গ্যালারি

রেসিপিঃ সাদা ভাত (হোটেলের ভাত রান্নার করসাজি!)


আমরা মাঝারি বা বড় মানের হোটেল গুলোতে ভাত খেতে গেলে খুব ঝরঝরে এবং কিছুটা সুগন্ধি যুক্ত ভাত পেয়ে থাকি। এই ভাত খেতে খুব ভাল লাগে, ভর্তা দিয়ে শুরু করে শেষে পাতলা ডাল দিয়ে প্রায় তিন প্লেট শেষ করে ফেলা যায় অনায়েশে! খেতে বসে বিলের চিন্তা মাথায় আসে না! হা হা হা, পরে দেখা যায় এক ডিস (প্রায় দুই প্লেট) ভাতের দাম একশত থেকে দেড়শত টাকা! যাই হোক, হোটেলের এই ভাত খেয়ে একবার অভস্থ্য হয়ে পড়লে ঘরের ভাত আর মুখে লাগে না! ঘরের ভাত সব সময়ে ঝরঝরে হয় না বলে মনে উলটা পালটা কথা এসে যায়! আসলে ঘরে যেভাবে রান্না হয় হোটেলে সেভাবে রান্না হয় না! হোটেলের প্রায় সব খাবার একটু ভিন্ন করে (সব একই প্রায়) রান্না হয়, কারন হোটেলের রান্নার উপর মানুষের বা কাষ্টমারের আগমন নিশ্চিত হয়। আবার হোটেলের রান্না হয় পিস ভেদে, সময় নির্ধারন করে! বাসা আর হোটেলে রান্নার কিছুটা ভেদাভেদ আছেই! যাই হোক, আজকে আমি আপনাদের দেখিয়ে দেব কিভাবে হোটেলে ভাত রান্না হয়ে থাকে (আমি যে হোটেল গুলোর কথা বলছি এগুলো ধাকার মাঝারি এবং বড় মান বা দামের হোটেল)!

গত কিছু দিন আগে এমনি আমার কথা হয়, একজন হোটেল শেফের সাথে, তিনিই আমাকে এভাবে বলেছেন। আমি ঘরে রান্না করেছি, পরিমান অল্প। হোটেলে ভাত রান্নার একটু ব্যাপক আয়োজন হয়ে থাকে। বিশেষ করে দুপুর এবং রাতের খাবার শুরুর আগেই ভাত রান্না করা হয় বা কোন কোন হোটেলে রান্না চলতেই থাকে, যাতে কাষ্টমারদের গরম গরম ভাত পরিবেশন করা যায় এবং প্রায় হোটেলেই সরু চাউল নিধারন করে নেয়া হয়! চলুন, রান্না দেখে নেই। আপনারা এই ভাত রান্না প্রতিদিন দেখে থাকেন, রান্নায় কোন নূতনত্ব নেই! চলুন দেখে ফেলি!

উপকরন ও পরিমানঃ
(পরিমান আপনি নিজেই নির্ধারন করতে পারেন)
– চাল বা চাউল (ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন)
– তেজপাতা (ভাল তেজপাতা হতে হবে)
– সামান্য লবন (স্বাদ ভাল করে)
– সয়াবিন তেল (ঝর ঝরে হয়)
– পানি (যেহেতু রান্নার পর মাড়/পানি ঝরিয়ে ফেলতে হয় কাজেই পানি একটু বেশি হোয়া উচিত)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১; পাতিলে পানি নিন এবং চুলায় আগুন দিয়ে পানিতে ধুয়ে রাখা চাউল দিন।


ছবি ২; প্রাথমিক অবস্থা, পাতিলে চাউল ও পানি।


ছবি ৩; এবার তেজপাতা, লবন (পরিমান আপনি বুঝে নিন), তেল (সামান্য) দিন।


ছবি ৪; আগুন চলবে।


ছবি ৫; ভাত রান্নায় চুলার ধার ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়, সামান্য ভুলে উপছে পড়বে, ভাত নরম হয়ে যাবে এমন কি পুড়েও যেতে পারে! মাঝে মাঝে এভাবে চাউল তুলে টিপে দেখে নিন। ভাতের হাড়ির কয়েকটা ভাত দেখে বা টিপেই সারা হাড়ির অবস্থা জানা যায়।


ছবি ৬; ব্যস, এভাবে মাড় ফেলে দিন, বাসায় আমরা যেভাবে মাড় ফেলি সেভাবেও ফেলতে পারেন। হোটেলে এভাবে মাড় ফেলা হয়ে থাকে, এতে সময় বাঁচে, কাহ হয় জলদি। (এই কাজে সতর্কতা অবলম্বন জরুরী, ধীরে করুন, জীবন আপনার, আপনাকেই সব সময়ে সতর্ক হয়ে চলতে বা কাজ করতে হবে) (নিন্মে আর একটা লিঙ্ক আছে, সেখানে আরো ভাল করে দেখানো হয়েছে)


ছবি ৭; এভাবে মাড় ঝরে যেতে দিন।


ছবি ৮; হোটেলে এই কাজে বড় ঝাযরি ব্যবহার করা হয়ে থাকে!


