গ্যালারি

দুনিয়ার সেরা পাঁচ জন ফুড ইউটিউভার দেখুন, যাদের ফুড ভিডিও দেখলে আপনার জিবে জল আসবে, সাথে সেই দেশ ভ্রমন হয়ে যাবে!


খাবার দাবার আমার প্রিয় বিষয়! রান্না যেহেতু করেই চলছি, সুতারাং এই বিষয়ে সারা দুনিয়ার খাবারের প্রতি একটা চাহিদা বা জানার আগ্রহ থাকেই। আপনারা বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, আমি নেটে বসা মানেই হল, সারা দুনিয়ার খাবার দেখা বা রেসিপি দেখা। ঘন্টার পর ঘন্টা আমি এই সব ভিডিও/ব্লগ বা তথ্য দেখে বা পড়ে কাটিয়ে দিতে পারি! আজকাল বাসায় একটা বড় এন্ড্রয়েড টিভি কেনাতে আমার এই আগ্রহ আরো বেড়েছে, শুয়ে বসে আনন্দে এখন আরো বেশি সময় দেখতে পারি! যাই হোক, কয়েকদিন ধরে এই বিষয়ে লিখবো লিখবো ভাবছিলাম, সময়াভাবে পারি নাই। আজ মনে হয় সেই সময় এসেছে! গত কয়েকদিনে স্ত্রী পুত্ররা বাসায় না থাকাতে আরো বেশি সময় হাতে পাওয়া গেল, মনে ভরে এই সব ইউটিউব চ্যানেল দেখেছি, তথ্য জেনেছি। এখন এই বিষয়ে লেখা যেতে পারে!

প্রথমেই বলে নেই, আজকাল মানুষ আর সেই মত টিভি দেখেন না, লোকাল কিংবা স্যাটেলাইট টিভি এই সবে আর মানুষের মন ভরে না! মানুষ নির্মল বিনোদন চায়, আজাইরা বিজ্ঞাপন বা অহেতুক সময় নষ্ট করার মানসিকতা এখন আর কারো নেই। ইউটিউব তার ভিউয়ারদের সেই স্বাধীনতা দিয়েছে, বিষয় পছন্দের স্বাধীনতাও আছে। ফলে এখন ধীরে ধীরে মানুষ ইউটিউবে অভস্থ্য হয়ে পড়ছে! মানুষের এই চাহিদার বিবেচনায় ইউটিউব কর্তপক্ষ মানুষকে তার ভিডিও আপলোডের সুযোগ দিয়েছে (পুরানো খবর, পোলাপাইনেও জানে) এবং সাথে যারা ভিডিও আপলোড দিয়ে থাকে তাদের উপার্জনের ব্যবস্থা করেছে (পুরানো খবর, পোলাপাইনেও জানে)! যাই হোক, ফলে ইউটিউবে এমন সব ব্যক্তি তৈরী হয়ে গেছেন, যারা দিনরাত ভিডিও তৈরী করেন এবং তা পোষ্ট দিয়ে থাকেন। মানুষের ভালবাসাতো তারা পাচ্ছেন, সাথে সারা দুনিয়াতে পরিচিতি এবং টাকা কড়ি, একবার জনপ্রিয় হয়ে গেলে আর চিন্তা নেই। তবে কন্টেইন বানাতে অনেক পরিশ্রম জড়িত, বুদ্ধিও থাকতে হয়ে প্রচুর।

যাই হোক, আজ আমি আপনাদের ৫জন ফুড ব্লগারের পরিচয় করিয়ে দিব। আশা করি এদের আপনাদের ভাল লাগবে এবং এদের কাজ আপনাদের মনে দাগ কাটবে। এদের সাইট দেখলে দুনিয়ার কোন দেশ কি খাচ্ছে, দেশ দেখতে কেমন ইত্যাদি বোঝা যায়। দ্রোনের সাহায্যে এরা নানান শহরের উপর থেকে ভিউ প্রকাশ করে থাকে যা সত্যিই বিস্ময়। চলুন দেখে ফেলি।

