গ্যালারি

আড্ডাঃ মিষ্টি নিয়ে সাতকাহন


আগেই বলে দেই, মিষ্টি নিয়ে কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম কিছু লিখবো কিন্তু সময় সুযোগ হচ্ছিলো না! আজ সেই সময় বের করে একটা মিষ্টি দোকানে প্রবেশ করেই ফেললাম। শুরুতে বলি, মিষ্টি নিয়ে আমার একটা অভ্যাস (বয়সের কারনে এখন বাদ দিয়েছি), চলতি পথে কোন দোকান পড়ে গেলে, প্রবেশ করেই ফেলি। পছন্দ সই দুই একটা মিষ্টি খেয়ে নেই! দোকানে প্রবেশের পর মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করি, আপনারা কি একপিস করে মিষ্টি বিক্রি করেন! দোকানীরা এতে অবাক হয় বলে আমার মনে হয়, চেহারা কেমন করে বলে, ‘জ্বী’! আমি এটা দেন, ওটা দেন করে করে কয়েকটা তুলে নেই। তার পর এক পাশে যেয়ে বসি! তবে আজকাল আর এমন করি না, হয়ত বয়সের কারনে এখন আর তেমন মিষ্টি পছন্দ হয় না! তবে চলতি পথে পড়লে, সাইন বোর্ড গুলো পড়ে মিষ্টি দোকানের নাম গুলো দেখে নেই! এটাও একটা আনন্দ!

আজকাল ঢাকায় বেশ কিছু সুন্দর সুন্দর মিষ্টির দোকান হয়েছে। বেশ সুন্দর সাজগোজ নিয়ে এই দোকান গুলো বেশ আরামে ব্যবসা করে যাচ্ছে। তবে এই সেক্টরে ঢাকার পুরাতন দোকান গুলো জৈলুশ হারিয়েছে, তারা নিজদের তেমন করে আপডেট করতে পারে নাই। পুরাতন মিষ্টি দোকান গুলো তাদের কিচেন সঠিক রাখে নাই, ফলে মিষ্টির সেই জৈলুশ বা সাধারন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছিল। মিষ্টিতে ভেজাল দিয়ে মানুষের মনে একটা আতঙ্ক তৈরী করেছিল। কালারফুল মিষ্টি গুলোতে এই অসভ্য ব্যবসাহীরা কাপড়ের রঙ দিয়ে মানুষের মনে কঠিন শেষ আঘাত করেছিল! যাই হোক, এখন মনে হচ্ছে মিষ্টি ব্যবসার প্রমোটারগন এই ভেজাল আর দিচ্ছে না! তবে পুরানো অভ্যাস মোতাবেক এখনো অনেকে ময়লা, পোকা মাকড়ের জায়গাতেই মিষ্টি বানাচ্ছেন! আর নামের ব্যাপারে টাঙ্গাইল, মুসলিম, পোড়াবাড়ি ইত্যাদির ব্যবহার কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়।

বর্তমানে মিষ্টি ব্যবসায় কিছুটা সুদিন ফিরে এসেছে বলে আমি মনে করি। দেশের অনেক কর্পোরেট ব্যবসাহীগন এখন নিজেরাই মিষ্টির ফ্যাক্টরী দিয়েছে কারন তারা বুঝে গিয়েছে, দুনিয়াতে বাঙ্গালী থাকলে মিষ্টি খাবেই, আর ইনকাম হবেই! মেশিন দিয়ে হাতের ছোঁয়া ছাড়া মিষ্টি দিলে বাঙ্গালী আরো বেশী খাবে কারন বাঙ্গালী ভেজাল খেয়ে খেয়ে মুখের রুচি হারিয়েছে অনেক আগে! এখন ভেজাল ছাড়া মিষ্টি শুনলেই ভিড় জমাবে! এদিকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা এমন বেড়েছে যে, আমাদের যে কোন কিছুতেই ফ্যাক্টরি লাগে! এই ইনভেষ্ট আবার আমাদের বড় বড় কোম্পানী গুলো করতে পারছে! টাকায় ওদের কাছে আরো টাকা নিয়ে যাচ্ছে! বছরে ১০ টা শাখা খুলে ফেলা এখন আর কোন ব্যাপার নয়! এদিকে ভ্যাট থেকেও আরো তাদের প্রোফিট আসছে!! প্রোডাক্টের উপর লাভ, আবার ক্রেতাগন দিচ্ছে ভ্যাট! আহ, কি আনন্দ!

