গ্যালারি

রেসিপিঃ মাগুর মাছ ও আলু ঝোল (কুমিল্লা ষ্টাইল)


কুমিল্লা স্টাইল দেখে অনেকে হয়ত ভাবছেন, এ আবার কি গো! আসলে আমার অভিজ্ঞতায় যা বলে তা হচ্ছে, কুমিল্লায় যত ধরনের মাছ রান্না হয়ে থাকে তার প্রায় সবই ভেঁজে রান্না হয়ে থাকে, কি জ্যান্ত কিংবা মরা।  সাধারনত নানা জেলায় মরা বা সামান্য নরম হয়ে যাওয়া মাছ ভেঁজে রান্না হয়ে থাকে, এই জেলায় প্রায় সব মাছই ভেঁজে পরে রান্না হয়ে থাকে! হা হা হা, এখন আপনি হয়ত আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, আমি এটা জানলাম কি করে! ভাইরে, সবই অভিজ্ঞতা রে! যাই হোক, সেই আলাপ না হয় আর একদিন করবো! সবই কপাল!

চলুন দেখে ফেলি, খুব সহজ রান্না, অনেক ছবি দিবো বা দিচ্ছি।  আশা করি ছবি দেখেই বুঝে যাবেন।  চলুন।

উপকরন ও পরিমানঃ
– মাগুর মাছঃ ৪/৫টা (আপনার ইচ্ছা মত সাইজ করে কেটে পরিস্কার করে নিন)
– আলুঃ মাঝারি কয়েকটা
– পেঁয়াজ কুচিঃ মাঝারি তিনটে, ইন্ডিয়ান হলে আরো বাড়িয়ে দিন।
– রসুন বাটাঃ ২ টেবিল চামচ (দেশি), ইন্ডিয়ান হলে বাড়িয়ে দিন
– আদা বাটাঃ হাফ চা চামচ (সাধারণত মাছে অনেকেই আদা দেন না, তবে মাছের ঘ্রান ভিন্ন করতে আদা মন্দ নয়)
– লাল মরিচ গুড়াঃ হাফ টেবিল চামচ (ঝাল বুঝে, কম দেয়াই ভাল)
– হলুদ গুড়াঃ দেড় চা চামচ, মাছেও কিছুটা লাগবে
– জিরা গুড়াঃ এক চা চামচ (স্বাদ ভাল হয়)
– কাঁচা মরিচঃ ৫/৭ টা
– ধনে পাতার কুচিঃ দুই টেবিল চামচ কম বা বেশি
– লবনঃ পরিমান মত, প্রথমে হাফ চা চামচ দিয়ে রান্না শুরু করা যেতে পারে, পরে স্বাদ দেখে দেয়া যেতে পারে
– তেলঃ ৮/১০ টেবিল চামচ (কম তেলেই রান্না ভাল)
– পানি (এক কাপ, যদি একটু বেশী ঝোল রাখতে চান তবে পানি বাড়িয়ে দিতে পারেন)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)
প্রথম ধাপঃ মাছ ভেজে তুলে রাখুন।
IMG_20170505_134251
ছবি ১; মাছ কেটে ভাল করে পুরিস্কার করে ধুয়ে সামান্য লবন এবং হলুদ দিয়ে মাখিয়ে রাখুন।


ছবি ২; তেল গরম করে এভাবে মাছ আধা ভাজা করে তুলে রাখুন।


ছবি ৩; মাছ ভাঁজতে সব সময়েই সাবধানতা অবলম্বন করুন। যে কোন সময়ে তেলের ছিটা বা মাছ ফুটে গ্রম তেল গায়ে পড়তে পারে, ফলে এই কাজটা সাবধানে করুন।

২য় ধাপঃ আলু ঝোল রান্না

ছবি ৪; রান্না শুরু করুন, কড়াইতে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি ভেজে, হাফ চা চামচ বা কম লবন, আদা এবং রসুন দিয়ে আরো ভেজে নিন।


ছবি ৫; পেঁয়াজের রঙ হলদে হয়ে আসবে।


ছবি ৬; এবার হাফ কাপ পানি দিয়ে দিন।


ছবি ৭; একবার ফুটে গেলে এবার মরিচ গুড়া, হলুদ গুড়া ও জিরা গুড়া দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ৮; কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিতে ভুলবেন না। মিনিট কয়েক মাঝারি আঁচে রাখুন।


ছবি ৯; এবার কেটে ধুয়ে রাখা আলু দিন।


ছবি ১০; মিশিয়ে নিন, কয়েক মিনিট ঢাকনা দিয়ে রাখুন।


ছবি ১১; এবার দুই কাপ বা পরিমান মত পানি দিন, ঢাকনা দিন, আলু হাফ সিদ্ধ হয়ে পড়ুক।


ছবি ১২; এভাবে দেখাবে।

মাছ মিক্সঃ

ছবি ১৩; এবার ভেঁজে রাখা মাছ দিয়ে ভাল করে নাড়িয়ে মিশিয়ে দিন।  আগুন মাধ্যম আঁচে রাখুন, কড়াইয়ের হাতল ধরে নাড়ানো ভাল, মাছ ভেঙ্গে যাবে না।


ছবি ১৪; আরো কয়েক মিনিট ঢাকনা দিন, আগুন বাড়িয়ে দিতে পারেন।


ছবি ১৫; এই অবস্থায় এসে যাবে।


ছবি ১৬; ফাইন্যাল লবন দেখে নিন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলে এগিয়ে চলুন, আগুন কমিয়ে নিন।


ছবি ১৭; ধনিয়া পাতার কুচি দিন। ব্যস, হয়ে গেল।

পরিবেশনাঃ

ছবি ১৮; পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৯; গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন। খাবারের মজা নিন।

সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের সাথে থাকুন, আমরা আসছি আরো আরো মজাদার ঘরের খাবার রান্না নিয়ে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s