১। মার্ক উইন্সঃ মার্ক উইন্স নিয়ে আমি আগেও লিখেছি বেশ কয়েক বছর আগেও, উনাকে নিয়ে নুতন কিছু বলা চলে না। তার কাজেই তিনি পরিচিত সারা দুনিয়ার মানুষের কাছে। সম্প্রতি সময়ে তিনি একটা ভিডিও পোষ্ট দিলে ঘন্টা খানেকেই কয়েক লক্ষ ভিজিট হয়ে যায়। মুলত তিনি ২০০৯ সালে সম্ভবত খাবারের দুনিয়ার নেমে পড়েন। বাবা আমেরিকান, মা চায়নিজ এবং বেড়ে উঠেন কেনিয়াতে, এখন স্থায়ী হয়ে পড়ছেন থাইল্যান্ডে। বিয়ে শাদীও থাইল্যান্ডে, মাইশা নামে এক ছেলের পিতা তিনি। তার স্ত্রী তাকে এই কাজে সব সময়ে সাহায্য করে থাকেন, তিনি যেখানে যান স্ত্রী তার সঙ্গে থাকে, তিনি বলে থাকেন, লাভিং ওয়াইফ (আমরা অনেকেই তা বলতে পারি না!)! তার ব্লগ পোষ্ট গুলো দেখলে বুঝতে পারবেন, তিনি কতটা সহজ সরল! তার জীবনের কথাও তিনি কত নির্ভেজাল্ভাবে তার ব্লগে পরিবেশন করেন। বলতে গেলে এখন প্রায় সারা দুনিয়ার কোনাকাঞ্চি ভ্রমন করে ফেলেছেন এবং তার প্রায় হাজার খানেক ভিডিও আছে এপর্যন্ত, সপ্তাহে দুই দিন দুটো ভিডিও আপলোড করে থাকেন, অনেকে এখন দিন তারিখ মুখস্ত করে বসে থাকেন তার সেই সব ভিডিও দেখার জন্য।
মুল লিঙ্কঃ এখানে ক্লিক করুন
সম্প্রতিক ভিডিওঃ এখানে ক্লিক করুন

২। বেষ্ট এভার ফুড রিভিও শোঃ এটি মুলত একাটা স্পন্সার্ড ভিডিও ব্লগ। পরিচালনা ও উপস্থাপনা করে থাকেন মিঃ সানি সাইড নামের এক জন ভদ্রলোক। তার উপস্থাপনা আমার কাছে বেশ ভাল লাগে, কথাবার্তা ও আচার আচরন অসাধারণ। স্পন্সার্ড বলে তাকে কখনো টাকা নিয়ে ভাবতে হয় না, ওয়ান ট্রিপ নামের একটা টুরিস্ট কোম্পানি তার ব্যয় বহন করে থাকে বলে জানা যায়। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ইত্যাদি দেশে তারা টুরিষ্টদের নিয়ে নানান প্যাকেজে কাজ করে থাকে। মিঃ সানি মুলত টেনশনলেস হয়ে কাজ করেন বলে তার শো গুলো অসাধারণ এবং তিনি যেখানেই যান সাথে দোভাষী এবং ক্যামেরাম্যান নিয়ে যান ফলে তার ভিডিওর চিত্রায়ন অসাধারণ। তবে মিঃ সানি স্বাস্থ্য সচেতন, যা পান তা খান বটেই তবে আমি প্রায় খেয়াল করেছি, একটা লিমিট থেকেই! দুনিয়ার দামী খাবার গুলো তার সাইটে উঠে আসে, সাথে অচেনা, অজানা খাবারের কথাও তিনি দেখিয়ে দেন। তিনিও দ্রোন ব্যবহার করেন, ফলে শহরের উপর থেকেও দেখা যায়, অসাধারণ কাজ হয়। সাপের কলিজা, রক্ত কি করে খাওয়া হয় তা আমি তার ব্লগেই দেখি। ফিলিপাইনের মফঃসলের খাবার গুলো কি জীবন্ত তার কথায় ও ক্যামেরায়।
মুল লিঙ্কঃ এখানে ক্লিক করুন
সম্প্রতিক ভিডিওঃ এখানে ক্লিক করুন

