গ্যালারি

রেসিপিঃ গুল্লা মাছের সাধারন রান্না/ গুলশা মাছ বা বড় টেংরা মাছ রান্না


আমার মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে, যদিও আমরা স্বাধীন দেশে আছি, আসলে আমরা প্রায় প্রত্যেকেই পরাধীন জীবন যাপন করছি! এই স্বাধীন দেশে আমরা প্রথম মহা সমস্যায় আছি খাদ্য নিয়ে, আমাদের প্রায় খাদ্যেই ভেজাল। প্যাকেটজাত বলুন আর বাজারজাত, সবাই খাদ্য প্রস্ততুতে মহা আনন্দে ভেজাল বা ক্ষতিকর দ্রব্য মিশিয়ে চলছে! শরীর সেটা কত সহ্য করবে!

তার পর তো আছে, সরকারের চাপ, দম বন্ধ ঘুমেট, প্রান খুলে নিশ্বাস নিলেও যেন ধরে ফেলবে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাও দায়, এই বুঝি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাবে! কিংবা কেহ এসে নিয়ে যাবে মোবাইল, মানিব্যাগ, হাত ঘড়ি! শহরের প্রায় অলি গলি কাটাসাটা, এই বুঝি কাদা ছিটিয়ে গেল, রিক্সার চাকা পায়ের পাতায় উঠে গেল!

আজকাল স্ত্রীর চাপে তো মন খোলাই যায় না, উন থেকে চুল খসলেই মুখ কালো, স্কুল পড়ুয়া সন্তানের আচার আচরণে ঘরে ফেরাই দায়! অন্যদিকে মায়ের জন্য কিছু না করতে পারা, ভাই বোনদের জন্য কিছু না করতে পারা, সব কিছু মিলিয়ে কত আর সহ্য হবে!

রুজি রোজগারের জায়গা গুলো ভয়াবহ, ব্যবসা মানেই জালিয়তি! চাকুরী মানেই গোলামী! চাকুরী সরকারী হলে এখন অনেক সতর্ক, বিবেক বন্ধক দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে! বেসরকারী চাকুরীতে প্রবেশের সময় ফিঙ্গার প্রিন্ট থাকলেও ফেরার সময় নেই, মানষিক বিরাট চাপেই!

পঞ্চাশ পেরিয়েই মনে হচ্ছে দুনিয়া শেষ হয়ে যাচ্ছে বা গেছি! আজ এই বন্ধু নেই, সে নেই, কাল সেই বন্ধু হার্ট এটাক, ওর রিং পরানো হল, ওর পেট ফুলে যায় যায় অবস্থা, ও হাসপাতালে ক্যান্সার, আলসার ইত্যাদি ইত্যাদি! আচ্ছা বলুন তো পঞ্চাশ কি বা বয়স! এই বয়সে তো নানান অভিজ্ঞতা অর্জন করে সফল জীবন শুরু করার কথা! অথচ এই বয়সেই আমার বন্ধুরা একে একে চলে যাচ্ছে, আমিও লাইনে পড়ে আছি!

আমাদের আরো কত কি করার ছিল, কত কি লেখার ছিল, কত কি দেখার ছিলো, কত কি খাবার ছিলো! কি অহেতুক একটা একটা জীবন পার করে দিচ্ছি আমরা, প্রিয় বাংলাদেশে!

যাই হোক, আসলে আমাদের এখন আর কিছু করার দেখছি না! একদিন দেশে সুশাসন আসবে, সুব্যক্তি দ্বারা দেশ শাসন হবে এই আশা করি, হয়ত আমরা সেই দিন থাকবো না।  আমাদের সন্তানেরা হয়ত সেই সুদিন ভোগ করবে! আমাদের সন্তানেরা হয়ত সে দিন আনন্দ/গর্ব করে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ ছেড়ে কোথায়ও যাবার কথা বলবে না!

চলুন যারা এই পর্যন্ত পড়ে আসছেন তাদের জন্য আজ একটা রেসিপি দেই।  খুব সাধারন রেসিপি, গুল্লা মাছের সাধারন রান্না।  সেই একই কথা যারা রান্না শিখতে চান বা রান্না করবেন ভাবছেন তাদের জন্যি এই রান্না, তেমন কঠিন বা জটিল রান্না নয়, খুব হালকা ও সহজ রান্না। চলুন দেখে ফেলি!

পরিমান ও উপকরনঃ
– মাছ, ৯/১০টা
– পেঁয়াজ কুচি, মাঝারি দুইটা
– রসুন পেস্ট, এক টেবিল চামচ
– মরিচ গুড়া, ঝাল বুঝে, হাফ চা চামচ
– হলুদ গুড়া, এক চা চামচের সামান্য কম
– জিরা গুড়া, হাফ চা চামচ
– টমেটো, মাঝারি দুইটা
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা
– ধনিয়া পাতা কুচি, পরিমান মত
– লবন, পরিমান মত
– তেল, কয়েক টেবিল চামচ (কম তেলেই রান্না করুন)
– পানি, পরিমান মত

প্রানালীঃ ছবি কথা বলে

ছবি ১, কড়াইতে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি ভেঁজে নিন, এই সময়ে সামান্য লবন এবং রসুন পেস্ট দিয়ে ভাল করে ভেঁজে নিন।  পেঁয়াজের রঙ হলদে হয়ে যাবে।


ছবি ২, এবার হাফ কাপ পানি দিয়ে দিন।


ছবি ৩, মরিচ গুড়া, জিরা গুড়া ও হলুদ গুড়া দিন, নাড়াতে থাকুন।


ছবি ৪, এবার টেমেটো দিন, সাথে কয়েকটা কাঁচা মরিচ।


ছবি ৫, কেটে ধুয়ে রাখা মাছ গুলো এভাবে বসিয়ে দিন।


ছবি ৬, আলতা করে নাড়িয়ে আরো হাফ কাপ পানি দিন।


ছবি ৭, এবার মিনিট ৮/১০ এর জন্য ঢেকে রাখুন।


ছবি ৮, আগুন মাঝারি।  (এটা আমার প্রিয় ছবি)


ছবি ৯, ব্যস, ফাইন্যাল লবন দেখুন।  ঝোল কেমন রাখবেন তা নিজেই ঠিক করুন। আরো কয়েকটা কাঁচা মরিচ এবং ধনিয়া পাতার কুচি ছিটিয়ে দিন।


ছবি ১০, হয়ে গেল!


ছবি ১১, গরম গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।  নাজিরশাইলের সরু চালের ভাতের সাথে হলে তো কোন কথাই নাই! আপনাকে আর কে পাবে, আরামসে একাই সব মাছ গুলো সাবাড় করে দিতে পারবেন! তবে, আশে পাশে কেহ থাকলে খবর রাখবেন!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s