যাই হোক, আজ আমি একটা মিষ্টি দোকানে প্রবেশ করছিলাম। নিজের টাকার নিজেই কয়েক পদের মিষ্টি কিনে খেয়েছি! খালি হাতে ফিরি নাই। আপনাদের জন্য কিছু ছবি তুলে এনেছি! সাথে মিষ্টি লাভার্সদের জন্য রয়েছে দরদাম! চলুন, ছবিতে আলোচনা করি!

20181101_182131
ছবি ১, মীনা সুইটস!

20181101_181901
ছবি ২, মিষ্টি সাজিয়ে রাখাও একটা আর্ট!

20181101_181918
ছবি ৩, দেখেই যেন খেতে ইচ্ছা হয়!

20181101_181935
ছবি ৪, এরা মুলত তাদের কনফেকশনারী আইটেম গুলোও সামনে রাখে।

20181101_181940
ছবি ৫, সিঙ্গারা, সামোচা! আহ! বলে রাখি ‘মমো’ও পাওয়া যায়!

20181101_182119
ছবি ৬, ছোট পরিসরে বেশ সুন্দর।

20181101_182111
ছবি ৭, লাল মোহন, গোলাপ জামন ও কালো জাম!

20181101_182028
ছবি ৮, কাশ্মীরি চমচম।

20181101_182025
ছবি ৯, ক্রিম জাম।

20181101_182019
ছবি ১০, বেবী সুইটস।

20181101_182010
ছবি ১১, বালুসাই, আমার পছন্দ।

20181101_182103
ছবি ১২, নানান ধরনের দই!

20181101_182053
ছবি ১৩, পানতুয়া ও রসে ভেজা জিলাপি!

20181101_182049
ছবি ১৪, এই যে বামে রস মালাই, ডানে রস গোল্লা! মাঝ খানে দুধ মালাই!

20181101_182046
ছবি ১৫, কাঁচা গোল্লা!

20181101_182001
ছবি ১৬, কাজু বরফি, কেজি ১৫০০/= টাকা।  ধনীরা এই মিষ্টি খুব পছন্দ করেন!

20181101_181953
ছবি ১৭, আঞ্জীর রোল, কেজি ১৫০০/= টাকা।  আজ খেয়ে দেখলাম, আমার কাছে ভাল লেগেছে! এই মিষ্টি বিয়ে বাড়িতে নাকি খুব চলে!

20181101_223541
ছবি ১৮, কোথায় খেলে, কিছু কিনলে সাথে সাথে আমাদের থেকে ভ্যাট নিয়ে নেয়া হয়, অনেক বছর ধরে এমনি চলছে! আমি অনেক চেষ্টা করে দেখেছি এই ভ্যাট কোথায় যায়।  এটা আমি সরকারকে দিচ্ছি কিন্তু আমি কোন সুত্র থেকে প্রমান পাই না যে, আমার এই টাকা সরাসরি সরকারই পাচ্ছে! আমার বার বারই মনে হয়, এই দোকানের মালিকেরা করকর্মকর্তাদের যোগ সাজেসে নিজেরাই নিজদের পকেটে পুরে নিচ্ছে! বছর না ঘুরতেই কি করে দোকানের শাখা খোলা হয়! একবার ভেবে দেখুন ২৬১টাকার খেয়ে ৩৯টাকা ভ্যাট! আমি অন্তত একটা মিষ্টি বেশি খেতে পারতাম, অথচ সেটা লাভ হয়ে ধরা দিচ্ছে দোকান মালিকের কাছে! সঠিক ভ্যাট সরকারের কোষাগারে জমা দেয় এমন ঢাকা শহরে আমি একটা দোকান দেখি নাই! আপনি দেখেছেন কি! খুবই দুঃখের কথা! সরকার তার নির্বুদ্ধিতায় আমাদের দেয়া টাকাও সংগ্রহ করতে পারছে না!