৩। দি ফুড রেঞ্জারঃ মিঃ ট্রিভোর জেমস অনেকটা মিঃ মার্ক উইন্সের মতই, আচার আচরণ অনেকটা মার্ক উইন্সের সাথে মিলে যায়। আমি তার শো গুলো পছন্দ করি। বয়সে তরুন এই ভদ্রলোক বেশ কয়েক ভাষায় কথা বলতে পারেন। বিশেষ করে চীনা ভাষা মান্দারিনে তার দক্ষতা অসাধারণ। তার চীনের খাবারের ভিডিও গুলো দেখতে বসলে চোখ ফেরানো যায় না। তার আর একটা দক্ষতা হচ্ছে, তিনি যে কমিউনিটিতে যান, সেই কমিউনিটির ড্রেস পরেন ফলে তার উপস্থাপনা আরো ভাল লাগে। মুসলিম কমিউনিটিতে গেলে পাঞ্জাবি টুপি পরে খেতে বসে পড়েন। তার ইন্ডিয়ার নানান স্থানের ভ্রমনের ভিডিও গুলো এতই ভাল যে, আপনার মনে হবে আপনি এখন সেখানেই আছেন। দেখতে অতন্ত্য সুদর্শন জেমস প্রসঙ্গে আমি আরো জানার চেষ্টা করছি, তিনি মার্ক উইন্সের মত ব্যক্তিগত তথ্য দিতে এত উদার নন তবে অতান্ত্য পরিশ্রমি এই তরুণ আগামীতে আরো ভাল করবে নিশ্চিত। পথের ধারের খাবার দেখতে তিনি সেই খাবার কোথায় বানানো হয় সেই জায়গা গুলোও দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন ফলে তার ভিডিওতে আলাদা একটা ফ্লেভার থাকে। তার ইংরেজী উচ্চারন সবালীল, যে কারো পক্ষে বোঝা কঠিন নয়!
মুল লিঙ্কঃ এখানে ক্লিক করুন
সম্প্রতিক ভিডিওঃ এখানে ক্লিক করুন

৪। মাইকি চেংঃ মিঃ মাইকি চেং এখন নুতন করে নিজ নামে সারভাইভ করছেন (সারভাইভ কথাটা বলা চলে না, আমি যুতসই শব্দ পাচ্ছি না)। মুলত মাইকি ‘ট্রিকি ডামপিং’ নামের একটা ভিডিও বল্গ পরিচালনা করতেন, এখন নিজ নামেই পরিচিত হয়ে উঠছেন। তিনি দেখতে মুলত প্রিয় সিনেমা অভিনেতা জ্যাকি চেং এর মত, বেশ গাটা পেটা শরীর, খেতেও পারেন মাশাআল্লাহ। মুখে রুচির অভাব নেই! চোখে যা পড়ে তাই খেতে পারেন। এক বসাতে অনেক পদের খাবার সাবাড় করে দিতে পারেন। আমি মাইকি চেংকে জাপান বিশেষজ্ঞ বলবো, জাপানি খাবার নিয়ে তার ব্লগ গুলো থেকে চোখ ফেরানো যায় না। কুংফু ক্যারাটে জানা এই ভদ্রলোক আগামীতে আরো আরো চমৎকার ভিডিও আমাদের দেখাবেন। পথের ধারের খাবারতো আছেই, তার ব্লগে ছোট ও মাঝারি দোকানের খাবারো বেশ সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। তিনিও এশিয়ার প্রায় সব দেশ ভ্রমন করে নিয়েছেন, ইন্ডিয়ার কলকাতাতে রসগোলা খেয়ে তার অভিব্যক্তি ছিল দারুন।
মুল লিঙ্কঃ এখানে ক্লিক করুন
সম্প্রতিক ভিডিওঃ এখানে ক্লিক করুন

