গ্যালারি

কৈফিয়তঃ ৩৫ লক্ষ হিট বা ভিউয়ার কাউন্ট ও কিছু কথা


অনেক দিন কাল সময় পার হয়ে যাচ্ছে, আমি আর লিখতে (আমার লেখার কোন মুল্য নেই অবশ্য, ‘টয়লেট টিস্যুর মুল্য আছে, ব্লগে লেখার মূল্য নেই’,  এটা এক বন্ধুর কথা অবশ্য) পারছি না, সাথে রান্নায় কোন মনোযোগ নেই। আগে বাসায় ফিরেই রান্নার প্রতি একটা আকর্ষন বোধ করতাম, এখন আর তা নেই, যা পাচ্ছি তাই খাই, ঘরের খাবারের শারীরিক উপযোগিতা জেনেও হোটেলের খাবারে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি!

যাই হোক, তবুও বার বার ভাবি আবারো ‘গল্প ও রান্না’য় ফিরে আসি, না পারি না। আজ কয়েকদিন ধরে শুধু ভেবেই চলছি! ব্লগে ৩৫ লক্ষ হিট বা ভিউয়ার কাউন্ট হয়ে গেল অথচ আমি আকর্ষন বোধ করছি না! আপনাদের ভালবাসার শুভেচ্ছা জানানো দরকার তাও বুঝে, না বুঝার ভান করে আছি! আপনাদের ভালবাসার প্রতিদান আসলে আমার পক্ষে দেয়া কোন মতেই সম্ভব নয়, তা আমি জানি। আপনারা আমার লেখা ভালবাসেন, আমার কর্ম ভাল চোখে দেখেন এটাই শেষ কথা। আপনি ব্লগে উপস্থিত আছি কি নাই, সেটা এখন আর মুখ্য বিষয় নয়। আপনারা মাঝে মাঝে এসে দেখে যান, এই আনন্দ কোথায় রাখি। এখনো প্রতিদিন সারা দুনিয়ার নানান প্রান্ত থেকে প্রায় দুই হাজার ভিউ বা জনা ১২শত মানুষ এসে থাকেন এই ব্লগে এটা কম নয়, পারসোন্যাল ব্লগে এই সংখ্যা অনেক বিরাট ব্যাপার। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন। আপনাদের প্রতিটা সময় কাটুক আনন্দে।

তারপর চলুন, আরো কিছু কথা বলি। কেন আজকাল আরো আরো লিখে বা এই রান্নাঘরের উন্নতি সাধন করছি না! কারন গুলো বলে আমি আপনাদের আরো ভালবাসা চাইছি মাত্র! হা হা হা…

১। জীবন আসলে যেভাবে কাটিয়ে দেব ভেবেছিলাম, আসলে জীবন সেভাবে নাই! জীবনে বেঁচে থাকতে হলে যে টাকার পিছনে এত দৌড়াতে হবে সেটা জীবনের প্রথম ধাপে ভাবতে পারি নাই, বার বার ভেবেছি, চলে যাবে! কিন্তু না, সারা জীবনেই যে একজন পুরুষ মানুষকে টাকা কামিয়ে যেতে হয় তা এখন বুঝি মাত্র! আজকাল টাকার পিছনে সময় দেয়াকেই মুখ্য মনে হয়! বিবাহের পর টাকার গুরুত্ব বুঝেছিলাম, প্রথম সন্তান হবার পর সেটা দৃঢ় হয়েছিল আর এখন ২য় সন্তান হবার পর বুঝেছি, টাকা ছাড়া আমার আর দুনিয়াতে অন্য কোন কাজ নেই! তাদের জন্য বা নিজের জন্য চাই শুধু টাকা আর টাকা! (আশা করি বুঝতে পারছেন, আপনাদের যারা এখনো টাকার হিসাবটা বুঝেন না তাদের কাছে অনুরোধ, এই টাকার হিসাবটা আগেই বুঝে নিন, ফলে বয়স বাড়ার পর আর আমার মত এট টেনশনে থাকতে হবে না!)

২। রান্না করতে সময়ের দরকার, আবার ব্লগ লিখতেও সময়ের দরকার! অফিসে তো আর লেখালেখির কাজ করা যায় না, বেমানান! তথাপি যদিও ঘরে কিছুটা সময় বের করি, স্ত্রী পুত্রদের ক্যা, ম্যা, চ্যা’তে আর বসতেই মন চায় না! হেতেরা আমারে কম্পিউটারে বস্তে দেখলেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে! আমি শান্তি প্রিয় লোক, ফলে নিজকে সরিয়ে রাখি! হা হা হা…

