না করাই ভাল।  সামান্য কষিয়ে আরো সামান্য পানি দিন। আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে।


ছবি ৯, এবার একটা ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১০/১৫ রাখুন, চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না।


ছবি ১০, ব্যস, ফাইন্যাল লবন দেখুন।  লাগলে দিন।  ঝোল কেমন রাখবেন নিজেই ভাবুন।


ছবি ১১, ফাইন্যাল, চুলা নিবিয়ে দিন।  ধনিয়া কুচি ছিটিয়ে দিন, এটাও আপনার ইচ্ছা, না থাকলে নাই বা ইচ্ছা না হলে না দিলেও চলে।  তবে দিলে মন্দ নয়, স্বাদ ও ঘ্রান বাড়ে।


ছবি ১২, পরিবেশনের জন্য বাটিতে তুলে নিন।  কম তেলে রান্না কিছুটা স্বাদ কম হয় তবে শরীরের জন্য কম তেলেই রান্না করা উচিত! (তেল বেশি দিলে রান্না আরো ঝক ঝকে দেখাতো)


ছবি ১৩, রুটি, পরোটা, ভাত বা পোলাও দিয়ে খেতে পারেন।  আমরা রুটি দিয়ে সকালের নাস্তায় খেয়েছি।

সবাইকে শুভেচ্ছা।  আসছি আরো আরো রেসিপি নিয়ে, সাথে থাকুন।
* কম তেলের রান্না গুলো ফ্যাকাসে দেখায়, মনে হয় স্বাদ নেই, আসলে তা নয়। রান্না স্বাদ হয় মনোযোগে, ভালবাসায়।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন।

2 responses to “রেসিপিঃ মগজ ভূনা (খাসির)

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s