গ্যালারি

রেসিপিঃ ডিম রান্না, আলু টমেটো যোগে (ব্যচেলরস অনলি)


খাবার দাবার এমন একটা ব্যাপার যে, খাবার আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে! মানে খাবার পুরোটাই ভাগ্য! কোন সময়ে কে কি খাবে সেটা নিজে কখনো বলতে পারে না! সময় মত বেলা অনুযায়ী মহান উপরওয়ালা যোগাড় করে দেন! যেমন একটা উদাহরণ দিচ্ছি, ধরেন আপনি চাকুরীজীবি, আপনার স্ত্রী আপনার জন্য দুপুরের খাবারের জন্য বেশ সুন্দর করে রান্না করে দিয়েছেন এবং সেটা আপনি অফিসে নিয়ে গেছেন। কিন্তু দুপুরের সময় আপনার বস অফিসের সবাইকে দাওয়াত দিয়ে হোটেলে নিয়ে কাচ্চি বিরিয়ানী খাইয়ে দিলেন! এখন আপনি আপনার সেই খাবার কি করবেন? অফিসের কেহ অভুক্ত নেই যে আপনার খাবার খাবে! আপনি অফিসের পিওন দিয়ে খাবারটা রাস্তার কোন ক্ষুদার্থকে খাইয়ে দিলেন! এখন ভেবে দেখুন, কার খাবার কে খায়! আপনি বা আপনার স্ত্রী কি জানতেন যে, তিনি রান্নাটা ঔ রাস্তার ভিখারী মানুষটার জন্য করেছেন? আর যদি তা জানতেন তবে তিনি কি খুব সকালে উঠে এত কষ্ট করতেন কিংবা আপনিও কি সেই খাবার নিয়ে অফিসে আসতেন! কাজে কাজেই খাবার দাবার পুরাই ভাগ্য! ভাগ্যে না থাকলে খাবার পেটে যাবে না! এটাই দুনিয়ার বিধির খেলা!

তেমনি গতকাল অফিসে থেকে বাসা ফেরার পথে মনে হল, অনেকদিন ধরে ডিম আলু তরকারী রান্না হয় না! ভেবে দেখলাম, বাসার সবই আছে কিন্তু ডিম নেই! পথে রিক্সা থামিয়ে এক ডজন ডিম কিনে বাসায় ফিরলাম। বাসায় গিয়েই প্রিয়তমা স্ত্রীকে বললাম, চলো রান্না করি। তিনি জানালেন, মুরগী রান্না ও সবজি ভাঁজি আছে, রান্নার দরকার নেই! তবুও আমি রান্না করলাম, ঘরে সবই ছিল কিন্তু ধনিয়া পাতার কুঁচি ছিল না, ফলে রেসিপি সব ঠিকঠাক মত মনের মতই হয়েছে, মাত্র ধনিয়া পাতার কুঁচি দিলে আরো জমত! আগেই বলে দেই, গতকাল রাতে শুধু এই ডিম রান্না দিয়ে আমরা খেয়ে উঠেছিলাম, মুরগী, সবজি রান্নায় হাত দিতে হয় নাই! মানে, অনেক স্বাদ হয়েছিল! চলুন, ছবিতে রান্না দেখি। আরো বলে নেই এই রান্না আমাদের বাঙ্গালী পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য রান্না! বাসায় তেমন কিছু না থাকলে এমন রান্না হয়েই থাকে!

ডিম তরকারীর এই রান্নাটা আসলে একটা মৌলিক রান্না, এমন রান্না করতে পারলেই আপনার হাত খুলে যাবে এবং আপনি আরো আরো নানাবিধ রান্নায় পারদর্শী হয়ে উঠবেন। কাজেই এমন সাধারন রান্না গুলো প্রতিনিয়ত রান্না করলে, আপনি ভাল রান্নাকারী হয়ে উঠবেন। রান্নায় লবন একটা গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে, আমি সব সময়ে বলে আসছি, লবন ঠিক্টহাক দেয়াটাও একটা বিশেষ ব্যাপার, এই ব্যাপারটা চোখ উঠে আসে নিয়মিত রান্না করা থেকেই! চলুন, আর কথা না বাড়াই!