৩। আপনারা জানেন যে, এই ‘গল্প ও রান্না’ সাইট সম্পূর্ন ফ্রী এবং আমিও ওয়ার্ডপ্রেস থেকে ফ্রী বানিয়ে নিয়েছি আর ছবি গুলো থাকে নানান  ফ্রী সাইটে, লিঙ্কের মাধ্যমে সেই ছবি গুলো সাইটে ভিউ হয়। আজকাল আর কোন সাইট ছবি ফ্রী রাখতে দিচ্ছে না, আগের রাখা ছবি গুলোকেও আর ভিউ করতে দিচ্ছে না ফলে একটা বিব্রত অবস্থায় আছি। অনেক লেখার ছবি গুলো আর আপনারা দেখতে পারছেন না! যারা অনলাইন বিষয়ে অনেক জ্ঞান রাখেন তারা আমার অবস্থা বুঝতে পারবেন! যাই হোক, আমি নুতন পথ আবিষ্কারের আশায় আছি, দেখা যাক ছবি গুলো অন্য কোথায় বা পেইড একাউন্টে চলে যাওয়া যায় কিনা! পেইড একাউন্টে গেলে ছবি গুলো দেখা যাবে আগের মত তবে এই ব্যাপারে মেরিকা, কানাডার কোন বন্ধুর হেল্প (টাকা নয় সহযোগিতা) নিব হয়ত! এখানেও কিছুটা সময় লাগবে! (আপনারা যারা ছবি দেখা যাচ্ছে না লিখছেন, আশা করি আপনাদের এখন জানা হয়ে গেছে)

৪। এই সাইট শুরু করেছিলাম, শুধু প্রবাসী, দেশী ব্যাচেলর ভাই বোনদের জন্য, যাদের রান্না প্রয়োজন কিন্তু কিভাবে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না! আমার উদ্দেশ্য ছিল শুধু  আমাদের ঘরের রান্নার ধাপ গুলো দেখিয়ে দেয়া, বাকীটা আপনাদেরই। আমি মনে করি আমার প্রায় সাড়ে নয়শ লেখায় আমি সেটার কিছুটা হলেও করতে পেরেছি! এক পদের মাছ যদি আপনি রান্না করতে পারেন তবে বাকী পদের মাছ রান্না কোন ব্যাপার নয় বলেই আমি আপনাদের জানাতে চেষ্টা করছি।

৫। আপনারা অনেকেই রান্নায় সফল হয়েছেন জেনে অনেক আনন্দিত হই। অনেকে আমাকে প্রকাশ্যে লিখে তা জানিয়েছেন, আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আসলে রান্না হচ্ছে ভালবাসার অপর নাম। আপনি যদি এই ভালবাসা পেতে চান তবেই হল। আপনার ইচ্ছাই আপনাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। প্রিয়জনদের রান্না করে খাইয়ে হাসি ফুটালে যে আনন্দ পাওয়া যায়, তা দুনিয়াতে একটা বিরল ভালবাসা! বৃদ্ধ মা বাবাকে সন্তান (বিশেষ করে ছেলে সন্তান, আমি ছেলেদের রান্নায় সব সময়েই উৎসাহ দিয়ে আসছি) রান্না করে খাইয়ে দিলে, কি আনন্দ তা বলে বা লিখে বুঝানো যায় না!

৬। আপনারা অনেক সময় আমার কাছে অনেক কিছু জানতে ফোন, মেইল, মেসেজ বা ফেইসবুকে লিখেছেন, আমি উত্তর দিতে সব সময়ে ভালবাসি তবে কিছু উত্তর আমি দিতে পারি নাই বা সময়মত উত্তর দিতে পারি নাই। এই বিষয়টা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে আমি আনন্দিত হব বা আমাকে ক্ষমা করবেন।

৭। খাদ্যে ভেজাল নিয়ে আমাদের সংগ্রাম চলবেই, যারা খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছে তাদের খোঁজ পেলেই সংগ্রামী হয়ে উঠুন।

পরিশেষ, আবারো ফিরে আসার চেষ্টা করছি, আপনাদের দোয়া কাম্য, আমার চেষ্টা অবহ্যত আছে, থাকবে। আপনাদের ভালবাসা কাম্য!

