গ্যালারি

রেসিপিঃ কাঁঠালের বিচি ও দেশি মুরগী


অনেকদিন রান্নাঘরে যেতে পারছি না! মনের প্রানের আগ্রহ থাকলেও সময়ের বিরাট অভাব, সারা দিন অফিসে দৌড়ে কুদে শরীরে আর কুলায় না! বুইড়্যা হয়ে পড়ছি! আসলে মানুষের জীবন এক এক সময়ে এক এক রকম! বয়স এমন একটা ব্যাপার যে, আপনাকে হার মান্তেই হবে! আপনি চাইলেও অনেক কিছু করতে পারবেন না! যাই হোক, আমিও তেমনি একটা গ্যাড়াকলে পড়ছি, মনের কথা শুনার চেয়ে টাকার কথাই বেশি শুনছি! বয়স বাড়লে টাকাই কিছু দিন অতিরিক্ত বাঁচিয়ে দিতে পারে এই চিন্তায় এখন টাকার পিছনেই দৌড়াচ্ছি, যদিও জানি বাঁচা মরা উপরওয়ালার হাতে! যাই হোক, তবুও শখের তোলা! গত কয়েকদিন আগে এক পরিচিত বন্ধুর দেয়া একটা কাঁঠাল পেয়ে যাই! যদিও আমি তেমন কাঁঠাল প্রেমিক নই, কাঁঠাল আমার জন্য নয়, খেলে তল পেটে ভেড়ার গুতোগুতি শুরু হয়ে যায়! তবে কাঁঠাল নিয়ে আমার কিছু গবেষণা আছে, আমি বেশ কয়েক বছর আগে নানান বাংলা ব্লগে কাঁঠাল নিয়ে লিখেছিলাম! কাঁঠালকে কেন জাতীয় ফল বলা হয় তার বেশ কিছু কারন খুঁজে পেয়েছিলাম! যারা এই কাঁঠালকে জাতীয় ফল বানিয়েছেন, তাদের মাথার ঘিলুকে আমি সন্মান করি! আমি মনে করি তারা সঠিক কাজ করেছেন, ঘনবসতির এই দেশে কাঁঠালের মত ফলের বেশি দরকার, বেশী মানুষ, বেশি বিচি! যাই হোক, কাঁঠাল গাছের কোন কিছুই ফেলনা না! কাঁঠালের পাতা থেকে সব কিছুই আমাদের কাজে লাগে! ছাগলের ফেবারেট এই কাঁঠালের পাতা! তবে কাঁঠালের বিচি বিজ্ঞ প্রাজ্ঞ মানুষের ফেবারেট আইটেম!

যাই হোক, চমতকার এই কাঁঠালের বিচি সংগ্রহ করাও আমার উদ্দেশ্য ছিল, কাঁঠালের বিচি কতদিন খাই না, মনে হলে মনের জ্বালা আরো বেড়ে গেল! ফলে কাঁঠালের কয়েক কোষ খেলেও কাঁঠালের বিচির দিকে খেয়াল রেখেছি! চলুন রান্নায় ফিরি, গত শুক্রবার দুপুরের রান্না! রান্নার পুরো এরেঞ্জমেন্ট/ব্যাপারটা দেখেছেন আমার গিন্নী, আর চুলায় নাড়ানো বসানোয় মনোযোগ রেখেছিলাম আমি!

(নুতন যারা রান্নায় আগ্রহী তাদের জন্যই এই রান্না, এই সব রান্না করে হাত পাকিয়ে নিতে পারেন। স্বাদ না হলেও ব্যাপার না, তেমন কোন খরচ নেই! উপরন্তু এই সব রান্নায় সাহস বেড়ে যাবে এবং ছোট ছোট ভুল গুলো নিজের চোখেই দেখতে পারবেন। মনে রাখবেন, রান্না এমন একটা ব্যাপার যে, আপনাকে কেহ গুলিয়ে খাইয়ে দেবে না, আপনার আগ্রহই আপনাকে উপরে নিয়ে যাবে কারন এটা অভিজ্ঞতা লব্ধ ব্যাপার! অন্যদিকে মনে রাখবেন, আপনার রান্না খেয়ে সব সময়েই একটা দল থাকবে বা আপনার আশে পাশে কত গুলো মানুষ থাকবে যারা আপনাকে কখনোই এপ্রিসিয়েট করবে না, তারা আপনার খুত ধরে আপনাকে লজ্জায় ফেলতে চাইবেই! কাজে কাজেই, আপনি যদি আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে, আপনার চেষ্টাই আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে!)

চলুন রান্নায় চলে যাই। গল্পতো সামনে করাই যাবে, বেঁচে থাকলে। তবে মানুষের জীবনে সময় একটা চরম ব্যাপার। যারা এই সময়জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারবেন, তাদের সাফল্য নিশ্চিত। সময় হারিয়ে এখন বুঝতে পারি। বোঝার সময়ে বুঝে গেলে জীবন আরো সুন্দর ও সবালীল হয়!