৫। ফারহানা ওভারসনঃ মিস ফারহানা ওভারসনকে মুলত এখন ফুডের দুনিয়া বুঝতে পারছে না, এখনো কম পরিচিত! তার সাবস্কিপশন কম হলেও আমি মনে করি আগামী এক দুই বছরে তিনি অসাধারণ উচ্চতায় উঠে পড়বেন। কারন তার কাজ, উপস্থাপনা, যোগাযোগ সব কিছুই অসাধারণ। ইংরেজী উচ্চারনের জড়তা আরো কেটে গেলে তিনি ছেলে ফুড ব্লগারদের সমকক্ষ হয়ে উঠবেন। তিনি মুলত কেনিয়া ফোকাসড ফুড ব্লগার, কেনিয়াতে তাকে মুলত সবাই চিনে থাকেন এবং কেনিয়াতেই থাকেন। মার্ক উইন্সের ব্লগ ধরে আমি তার খোজ পাই এবং আমি তাকে নিয়ে আশাবাদি। ভমনের ছোটখাট দিক গুলো তুলে ধরাতে তার জুড়ি নেই, লাভলী! কেনিয়ার মুম্বাসা শহরে থাকলেও নাইরোবিতেই যোগাযোগ, আজকাল তিনি দেশের বাইরে যাচ্ছেন এবং সম্ভত কিছু দিন আগে সিঙ্গাপুর সফর করে গেলেন। সিঙ্গাপুরের ভিডিও গুলো বেশ ইম্প্রেসিভ। তার উপস্থাপনা বেশ আন্তরিক, তবে রাস্তার খাবারকেই তিনি চমৎকার বর্ননা দিয়ে অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে যান। আমি তার আরো আরো সাফল্য কামনা করি।
মুল লিঙ্কঃ এখানে ক্লিক করুন
সম্প্রতিক ভিডিওঃ এখানে ক্লিক করুন

খাবা্রের বিশ্ব নিয়ে আরো আরো লেখার ইচ্ছা থাকলো। দুনিয়ার নানান দেশের মানুষ্য খাবার কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা দেখার একটা আলাদা আনন্দ আছে, কোন দেশের মানুষ কি খাচ্ছে! আমাদের বাংলাদেশের জন্য দুঃখ হয়, এখনো আমরা আমাদের দেশে স্ট্রিট ফুড জনপ্রিয় করতে পারি নাই অথচ এই সেক্টর উন্নত করতে পারলে কত শত শত মানুষের কর্ম সংস্থান হত, কত পরিবার নানান কাজকর্মে বেঁচে যেত। কত যবুক/যুবতি চাকরী বা কিছু না করতে পেরে জীবন শেষ করে দিচ্ছে, অথচ সামান্য প্রশিক্ষন, সামান্য জায়গা দিলে কত পরিবার বেঁচে যেত। এই রাস্তার খাবারে ভেজাল মুক্ত করাও যেত যথাযত মনিটরিং করে, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমন সব জায়গা বের করা তেমন কোন ব্যাপার ছিল না, যদি আমরা তা করতে পারতাম তহলে আমাদের দেশেও শুধু খাবার খেতে পর্যটক আসতো! আমাদের আফসোস নিয়েই মরতে হবে, যা শাসককুল আমরা পেয়েছি, আফসোস!

ধন্যবাদ সবাইকে।

সামুতে লিঙ্কঃ এইখানে
ফেবু লিঙ্কঃ এখানে

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s