উপকরণ ও পরিমানঃ
– ডিমঃ চার/পাচ টা (ধুয়ে সিদ্ধ করে নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে)
– আলুঃ মাঝারি দুই/তিন টা, ডিমের সাথে সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে ভেঙ্গে নিতে হবে
– টমেটোঃ মাঝারি ৩/৪ টা
– পেয়াজ কুচিঃ হাফ কাপ
– আদা বাটাঃ হাফ চা চামচ, ইন্ডিয়ান হলে একটু বেশি
– রসুন বাটাঃ এক চা চামচ, ইন্ডিয়ান হলে একটু বেশি
– মরিচ গুড়াঃ হাফ চা চামচ, ঝাল বুঝে কম বেশি
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচের বেশি
– জিরা গুড়াঃ হাফ চা চামচ কম বেশী
– কাচা মরিচঃ কয়েকটা
– চিনিঃ হাফ চা চামচের কম (না থাকলে নাই)
– ধনিয়া পাতার কুচিঃ দুই টেবিল চামচ (না থাকলে নাই, আমাদের এই রান্নায় ছিল না)
– তেলঃ ৫/৬ টেবিল চামচ (কম তেলে রান্না করা উচিত ডিম ভাঁজাতে আরো কিছু তেল লাগবে)
– পানিঃ পরিমান মত, ঝোল কেমন রাখলেব সেটা বিবেচনা করে

প্রনালীঃ ছবি কথা বলে
ডিম সিদ্ধ ও ভাজি করার ধাপ
20180905_220828
ছবি ১, কড়াইতে তেল গরম করে তাতে সামান্য লবন, মরিচ গুড়া এবং হলুদ গুড়া দিন।

20180905_220922
ছবি ২, খোসা ছাড়িয়ে রাখা সিদ্ধ ডিম দিয়ে ভাজুন।  (সিদ্ধ ডিম গুলোতে ভাজার আগে একটু আছড় কেটে দিন, এতে ডিম ফুটবে না, রিক্স কমে যাবে। )

20180905_221101
ছবি ৩, ব্যস চুলা নিবিয়ে এভাবে ডিম গুলো রেখে দিন।

মুল রান্নার পর্বঃ
20180905_221109
ছবি ৪, অন্য কড়াইতে তেল গরম করে তাতে সামান্য লবন যোগে পেয়াজ কুচি এবং কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাল করে ভাজুন।

20180905_221345
ছবি ৫, পেয়াজ কুচি হলদে হয়ে এলে আদা, রসুন ও জিরা গুড়া দিন এবং ভাল করে ভাঁজুন।

20180905_221623
ছবি ৬, ভাঁজা হয়ে গেলে হাফ কাপ পানি দিন এবং সেই পানিতে মরিচ গুড়া ও হলুদের গুড়া দিন।

20180905_221810
ছবি ৭, এবার টমেটো দিয়ে আরো কষান।

20180905_221914
ছবি ৮, আলু সিদ্ধ দিয়ে দিন।

20180905_221918
ছবি ৯, অন্য চুলায় কাজ না থাকলে এমনি দেখাবে!

20180905_222014
ছবি ১০, এবার চিনি দিন, ভাল করে কষিয়ে নিন।

20180905_222125
ছবি ১১, এবার ডিম গুলো দিন।

20180905_222136
ছবি ১২, ভাল করে মিশিয়ে নিন।  আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে।

20180905_222214
ছবি ১৩, পানি দিন।  মিশিয়ে নিন।

20180905_222239
ছবি ১৪, মাঝারি আঁচে রেখে, ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১০ রাখুন।

20180905_223526
ছবি ১৫, ফাইন্যাল লবন দেখুন।  লাগলে দিন।  ধনিয়া কুঁচি থাকলে এই সময়ে দিতে পারেন, এই রান্নায় আমাদের বাসায় ধনিয়া কুঁচি ছিল না।

20180905_223751
ছবি ১৬, কম তেলে রান্না, তেল আর একটু বেশি হলে আরো ফুটে উঠতো বটেই!

20180905_223807
ছবি ১৭, সাদা ভাত কিংবা পোলাউ নিয়ে বসতে পারেন।

20180905_223834
ছবি ১৮, ধনিয়া পাতার কুঁচি দিতে পারলে আরো সুন্দর দেখাতো।  চমতকার স্বাদ।  অসাধারণ।
ফেইসবুকের আলোচনা দেখতে পারেন, এখানে ক্লিক করুন!

সাথে থাকুন, আমরা আসছি আরো আরো রান্না নিয়ে। সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন।

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s