উপকরন ও পরিমানঃ (সাধারন ও সহজ রান্না) 
– শুকনা কাঁঠালের বিচিঃ ৪০০ গ্রাম কম বেশী
– দেশি মুরগীঃ ৫০০ গ্রাম কম বেশি
– এলাচিঃ ৫/৬ টা
– দারু চিনিঃ ৪/৫ পিচ (ইঞ্চি)
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ মাঝারি কয়েকটা
– রসুন বাটাঃ দুই চা চামচ
– গুড়া মরিচঃ এক চা চামচ কম বেশী (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ এক চা চামচ
– জিরা গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– কাঁচা মরিচঃ কয়েকটা (আস্ত)
– লবনঃ পরিমান মত (হাফ চা চামচ দিয়ে শুরু করবেন, পরে লাগ্লে আরো দেয়া যাবে)
– তেলঃ ৬/৭ টেবিল চামচ, কম তেলেই রান্না ভাল!
– পানিঃ পনে এক কাপ কম বেশী বা ইচ্ছা, মুরগীর গোস্তের সিদ্ধ হবার উপর নির্ভর করবে এবং কেমন ঝোল রাখবেন তার উপর।

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)
বিচি প্রিপারেশনঃ

ছবি ১, কাঁঠালের বিচি শুকিয়ে রাখতে হয়।


ছবি ২, শুকনা বিচি থেকে খোসা ছাড়িয়ে পানিতে ভিজিয়ে রেখে পাটা বা পাথরে ঘষে বিচির উপরের লাল চামড়া তুলে নিতে হবে, তার পর হাফ সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে রেখে দিতে হবে, রান্নার সময়ে এই প্রসেসড কাঁঠালের বিচি ব্যবহার হবে!

মুল রান্নাঃ

ছবি ১, রান্নার পাত্রে তেল গরম করে এলাচি ও দারুচিনি দিন।


ছবি ২, পেয়াজ কুচি দিন, এই সময়ে লবন দিয়ে দিন।


ছবি ৩, ভাঁজুন, পেঁয়াজের রঙ হলদে হয়ে যাবে। আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে।


ছবি ৪, এবার আদা, রসুন ও জিরা গুড়া দিন।  সামান্য সময় মিশিয়ে ভেজে নিন।


ছবি ৫, এবার হাফ কাপ বা কম পানি দিন।


ছবি ৬, মরিচ গুড়া ও হলুদের গুড়া দিন।


ছবি ৭, মাঝারি আঁচে মাঝে মাঝে নাডিয়ে ঝোল বানিয়ে ফেলুন।


ছবি ৮, আলাদা আলাদা মশলা পাতির নিজস্ব ঘ্রান হারিয়ে নুতন আলাদা একটা ঘ্রান বের হবে।


ছবি ৯, এবার মুরগীর গোস্ত দিয়ে দিন।


ছবি ১০, ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ১১, ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে মিনিট ১০/১৫ রাখুন।


ছবি ১২, এই অবস্থায় এসে যাবে।


ছবি ১৩, এবার প্রসেসড কাঁঠালের বিচি দিয়ে দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ১৪, কয়েক মিনিটের জন্য ঢেকে রাখুন, মাঝারি আঁচে।


ছবি ১৫, এবার পরিমান মত ঝোল/পানি দিন।


ছবি ১৬, আগুন বাড়িয়ে একবার উত্রিয়ে আগুন মাঝারি আঁচ করে দিন।


ছবি ১৭, ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন না লাগলে ওকে বলে এগিয়ে চলুন।


ছবি ১৮, কয়েকটা কাচা মরিচ আস্ত দিয়ে দিন (আমাদের কাছে কালো কাচা মরিচ ছিলো, এই গুলো একটু বেশী ঝাল)


ছবি ১৯, ব্যাস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ২০, গরম সাদা ভাত নিয়ে বসে পড়ুন। কি আছে এই জীবনে!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আসছি আরো আরো রেসিপি নিয়ে। আপনাদের সময় কাটুক আনন্দে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

3 responses to “রেসিপিঃ কাঁঠালের বিচি ও দেশি মুরগী

  1. Kathaler bici diye je kono iteme mojadar, vai onek donnobad apnake….
    Allah apnar moner asha puron koruk, doa kori….amader valobasa sobsomoy asee…

    Like

  2. কাঠাল বিচি দিয়ে মুরগী অসাম লাগে.. লাভ দিস

    Like

  3. আমার অতি প্রিয় একটি খাবার। আপনি রেসিপি দিয়ে মনে করায় দিলেন। আজকে তো রাধতেই হবে।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s