শুভেচ্ছা ও ভালবাসা থাকলো।

 

Advertisements

6 responses to “কৈফিয়তঃ ৩৫ লক্ষ হিট বা ভিউয়ার কাউন্ট ও কিছু কথা

  1. অনেক দিন পরে আপনার লিখা পড়লাম। মনটা বেশ খারাপ মনে হচ্ছে। হ্যা জীবনে টাকা একটা বড় ফ্যাকটর, যা দিনকে দিন বাড়তে থাকে কমার লক্ষন নাই। আমার বিচিত্র জীবনে নানান দিকে রোজগারের চেষ্টায় অনেক জয় পরাজয়ের পরেও গত দশ বছর আমি একটা অনলাইন পত্রিকা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। অবশ্যই ব্যায়বহুল বিষয় যা আপনি বুঝবেন কিন্তু এখান থেকে এক পয়সাও আসে না। তারপরও চালিয়ে যাচ্ছি নানান ব্যস্ততার মধ্যে কেন যেন এখানে শান্তি খুজে পাই। আর বউ, বাচ্চা, শান্তি, ব্যস্ততা, সব নিয়ে তো সংসার। আমি ওদের, ওরা আমার, কিন্তু আমার কাজটা সবার, যা আমার আত্মাকে তৃপ্তি দেয়। কাজের প্রতি ভালবাসা আসলে হেরোইনের নেশার চেয়েও খারাপ। তাই ফ্যামিলিকে সময় দিয়েও সেখান থেকে ধিরে ধিরে নিজের জন্য একটু একটু করে সময়বের করে নিতে শিখেছি। ওরা বড় হবে, মানুষ হবে, অনেক নাম ডাক হবে, আমার বউ নাতি নাতনি নিয়ে ভীষণ বিজি থাকবে। একদিন মানুষ ওদের বাবাকে ভুলে যাবে। তাই নিজের পৃথিবীতে পরিচয় দৃড় করার প্রত্যয়ে এখনও আমার নেশাকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি। আপনার কো অনেকে ফোন করে আপনার কাজের সুনাম করে, আমি যে অঞ্চলে থাকি সেখানে এসবের আশা করা বৃথা। এই এলাকা দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে অন্তত ৮০ বছর পিছিয়ে। হয়তো আমার চেষ্টাই এদেরকে সামনে এগিয়ে আসতে সাহায্য করবে। তাই কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন শরীর অকেজ না হয় এভাবেই চালিয়ে যাবো।

    Liked by 1 person

  2. আস্সালামুআলাইকুম ,
    কোনো একসময় আমার রান্না ছিল অনেকটা ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাঁচি টাইপের মনে হয় ফেবুর মাধ্যমে আপনার প্রথম লেখা পেয়েছিলাম সেই বহুত আগে
    সেই থেকে আমার কাছে রান্না আর বিরক্তি নয় উপভোগের বিষয় হয়ে গেছে ,
    অনেক কষ্ট করে (কাতার এর গরম) পকেটের টাকা খরচ করে নিজের রান্না অন্যকে জোর করে খাওয়ানোর পর প্রশংসা শুনার অপেক্ষা করা
    আর এতে যে কি আনন্দ কি তা রান্না শেখার পর বুঝতে পারি
    গত কাল চিকেন ফ্রাইড রাইস রান্না করলাম, দাওয়াত দিয়েছি চার জনকে এসেছে দুইজন , ব্যস্ত দুনিয়া কিছুই করার নেই ,
    ফটো ছাড়াও চলে আমার কারণ পাকা রাঁধুনি হয়ে উঠতে পারিনি কিন্তু আপনার লেখার ইশারায় এখন ফটো ছাড়াও রান্না করতে পারি , কিন্তু ঝামেলা হয়ে যাবে যারা একদম নতুন তাদের জন্য , তাছাড়া ইমেজ ছাড়া পোস্ট প্রাণহীন মনে হয়
    আমার মাথায় একটা আইডিয়া আছে
    জানিনা আপনি বিষয়টা কিভাবে দেখবেন
    আপনি একটা ডোনেট বাটন রাখতে পারেন
    এই সামান্য খরচ আপনি নিজেই বহন করতে পারবেন জানি
    কিন্তু কৈ এর তেল দিয়ে কৈ ভাজলে অসুবিধা কোথায়
    জীবিত থাকে udrajirannaghor

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ জাহাঙ্গীর ভাই,
      আপনার কথা আমার মনে আছে, আপনি আমাকে আগেও একবার লিখেছিলেন। আমি নিজেও প্রবাসী হয়েছিলাম প্রায় ১০ বছরের জন্য। আমি জানি রান্না না জানার ফলাফল। আমার টার্গেট হচ্ছে, প্রবাসী এবং ব্যচেলর ভাই বোনেরা, যাদের কাছে রান্নার সব আছে কিন্তু সাহস নাই, আমি সেই সাহস যোগাতে চাই মাত্র!
      শুভেচ্ছা আপনাকে।

      Like

  3. আমার নিয়মিত আশা হয় কিন্তু কমেন্ট হয় না , এই তো গতকাল আপনার হোটেলের ভাতের রেসিপি ট্রাই করলাম , আমার রুমমেট তো অবাক
    ধন্যবাদ ছাড়া দেয়ার আর আছে কি ,
    তাই ধন্যবাদ উদরাজী পরিবার কে

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s