Gallery

রেসিপিঃ রুই মাছ ভাঁজা ও ২২ লক্ষ হিটের শুভেচ্ছা


আজ সকালে গল্প ও রান্না’য় বাইশ লক্ষ হিট হয়ে গেল। এই ২২ লক্ষ হিটে আমার তেমন কোন উচ্ছ্বাস নেই, আছে আপনাদের ভালবাসা ও আপনাদের শুভেচ্ছা! আপনারা আসেন বলে, আপনারা আমাদের রেসিপি গুলো পছন্দ করেন বলেই আমরা এগিয়ে চলছি! তবে আমি আর আগের মত সাইটে চ্রম সময় দিতে পারছি না, জীবন ও জীবিকার তাগিদে আমি এখন আর তেমন সময় পাচ্ছি না, রান্নাঘরের কথাও তেমন চিন্তা করতে পারছি না। ব্লগ নিয়ে মনের মধ্যে সারাদিন একটা ভাবনা থাকলেও সেটা বাস্তবায়ন করতে পারছি না! লেখালেখি নিয়ে নুতন নুতন ভাবনা মনে আসলেও তা চেপে জীবন পার করতে হচ্ছে! ‘সবার আগে চাই টাকা’ এই নীতি আমি কখনো না মানলেও এখন অনেকটা বাধ্য হয়ে পড়ছি! আজকাল ঘরে বাইরে টাকা ছাড়া চলছে না! বেশি বলা হবে না নিশ্চয় যে, আমি এখন অনেকটা মেশিন! সকাল ৯টা ঘর থেকে বের হয়ে রাত ৯টায় অফিস থেকেই বের হই!


যাই হোক, হয়ত এটাই জীবনের অপর নাম! তবে মধ্যবিত্তের খোলস ছেড়ে করে উপরে বা নীচে নামবো, তা বুঝতে পারছি না! মধ্যবিত্তের যত জ্বালা! গরমে ধনীদের মত রুমে এসি লাগাতে পারে না, আবার গরীবের মত পাটি নিয়া খোলা জায়গায় আরামসে ঘুমাতেও পারে না! উপরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট!

চলুন একটা রান্না দেখি, মন ভাল করতে রান্না বা খাওয়ার জুড়ি নেই! রান্নাই আপনাকে আমাকে বাচিয়ে রাখতে পারে!তবে আগেই বলে দেই, এমন রান্না আগেও হয়েছে, এই রান্নায় সামান্য ভিন্নতা আছে, রান্না যেভাবে করা হউক না কেন, সেটা সুস্বাদু হলেই হল! যারা নুতন রান্না করছেন বা চাইছেন তাদের বলি, মন খুলে রান্না করুন, হবে যাবে সাথে আমি তো আছি। হা হা হা…।

উপকরন ও পরিমানঃ
– মাছের টুকরাঃ কয়েক টুকরা (বড় সাইজের পাঁচ টুকরার জন্য)
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ মাঝারি দুইটা বা বড় একটা
– রসুন বাটাঃ এক টেবিল চামচ
– গুড়া মরিচঃ হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচের কম
– জিরা গুড়াঃ হাফ চা চামচ (জিরা ভেঁজে গুড়া করে নিতে হবে)
– কাঁচা মরিচঃ কয়েকটা
– লেবুর রসঃ এই টেবিল চামচ
– লবনঃ পরিমান মত (দুই চিমটি)
– তেলঃ ৭/৮ টেবিল চামচ

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)
মাছ প্রিপারেশন-

ছবি ১, তাজা মাছের চোহারাই আলাদা। মাছ দেখেই মন ভাল হয়ে যায়!


ছবি ২, মাছ ধুয়ে পরিস্কার করার পর উল্লেখিত মশলা পাতি (লবন সহ) দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে কিছু সময়ের জন্য রেখে দিন।


ছবি ৩, পেঁয়াজ কুচি গুলো এভাবে দিয়ে মাখিয়ে পরে আলাদা করে নিন।

ভাঁজা-

ছবি ৪, ফ্রাই প্যানে তেল ভাল করে গরম করে মাছ দিন।


ছবি ৫, চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না!


