গ্যালারি

রেসিপিঃ পুদিনা চা (মনের আনন্দ)


আমি অনেক খেয়াল করে দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষ খাবারের ব্যাপারে বেশ চুজি বা বলা চলে নিয়মের বাইরের খাবার খেতেই চায় না বা দেখতেও চায় না! বাসায় আপনারা যারা রান্না করেন তারা আলু, পটল বা তরকারী একটু ভিন্ন করে কেটে রান্না করেন, খেতে বসে দেখবেন কত মাত্তাব্বর! এমন অনেক আবার পেয়ে যাবেন যে, খাবেই না! মা, খালারা যেভাবে কেটে রান্না করে আসছেন সেভাবেই হতে হবে, নাইলেই আর তার পছন্দ হবে না! সারা দুনিয়াতে খাবার দাবারে কত ভিন্নতা এসেছে, পরিবেশনায় কত কি আসছে কিংবা কত কি রান্না হচ্ছে, সেটা আমরা আমাদের এই দেশে এখনো অনুমান করতেও পারছি না! আমাদের রুচি সেই বসেই আছে! বললে কত কথা বলা চলে, মাঝে মাঝে মনে হয় রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিরাট ভাষন দিয়ে দেই এই জাতিকে নিয়ে! এই জাতি কি আর দাঁড়াবে না! এই জাতি কি এভাবেই চলবে! কিন্তু আবার ভাবি, এভাবে বললে তো আবার পাগল বানিয়ে দিবে! অন্যদিকে সরকার বাহাদুরের বিপক্ষে গেলেই তো গুম করে ফেলবে! হা হা হা…।

চলুন আজ একটা সাধারন চা রান্না দেখি, সাথে পুদিনা পাতা! অফিস ফিরে রাতে নিজেই বানিয়ে পান করতে পারেন বেল্কনিতে দাঁড়িয়ে কিংবা যারা মেসে থাকেন তারা হাতে একটা গল্প বই নিয়ে! পুদিনা চা এখনো আমাদের দেশে তেমন একটা জনপ্রিয়তা পায় নাই, অনেকে তো এই চা দেখেই কত কি বলে দিবে! পুদিনা পাতার চা আমি প্রথম পান করেছিলাম থাইল্যান্ডের বাজধানী ব্যাংককে।  যতদুর মনে পড়ে ১৯৯৫ সাথে যখন প্রথম যাই তখন, এইটুকু মনে আছে, সুকুম্ভিত রোডের বড় কোন হোটেলে! বেশ বড় কাপে এই চা পরিবেশন করা হয়, সারা চা সাবাড় করা সহজ ছিল না! তার পর অবশ্য এখন ঢাকার কিছু পাড়া মহল্লায় এমন পুদিনা পাতা দিয়ে চা পরিবেশন করা হয়, সাথে আদা যোগ করা হয় বা আরো কিছু লেবুর রস! না, আজ আপনাদের খুব সাধারন চাই দেখাবে।  রঙ চা’য়ের সাথে পুদিনা পাতা! আমার বেশ ভাল লাগে, বিশেষ করে পুদিনা পাতার ঘ্রান মনে বেশ আনন্দ দেয়! চলুন দেখে ফেলি! ছবি দেখেই আশা করি বুঝে যাবেন!


ছবি ১ঃ পুদিনা পাতা ধুয়ে পরিস্কার করে নিন।


ছবি ২ঃ পানি গরম করুন (কাপের পরিমান নিজেই বুঝে নিন, কয় কাপ বানাবেন!)


ছবি ৩ঃ চা পাতা দিন, চা পাতা কম দিন, রঙ বেশি কালো না করাই ভাল।


ছবি ৪ঃ এবার কয়েক দফা ফুটিয়ে নিন, পাশাপাশি চায়ের কাপ রেডি করে ফেলুন।


ছবি ৫ঃ চিনি নিন, পরিমান বুঝে! চিনি কম ভাল!


ছবি ৬ঃ এবার চায়ের কাপে ঢালুন।


ছবি ৭ঃ চিনি মিশিয়ে নিন।


ছবি ৮ঃ যিনি পুদিনা পছন্দ করেন, তার কাপেই পুদিনার পাতা দিন।


ছবি ৯ঃ ব্যস, হয়ে গেল! চলুন বারান্দ্রায়, ওই যে দূরের আকাশে অনেক তারা! আজ কি আকাশে চাঁদ নেই!

সবাইকে শুভেচ্ছা।  আনন্দে কাটুক আপনাদের সারা জীবন, ভাল থাকুন।

Advertisements

One response to “রেসিপিঃ পুদিনা চা (মনের আনন্দ)

  1. ধন্যবাদ, ভাই! আজকে চেস্টা করেছি! জীবনে প্রথম হলেও চা পান থুব ভালো লেগেছে!

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s