ছবি ৯; পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১০; ঝরঝরে ঘ্রান পাবেন।


ছবি ১১; আমাদের আজ দুপুরের খাবার।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

ভাত রান্নার আরো একটা রেসিপি দিয়েছিলাম, সেখানেও অনেক গল্প আছে – রেসিপিঃ সাদা ভাত রান্না (গল্প নয় সত্যি)!

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

9 responses to “রেসিপিঃ সাদা ভাত (হোটেলের ভাত রান্নার করসাজি!)

  1. ধন্যবাদ ভাইয়া

    Liked by 1 person

  2. কতকাল কতযুগ পরে এই সাইটে ঢুকতে পারলাম,কত মিস করছি!
    যাক অনেক শান্তি লাগছে,,,,,

    Liked by 1 person

  3. Bhaia…..ami office a esei pritidin apner kono notun likha ache kina dekhi…..but 2017 te apni khub kom likha post korechen….amr office a net a kno problem holei IT department amake khepai (ki apa ? apni Udrajir rann dekhte Parchen na —ata bole.) apner Lekha porte bhalo lage bhaia… thnks..vhalo Thakben.

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন। আপনার লেখাটা ফেবুতে স্ট্যাটাস হিসাবে উঠিয়ে দিলাম (আপনার অনুমতির অপেক্ষা না করেই)।

      গল্প ও রান্না’য় এক বোন লিখেছেন, “ভাইয়া, আমি প্রতিদিন অফিসে এসেই আপনার কোন নুতন লিখা আছে কি না দেখি। কিন্তু ২০১৭তে আপনি খুব কম লেখা পোষ্ট করছেন। আমার অফিসে নেট এ কোন প্রোব্লেম হলেই আইটি ডিপার্ট্মেন্ট আমাকে খেপায় (বলে – কি আপা, উদরাজীঘরের রান্না দেখতে পারছেন না!) আপনার লেখা পড়তে ভাল লাগে ভাইয়া। ধন্যবাদ, ভাল থাকবেন।”

      Like

  4. Thanks vaia…. aj r akta sotti kotha boli…jedin theke apner likha pori.(2012)…rat a gia ki ranna hobe jokhoni vabtam(seta office a bikelei tention suru hoie jai) tokhoni apner ranna akto dekhi,,,..basai ki sobji ache…seta dia ki ranna kora jai setar idea nia nei. r akhn to 2 ta babyr ma ami…akhn aro beshi dorker… babyter khaber,boro konner khaber,,,babur babar khaber…..apner likha te pic thakai ak nojore bujte para jai……Bier age ami rannai partamna(6 bhai er bon choto bon ami) r akhn akto akto pari. thanks again bhaia….Allah apner poriber ar sobiake vhalo rakhnon.

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন, শুভেচ্ছা নিন। একটা ছোট বুদ্ধি(!) দেই, আমাদের ছোট ভাইকে (আপনার স্বামীকে)ও রান্নায় ইনভলভ করে নিন, এতে আপনাদের সময় ভাল কাটবে এবং আপনারো সময় বাঁচবে। তবে এই ব্যাপারে আপনাকে অনেক ধৈর্য দেখাতে হবে কারন ছেলেরা রান্না করতে চায় কিন্তু প্রথম প্রথম অনেক এলোমেলো হয় ফলে অনেক নানান রকমের বিরক্তি করে ফেলে। তাকে উৎসাহ এবং ইচ্ছানুয়াযী কাজ করতে দিন, দেখবেন এক সময়ে আপনারই নানান রকমের উপকার হচ্ছে বা হবে। যাই হোক, আশা করি আপনাদের আনন্দে সময় কাটবে। রান্না বিষয়ক যে কোন সমস্যায় আমাদের লিখে জানাবেন, আমরা আছি। শুভেচ্ছা নিন।

      Like

  5. Thanks vhai.Amr husband ako sick thak a ,Tai kost dite chai na …but o onk vhalo manus bhaia.

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s