ছবি ৬, এক পিট হয়ে গেলে অন্য পিট উল্টে দিন।


ছবি ৭, মোটামুটি আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে।


ছবি ৮ম এবার পেঁয়াজ কুচি ও মরিচ গুলো দিয়ে দিন।


ছবি ৯, সামান্য একটু পানি দিতে পারেন বা যে বাটিতে মাছ ও পেঁয়াজ ম্যারিনেট করে ছিল তাতে সামান্য পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে পারেন। এই পানি টুকুর জন্য মাছের ভেতরের অংশ সফট ও জুসি হয়ে যাবে!


ছবি ১০, সামান্য কিছু স্ময়ের জন্য ঢাকনা দিতে পারেন। আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে।


ছবি ১১, ব্যস, ঢাকনা তুলে আগুন বাড়িয়ে নিমিষেই ঝোল শুকিয়ে নিন!


ছবি ১২, আগুন নিবিয়ে দিন, কয়েক মিনিট এভাবে রাখুন!

পরিবেশনঃ

ছবি ১৩, এবার পরিবেশনের পালা।


ছবি ১৪, সাথে চাই গরম ভাত, মোটা কিংবা সরু চালের! একটা হলেই হল!


ছবি ১৫, দেখুন ভেতরের অংশ! জুসি! আশা করি একদিন এমনি রান্না নিজেই করে মজা লুটবেন! মনে রাখুন, এই সব ছোট ছোট আনন্দই বেঁচে থাকার প্রেরনা!

আপনাদের সবাইকে বাইশ লক্ষ হিটের শুভেচ্ছা জানাই, আপনাদের ভালবাসা আমাদের পাথেয়! আসছি আরো আরো মজাদার রান্না নিয়ে আপনাদের কাছে, আপনাদের দ্বারে দ্বারে, ঘরে ঘরে!

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

6 responses to “রেসিপিঃ রুই মাছ ভাঁজা ও ২২ লক্ষ হিটের শুভেচ্ছা

  1. Shadat bhai…..doa kori agee zan….valo thakun…also congraculation for বাইশ লক্ষ হিটের..

    Liked by 1 person

  2. প্রথমেই ২২ লক্ষ হিটের শুভেচ্ছা!! সাইটের হিট যেভাবে আগাচ্ছে তাতে ৩০ লক্ষ হয়ে যেতেও বেশি সময় লাগবে না আর 😀
    এখন আর আগের মত প্রত্যেক পোস্টে কমেন্ট না করলেও রেসিপিগুলো দেখে যাই,সাইট প্রত্যেকদিন দুই-তিনবার ভিজিট করি নতুন কিছু এলো কি না,আসলে ক্লাসের ফাঁকে আসা হয় বেশি, বেশি বোরিং ক্লাস হলে মাঝে মধ্যে বেশ কিছু পুরোনো রেসিপি পোস্টেও ঢুঁ মারি,ভালোই লাগে খাবারের ছবি দেখতে।

    মাছ ভাঁজা আমার অন্যতম প্রিয় একটা জিনিস,কিন্তু অনেক সময় মাছ ভাজাটা বেশি শুকনা হয়ে গেলে ভাললাগে না,যদিও পুঁটির ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়,বাইরে মচমচে অথচ ভিতরে জুসি এইরকম মাছ ভাজাই আমার পছন্দ।আপনার রেসিপিটা ঠিক তেমনই।তবে ভাজার নিয়মটা নতুন,পেঁয়াজ সাথে দিয়ে ভাঁজা,নিঃসন্দেহে সুস্বাদু হবে,আমার মনে হয় এই নতুন রেসিপিটার একটা নতুন নাম দেওয়া উচিৎ,কি বলেন?? 😉

    শুভেচ্ছা

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s