কি আর চিন্তা, চলুন মিষ্টির দাম দেখিঃ
কাঁচা গোল্লাঃ ৯৫০/- টাকা কেজি
রস মলাইঃ ৫৭৫/- টাকা কেজি
দুধ মলাইঃ ৬২৫/- টাকা কেজি
রসগোল্লা, ভেজাঃ ৪৪০/- টাকা কেজি
রসগোল্লা, ড্রাইঃ ৩৭৫/- টাকা কেজি
চমচম, কাশ্মীরিঃ ৬০০/- টাকা কেজি
চমচম, টাঙ্গাইলঃ ৫২৫/- টাকা কেজি
সন্দেশ, গুড়ঃ ৬৯৫/- টাকা কেজি
সন্দেশ, রোলঃ ৭৫০/- টাকা কেজি
ধদিয়াঃ ৭৫০/- টাকা কেজি
গুড়ের প্যারাঃ ৬৫০/- টাকা কেজি
দুধ সাগরঃ ৬২৫/- টাকা কেজি
কাঁচা দানাঃ ৬২০/- টাকা কেজি
হাফসিঃ ৬২৫/- টাকা কেজি
ক্রীম জ্যামঃ ৫৫০/- টাকা কেজি
বেবী সুইটসঃ ৪৭৫/- টাকা কেজি
গোলাব জামনঃ ৪৯৫/- টাকা কেজি
লাল মোহনঃ ৩৭৫/- টাকা কেজি
কালো জামঃ ৩৭৫/- টাকা কেজি
বালুসাইঃ ৩৭৫/- টাকা কেজি
ক্ষীরঃ ৮০০/- টাকা কেজি
মিহিদানাঃ ৩৯৫/- টাকা কেজি
পানতুয়াঃ ৫০০/- টাকা কেজি
জিলাপীঃ ৪৯৫/- টাকা কেজি
আঞ্জীর রোলঃ ১৫০০/- টাকা কেজি
আঞ্জীর হালুয়াঃ ১১৫০/- টাকা কেজি
কাজু হালুয়াঃ ১২৫০/- টাকা কেজি
পেস্তা হালুয়াঃ ১২৫০/- টাকা কেজি
মেস্কাত হালুয়াঃ ৫৫০/- টাকা কেজি
কাজু বরফিঃ ১৫০০/- টাকা কেজি
কেক বরফিঃ ৫১০/- টাকা কেজি
বাদামী বরফিঃ ৫৯৫/- টাকা কেজি
গাঁজর লাড্ডুঃ ৫৭৫/- টাকা কেজি
মাওয়া লাড্ডুঃ ৫৭৫/- টাকা কেজি
নিখুতি লাড্ডুঃ ৬২৫/- টাকা কেজি
জাফরানি লাড্ডুঃ ৮০০/- টাকা কেজি
মিষ্টি দইঃ ২৫০/- টাকা কেজি
টক মিষ্টি দইঃ ৩৬০/- টাকা কেজি
দই স্পেশালঃ ৩৫০/- টাকা কেজি

সবাইকে শুভেচ্ছা।  ভাল থাকুন, আনন্দে কাটুক আপনাদের সময়!

মিষ্টির দরদাম নিয়ে সামুতে একটা ব্লগ লিখেছি!
http://www.somewhereinblog.net/blog/udraji/30259368

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s