গ্যালারি

আড্ডাঃ কবিরাজ হারুন গাজী সাহেবের শরবত (মালিবাগ বাজার)


মানুষ কি করে বেকার থাকে? বিশেষ করে বাংলাদেশে মানুষ বেকার থাকতেই পারে না। এত এত মানুষের ভীড়ে কিছু না কিছু একটা বের করে নিলেই হল! মাথায় একটু বুদ্ধি থাকলে এই দেশে টাকা রুজি করা তেমন কোন অসাধ্য কর্ম নয়! কঠোর পরিশ্রমের ইচ্ছা আর সততা থাকলেই এই দেশে টাকা রুজি কোন ব্যাপার নয় (যারা সর্টকাটে ধনী হতে চান, যারা চোরাই পথে টাকা চান, তাদের জন্য এই পোষ্ট নয়)! ছোট থেকে বড় টাকাওয়ালা হয়ে যাবার মানুষের সংখ্যা এই দেশে কম নয়। আজকে আপনাদের তেমনি একটা নজির দেখাবো। সেই বরিশাল থেকে এসে কি করে একজন মানুষ এই শহরে সততার সাথে টাকা রুজি করছেন তার প্রমান কবিরাজ হারুন গাজী। কবিরাজ হারুন গাজী ভাইকে আমি দেখি নাই, তিনি তখন তার দোকানে ছিলেন না, তবে তার কর্মচারীদের থেকে শুনেই আমি বুঝতে পারছি, লোকটা সৎ এবং বুদ্ধিমান ও পরিশ্রমী। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য হল, যারা বেকার আছেন, শুধু চাকরী/বাকরীর দিকে না থেকে কিংবা বিদেশ না যেয়েও এমনি ছোট ছোট ছোট কাজ দিয়ে নিজের জীবন শুরু করতে পারেন, কিছু বছরেই আপনি হয়ত বিরাট ব্যবসাহী হয়ে উঠবেন, আপনিও এই সমাজে উদাহরণ হয়ে উঠবেন।

20180713_131310
ছবি ১; মালিবাগ বাজার রোডে গাজী শরবতের এই দোকানটা গত ৭/৮ মাস আগে জনাব কবিরাজ মোঃ হারুন গাজী ভাড়া নেন এবং তিনি এখানে একটা মান সম্মত এই শরবতের দোকান গড়ে তোলেন।

20180713_131342
ছবি ২; আমি যা যেনেছি, এটাই এই শরবতের মুল উপাদান। এই শরবত নিয়ে গাজী ভাইয়ের কর্মচারীদের সাথে কথা হলে তারাই জানান, এই শরবতে এমন কোন কিছু মেশানো হয় না, যা মানব শরীলের জন্য ক্ষতিকর। খুব সাধারন উপকরণ বা আমাদের দেশে পাওয়া যায় এমন সব উপকরন দিয়েই এই শরবত বানানো হয়। নিন্মে আমি উপকরন গুলো আপনাদের জন্য তুলে দিলাম। দেখে নিতে পারেন বা যারা এমনি একটা ব্যবসা দাঁড়া করাতে চান, তবে এই ফর্মুলা কাজে লাগাতে পারেন। আপনার যদি সাহস থাকে এবং সামান্য কিছু টাকা থাকে তবে আপনি আপনার শহরে এই ব্যবসা করে নিজকে প্রমান করে ফেলতে পারেন। চাকুরীর পিছনে, বিদেশ না গিয়ে বা মানুষের পিছনে না দৌড়েও আপনি আপনার কর্ম করতে পারেন। একবার ব্যবসাহে সাহস এসে গেলে, আপনাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না!

সাধারন উপকরন গুলো হলঃ
(মুল উপকরন)
– পানি
– ইউসুব গুলের ভুসি
– তোকমা
– বিট কুঁচি (এই বিটের কারনেই রংটা জমে উঠে)
– চিনি
(অন্যান্য উপকরণ, চাহিদা মোতাবেক)
– ডালিম
– আপেল
– কমলা
– আঙ্গুর
– খেজুর
– পিচ ফল (এটা প্রসেসড, কর্মচারীরা স্বীকার করলেন, যারা চান তাদেরই মাত্র এই ফল দেয়া হয়, যদিও এটা তারাও পছন্দ করেন না)
– এ ছাড়া অন্যান্য ফলফলাদিও দেয়া যেতে পারে, এমন কি আম কলা ইত্যাদি মিষ্টিফলাদিও দেয়া যেতে পারে।

