Gallery

ইফতারঃ একদিন সন্ধ্যায় Thirty3 Restaurant


ইফতার, এই বছরের ইফতার বলতে গেলে প্রায় দিনেই অফিসে করেছি। যতদুর মনে পড়ে দুইদিন বাসায় ইফতার করেছি, তবে তেমন কোন কাজ করি নাই, রান্না করার চেষ্টাও ছিল না। এবার অফিসের বাইরেও ইফতার করা হয় নাই, অফিসের কাজের চাপে ছিলাম। যাই হোক, এত কিছুর মাঝেও একটা দিন বাইরে ইফতার করবে বলে বড় ছেলের বায়না! আসলে ছেলেদের ঈদের কাপড় চোপড় কেনার সময় পিতা হিসাবে না থাকলেও একটু বেমানান লাগে! যাই হোক, কাপড় কেনা এবং ইফতারের বায়না নিয়ে কয়েকদিন আগে বের হয়েছিলাম! আমার ইচ্ছা ছিল, বেইলী রোড়ের বুমার্স এ ইফতার করবো, কিন্তু ঘন্টা খানেক আগে গিয়েও সেখানে জায়গা পেলাম না, সবই বিজার্ভড! ইফতারের সিটও রিজার্ভড! আসলে আমাদের দেশে এত মানুষ বাড়ছে যে, আগামীতে যেখানেই যাবেন, ঘরে বসেই সিট বুকিং দিয়ে যেতে হবে! আশাহত মন নিয়ে আর কোথায় যাওয়া যায়, চিন্তা করে দেখলাম, বেইলী রোডে খাবারের দোকানের অভাব নেই! প্রথমে কে এফ সি, পরে পিজ্জাহার্ট ঘুরে কোথায়ো সিট পেলাম না! অন্য কোথায় বা দূরে তখন যাবার সময়ও হাতে নেই। কাজেই একই বিল্ডিং এ অবস্থিত থার্টি থ্রী রেষ্টুরেন্টে প্রবেশ করলাম, এই ভেবে যে, যা ইচ্ছা খাওয়া যাবে! ইফতারের সেই আদি আইটেম গুলো নয়, রাতের খাবারের মত করে খেয়ে নেয়া যাবে!

জানা গেল, ইফতারের সময়ে ইফতারের আইটেম ছাড়া অন্য কোন খাবার বিক্রি হয় না! মনের দুঃখে তাদের সেই খাবারের মেনু সিলেক্ট করলাম! পরে ছবিতে দেখতে পাবেন! চলুন দেখে ফেলি!


ছবি নেট থেকে নেয়া; বাংলাদেশ বিজনেজ ডাইরেক্টরি


বড় ছেলের পেছনের সিটে বসা পরিবার দেখে খুব ভাল লেগেছিল, বৃদ্ধ মাকে নিয়ে এসেছিলেন (তিনি ছেলের মা না শাশুড়ি তা বোঝা গেল না!), এদিকে উনারা মুসলমান ধর্মের ছিলেন না! ইফতারের আজানের পরের সময়েই খাবার খেতে শুরু করেছিলেন।


এই হচ্ছে ইফতার ডিস! সাথে একটা পানি, এক গ্লাস শরবত ও এক বাটি হালিম ছিল! আগেই দাম বলে দেই, ৪০০ টাকার মত (তিন জনে বিল এসেছিল ১২০০টাকার মত, সঠিক অঙ্কটা মনে করতে পারছি না এই সময়ে!)।


খাবারের মান পুরাই ফাউল! আমরা যে এই সব আইটেম ঘরে বানাই, তার ধরে কাছেও না, নিচে!


এত গুলো টাকা নিল, হালিমে গোস্তের ছোট টুকরা দুইটা! আমি অবাক হই এই দেশের নানান রেষ্টুরেন্টে বা হোটেলে খাবার খেতে গেলে! এরা শুধু টাকাই চিনলো। খাবারের মান এবং পরিমান বুঝতে পারলো না! খাবারের দাম কেমন হলে পরিমানে কতটুকু দিতে হয়, সেটাও ওরা এখনো বুঝতে শিখে নাই। ব্যবসাতে লাভ করবেই, কিন্তু কত লাভ করা এবং পরিমানে কি দিচ্ছে, সেটাও তো ভেবে দেখা দরকার!


ইফতারে শরবত মুখে দিয়ে বোঝাই গেল না যে এটা কি দিয়ে করা হয়েছে!


ছোট শিশুকে কোনমতে বুঝ দেয়া!

যাই হোক, এই দেশে সব কিছু যে অনিয়মে চলছে, সেভাবেই চলবে! বিল দিয়ে মনে হল, এর ছেয়ে টাকা চিবিয়ে খেলেও শান্তি লাগতো!

  • ইফতারের এই আইটেম গুলোতো এই সব মাঝারি মানের হোটেল বিনে টাকায় খাওয়াতে পারে! সারা বছর যে লাভ করে, সেই তুলনায় এই ক্ষতি তো কিছুই না! হা হা হা। বেশি বলে দিলাম!
  • ইফতারের সময়ে আমাদের দেশের এই সাধারন মানের আইটেম দিয়ে ইফতার করতে হবে কেন? মানুষকে কেন বাধ্য করা হবে, সে তো বিনে টাকায় খাচ্ছে না?
  • খাবারের মান ও পরিমান আর কত কম দিয়ে আর কত লাভ করতে চাইবেন?

জানি এই সবের কোন উত্তর নেই এই দেশে, আরো কত সহজ প্রশ্নের জবাব নেই সেই তুলনায় এরা তো কিছু দিয়ে কিছু নিচ্ছে! হা হা হা…।। বিচারহীন সমাজ ব্যবস্থায় কিংবা টাকার কাছে জিম্মি হয়ে পড়া সমাজে আর কিছু আশা করাও বোকামি!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আসছি আরো আরো রান্না নিয়ে। আশাকরি সাথে থাকবেন।

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s