গ্যালারি

রেসিপিঃ কাতলা মাছের পেটি/টুকরা রান্না (সাধারন ও সহজ রান্না)


নিজের একা ভাল থাকার মধ্যে প্রকৃত সুখ নেই, আমি নিজে ভাল খাবার খেতে পারছি, ভাল পরতে পারছি, পাশে অনেকেই অনাহারে অর্ধাহারে আছে, সুখ আসে কি করে? সমাজ বা রাষ্ট্র ভাল না থাকলে মনে সুখ আসতে পারেই না! আমি এমনি একটা অবস্থার মধ্যদিয়ে যাচ্ছি! এখন সব আছে, কিন্তু কিছুই আর ভালবেসে করতে পারছি না! প্রিয় বিষয় লেখালেখি কিংবা ‘গল্প ও রান্না’, সব কিছুতেই একটা ভাটা পড়ে আছে!

তবুও কথা থেকে যায়, বেঁচে থাকতে হলে মৃত মানুষকে সামনে রেখেও খেতে হয় এবং এটা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নাইও বটে! কাজে কাজেই নিজেই রান্না করুন, নিজেই নিজ রাজ্যের সম্রাট হয়ে উঠুন, চলুন আজ তেমনি সাধারন মাছ রান্না দেখাই, যদিও এমন রান্না আগেও দেখানো হয়েছে অনেকবার।  আগেই বলে নেই, আমার এই সব রান্না হচ্ছে, নূতনদের জন্য, যারা রান্না শিখতে চান! আমি যেভাবে ছবি দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছি তাতে আশা করি ছবি দেখেই আপনি নিজেই কারো সাহায্য ছাড়া রান্না শিখে ফেলতে পারবেন।  আশা করবো, শুধু ছবির ধাপ গুলো চোখে দেখে নিবেন।  চলুন, দেখে ফেলি!

উপকরন ও পরিমানঃ
– কাতলা মাছের পেটিঃ বড় ৫ টুকরা (আপনার ইচ্ছামত ছোট বড় সাইজ করে নিতে পারেন)
– পেঁয়াজ কুচিঃ এক মুষ্টি
– রসুন বাটাঃ ১ টেবিল চামচ (দেশি), ইন্ডিয়ান হলে বাড়িয়ে দিন
– লাল মরিচ গুড়াঃ হাফ টেবিল চামচ (ঝাল বুঝে, কম দেয়াই ভাল)
– হলুদ গুড়াঃ দেড় চা চামচ
– কাঁচা মরিচঃ ৬/৭ টা
– ধনে পাতার কুচিঃ কয়েক চিমটি (বা বিলেতি ধনে পাতার কুচি)
– লবনঃ পরিমান মত, প্রথমে দুই চিমটি দিয়ে রান্না শুরু করা যেতে পারে, পরে স্বাদ দেখে দেয়া যেতে পারে
– তেলঃ ৫/৬ টেবিল চামচ (কম তেলেই রান্না ভাল)
– পানি (হাফ কাপ, যদি একটু বেশী ঝোল রাখতে চান তবে পানি বাড়িয়ে দিতে পারেন)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, রান্না শুরু করার আগেই মাছ কেটে পরিস্কার করে রেখে দিন, পাশাপাশি রান্নার মশলাপাতি হাতের কাছে নিয়ে নিন।


ছবি ২, মুল রান্না।  কড়াইতে তেল দিয়ে গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি এবং রসুন পেষ্ট/বাটা এবং সামান্য লবন দিয়ে ভাল করে ভেজে নিন।


ছবি ৩,  পেয়াজের রঙ হলদে হয়ে এলে কয়েকটা কাচা মরিচ দিন, ভাঁজুন।


ছবি ৪, এবার হাফ কাপ পানি দিন।


ছবি ৫, হলুদ মরিচ দিন।


ছবি ৬, ভাল করে কষিয়ে নিন।


ছবি ৭, তেল উপরে উঠে যাবে, আগুনের আঁচ কমিয়ে দিন।


ছবি ৮, এবার ধুয়ে রাখা মাছ দিয়ে দিন।


ছবি ৯, মাছ গুলো উলট পালট করে নিন।  কয়েক মিনিট পরে হাফ কাপ পানি দিয়ে দিন।  ঝোল কেমন রাখবেন সেটার উপর নির্ভর করে পানি দিন।


ছবি ১০, ব্যস, আগুন মাঝারি, মিনিট দশেকের জন্য ঢেকে রাখুন।


ছবি ১১, হাতল ধরে নাড়িয়ে দিন, কিংবা মাছ গুলো এপাশ ওপাশ করে দিন।  এভাবে আরো মিনিট দশ রাখুন।  ব্যস হয়ে যাবে।  তবে এই পর্যায়ে সামান্য ঝোল মুখে দিয়ে লবন ঠিক আছে কি না দেখে দিন, লাগলে দিন, না লাগলে ‘ওকে’ বলে এগিয়ে চলুন!


ছবি ১২, এবার কিছু দেশি বা বিলেতি ধনে পাতার কুচি দিন, স্বাদ বেড়ে যাবে।


ছবি ১৩, ব্যস!


ছবি ১৪, ওকে! রান্না হয়ে গেল!


ছবি ১৫, পরিবেশনের পালা।


ছবি ১৬, গরম ভাতের সাথে বসে পড়ুন।

আশা করি আপনাদের মন ভাল আছে এবং বেঁচে থাকলে যেহেতু খাবার খেতেই হবে, ফলে নিজেই কিছু কিছু রান্না করুন এবং মনে রাখবেন একদিন এই খাবার রান্নার কারনেই আপনি মানুষের ভালবাসা পাবেন।  শুভেচ্ছা সবাইকে, আমরা আসছি আরো আরো রান্না নিয়ে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

One response to “রেসিপিঃ কাতলা মাছের পেটি/টুকরা রান্না (সাধারন ও সহজ রান্না)

  1. আঙ্কেল ছবি দেখা যায় না

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s