প্রণালীঃ
খাবার যোগ্য পানিতে পরিমানমত ইউসুব গুলের ভুসি, তোকমা, বিট এবং চিনি ৮/১০ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখেন এবং এর ফলেই মুল পানীয় তৈরী হয়ে যায়। আর অন্যান্য ফল ফলাদির কুঁচি পরিবেশনের সময় গ্লাসে দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিয়েই কাষ্টমারদের পরিবেশন করা হয়।

20180713_131420
ছবি ৩; দোকান সাজিয়ে তোলাও একটা প্রচেষ্টা

20180713_131426
ছবি ৪; দোকানের মুল কর্মচারী তোফায়েল ভাই (নামটা ভুল হলে সরি), তিনিও সহজ সরল মানুষ, আমার প্রতিটা প্রশ্নের জবার দিয়ে যাচ্ছিলেন, একান্ত ভাল মানুষ হিসাবেই।

20180713_131432
ছবি ৫; বিক্রিবাটা নিয়ে কথা হল, তিনি জানালেন, প্রতিদিন প্রায় ২০/২৫ হাজার টাকার বিক্রি হয়। তবে ১০ টাকার গ্লাসের গ্রাহক বেশি, ২০ টাকার কিছুটা কম, তবে এলাকায় আর এমন দোকান নেই বলে বা মান ধরে রেখেছেন বলেই মানুষ এই শরবত খেতে আসেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকেই এলাকার মানুষের ভীড় জমে। এই শরবতের হারবাল একটা উপকার আছে বলেও তিনি জানালেন। আরো জানালেন, যে কোন ব্যক্তি চাইলে ঘরেও এমন শরবত বানিয়ে পান করতে পারেন।

20180713_131502
ছবি ৬; আমার গ্লাস তৈরির পর্ব।

20180713_131513
ছবি ৭; দেখেই শান্তি।

20180713_131530
ছবি ৮; ক্লোজ আপ। শরবতের ঘনত্বই মনে রাখার মত। এই ঘনত্ব প্রতি গ্লাসে একই ধরে রাখার নামই কৌশল বা ফর্মুলা এবং এই ফর্মুলাই করিবাজ গাজী সাহেব আবিস্কার করেছেন। মানে, কত পানিতে কত ইউসুবগুলের ভুসি, তোকমা এবং বিট কুঁচি দিতে হবে তাই কবিরাজ সাহেবের ফর্মুলা!

20180713_131539
ছবি ৯; আমার হাতে শরবত! পানের আগে টাকা দিতে হয় না, পান করে ভাল লাগলেই টাকা দিতে হয়!

20180713_131827
ছবি ১০; আপনি চাইলে ওদের ফ্রীজে রেখে কিছুটা ঠান্ডাও করে নিতে পারেন, তবে যেহেতু এই শরবত সারা বছর, যে কোন ঋতুতেই পান করা হয় ফলে শুধু গরম কালের কথাই চিন্তা হয় না!

আমি এমন শরবত এই ঢাকা শহরে সদরঘাট এলাকায় আরো একবার পান করেছিলাম (তারা নোংরা ছিল, খোলা রাস্তার ফুটপাতের বিক্রেতা ছিল), তবে আমাদের মালিবাগ এলাকার এই শরবত নিজ চোখে সব কিছু দেখে পানের মজাই ছিল আলাদা, তবে এরাও আরো পরিচ্ছন্ন হতে পারত।

আমি কবিরাজ মোঃ হারুন গাজী সাহেবের আরো আরো সাফল্য কামনা করি এবং নিশ্চিত বিশ্বাস করি তিনি একদিন আরো আরো বড় ধনী হয়ে উঠবেন, চলার পথে চরিত্র ঠিক রাখতে পারলে তিনিও আমাদের আগামী দিনের বিরাট উদাহরণ হিসাবে দাঁড়িয়ে যাবেন।

সবাইকে শুভেচ্ছা। নুতন কেহ যদি এই রকম নুতন আইডিয়া নিয়ে এমন কোন ব্যবসা করতে চান তবে আসুন, আপনি ওয়েলকাম। আপনার যে কোন পরামর্শ লাগলে আমি দিব। ভাল থাকুন। আপনাদের সময় কাটুক আনন্দে।

বেকার না থেকে নিজেই এমনি একটা ব্যবসা বের করে, দাঁড়িয়ে পড়ুন। আপনার সাহস ও পরিশ্রম আপনাকে অনেক দুর নিয়ে যাবে।

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s