গ্যালারি

রেসিপিঃ হালিম (বাজার থেকে কেনা প্যাকেট, ঘরে পরিনত রান্না)


হালিমের উপর একটা ছোট খাট গবেষনা করে ফেললাম! ইন্ডিয়ার হায়দারাবাদের গোটা দশেক হোটেল ছাড়া দুনিয়ার আর কোথায়ও খাঁটি হালিম নেই! বাংলাদেশে হালিম নামে আমরা হোটেল রেস্তারায় যা খাই, এগুলোকে হালিম বললে, হালিম নামের অপমান হবে! সত্যিকারে ঘরে হালিম রান্না হতেই পারে না! বাজারে পাওয়া কয়েকটা হালিমের প্যাকেট আছে, তা দিয়ে আমরা কয়েক দফা রান্না করেছি কিন্তু হায়দরাবাদের সেই তৈরী দেখলে মনে হয় হালিম খেতে হায়দরাবাদেই যাওয়া দরকার!

প্যাকেটের গায়ে পাওয়া রেসিপি’র আছে, তবে গোসত কষানোর সময় সাথে আদা ও রসুন পেস্ট না দিলে খেতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে।

ধাপ ১ঃ পানি গরম

ছবি ১ঃ পানি গরম করে নামিয়ে ফেলুন, পানি কুসুম গরম হয়ে যাক।  এই ধরনের হালিম মিক্সে ২টা প্যাকেট পাওয়া যায়, একটা চাল ডালের মিক্স এবং অন্যটা মশলা মিক্স।


ছবি ২ঃ চাল ডালের মিক্স প্যাকেট কেটে এভাবে কুসুম গরম পানিতে দিন এবং নাড়াতে থাকুন, নতুবা দলা দলা হয়ে যেতে পারে।  ভাল করে মিশিয়ে, নাড়িয়ে নিন।


ছবি ৩ঃ এভাবে কিছু সময়ের জন্য রেখে দিন, মানে গোশত রান্না করে এই মিক্সে ঢেলে দিতে হবে!

ধাপ ২ঃ বেরেস্থা ভাজা

ছবি ৪ঃ প্রথমেই বেরেস্থা ভেঁজে নিন।


ছবি ৫ঃ এভাবে তুলে রাখুন।

ধাপ ৩ঃ গোশত মেরিনেট ও রান্না

ছবি ৬ঃ আমরা খাসির গোসত নিয়েছিলাম, আপনি চাইলে গরু না মুরগীর গোশত নিতে পারেন।  তবে মুরগীর হলে রান্নায় একটু বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে, বেশী জ্বাল দেয়া যাবে না, গোশত গলে যাবে।। একটা বাটিতে গোসত নিন, প্যাকেটের মশলা গুলো দিন, সাথে একটু আদা বাটা ও রসুন রাটা দিন।


ছবি ৭ঃ ভাল করে মাখিয়ে নিন, সামান্য লবন দিতে ভুলবেন না।


ছবি ৮ঃ বেরেস্থা উঠিয়ে সেই কড়াইতেই (সেই তেলেই) মেরিনেট করে রাখা গোশত দিন, ভাঁজুন।


ছবি ৯ঃ আগুন বাড়িয়ে দিতে পারেন।


ছবি ১০ঃ এবার গোসত নরম করার জন্য পানি দিন। মুরগীর গোশত হলে পানি কম লাগবে, খাসির চেয়ে গরুর গোশতে পানি বেশি লাগবে।


ছবি ১১ঃ আগুন মাঝারি আঁচে ঢাকনা দিয়ে রাখুন, গোসত নরম হতে হবে।


ছবি ১২ঃ মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দিবেন এবং এক পর্যায়ে গোসত নরম হলে ঝোল শুকিয়ে নিবেন।

কাজের ফাঁকে ফাঁকেঃ

ছবি ১৩ঃ আদা কুচি, লেবু, শসা, পুদিনা, ধনিয়া পাতার কুচি, টমেটোর কুচি করে নিতে পারেন।

ধাপ ৫ঃ মিক্স

ছবি ১৪ঃ এবার সেই হালিম মিক্সের পাতিল চুলায় তুলুন, এবং এভাবে গোসত হাড়িতে দিয়ে দিন।


ছবি ১৫ঃ ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ১৬ঃ আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে।


ছবি ১৭ঃ নাড়াতে থাকুন।  চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না, পাতিলের তলায় লেগে যাবে, ফলে নাড়ান।


ছবি ১৮ঃ এই ধরনের রান্নায় সতর্ক থাকা জরুরী, হালিম যত গাড় হতে থাকবে বুদ বুদ তত বাড়বে।  ফলে চুলা থেকে একটা নিদিষ্ট দুরত্বে থাকা দরকার।  ওহ, চাইলে কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিতে পারেন, স্বাদ বাড়বে।  এই পর্যায়ে ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন।


ছবি ১৯ঃ হালিমের ঘনত্ব কেমন রাখবেন, সেটা নিজেই বুঝে যাবেন, সেভাবেই রাখুন।

ধাপ ৫ঃ পরিবেশনা

ছবি ২০ঃ ব্যস, বাটিতে তুলে নিন।


ছবি ২১ঃ যার যা লাগে নিন।

ধাপ ৬ঃ নিজের বাটি

ছবি ২২ঃ ইচ্ছানুয়ায়ী চালান দিন।

সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।  আমাদের সাথেই থাকুন, আমরা আসছি আরো আরো নানান ধরনের রেসিপি নিয়ে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন
(হালিম নিয়ে ফেবুতে একটা জ্ঞান গর্ব আলোচনা আছে, আছে হায়দরাবাদী হালিমের লিঙ্ক)

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s