গ্যালারি

রেসিপিঃ কাতলা মাছের মাথা রান্না (মাছের মাথা রান্না)


আজকাল আর লিখতে পারছি না! সত্য কথা বলতে কি, সারাদিন টাকা রুজির চিন্তায় থাকি এবং আজকাল অফিস থেকে রাত নয়টার আগে তেমন বের হতেও চাই না! রাতে বাসায় ফিরে এলে স্ত্রী পোলাপাইন খুঁটি ঘেড়ে বসে! লিখা লিখিটা একটা সাধনা, সময়ের ব্যাপার, একটু নিরিবিলি ভাবনা – এটা আজো কাউকে বুঝাতে পারলাম না! যাই হোক, অনেক কথা বলতে ইচ্ছা হয়, বলে পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে কি লাভ! বিবেকহীন মানুষেরা অনেক কথাই বলে ফেলেন, তাদের কাছে দুনিয়ার কোন কিছুই ব্যাপার না! তবে নিশ্চিত একদিন সবাই বুঝে, সেদিন হয়ত তার কাছে আর তেমন সময় থাকবে না!

তবে যে যাই বলুক, আমাকে গল্প ও রান্না’য় টিকে থাকতেই হবে! বেঁচে যতদিন আছি, এই গল্প ও রান্না নিয়েই থাকবো! রান্না ও খাবারের প্রতি আমার বিশেষ আকর্ষন এবং রান্না না জানা ভাই বোন বন্ধুদের হেল্প করা, পাশাপাশি মানুষের মনের ভালবাসা/ঠাই নেয়ার এই সুযোগ আমি কিছুতেই ছাড়তে চাই না!

চলুন আজ একটা চ্রম রান্না দেখি! কয়েকদিন আগে বাজার থেকে একটা বড় কতলা মাছ কিনেছিলাম! এই মাছের মাথাটা আলাদা করে রান্না করবো বলে ইচ্ছে হয়েছিল! তাজা মাছের এমন মাথা রান্না করে দিলে কে না পছন্দ করবে! বিশেষ করে জামাই বাবাজী যখন শশুড় বাড়িতে থাকবেন! হা হা হা, জামাই বাবাজী নিয়ে কথা বললে অনেক কথা লিখতে হয়, সেই দিকে যাওয়ার কাজ নেই! চলুন দেখে ফেলি! সাধারন রান্না, আমাদের ঘরে যা আছে তা দিয়েই!


মাছের মাথা কেটে ধুয়ে পরিস্কার করা একটু ঝামেলা হলেও আমাদের মা, বোন, স্ত্রীদের কাছে এটা তেমন কোন ব্যাপার নয়!

উপকরন ও পরিমানঃ
– কাতলা মাছের মাথাঃ ৮০০ গ্রাম কম বেশী হতে পারে (যত বড় তত মজা)
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ মাঝারি কয়েকটা
– আদা বাটাঃ এক টেবিল চামচ
– রসুন বাটাঃ এক টেবিল চামচ
– জিরা বাটাঃ এক চা চামচ
– গুড়া মরিচঃ হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচ কম বেশী
– কাঁচা মরিচঃ কয়েকটা
– পাকা টমেটোঃ কয়েকটা
– লবনঃ পরিমান মত (তিন চিমটি কম বেশী)
– তেলঃ ৬/৭ টেবিল চামচ
– পানিঃ হাফ কাপ কম বেশি
– ধনিয়া পাতার কুচিঃ ৩/৪ টেবিল চামচ

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, কড়াইতে তেল নিয়ে গ্রম করে পেঁয়াজ কুচি ও মরিচ ভাঁজুন। হাফ চা চামচ লবন দিতে ভুল্বেন না!


ছবি ২, পেঁয়াজের রঙ হলদে হয়ে আস্তে দিন।


ছবি ৩, এবার আদা ও রসুন দিন। ভাঁজুন।


ছবি ৪, টমেটো দিন।


ছবি ৫, মরিচ, হলুদ, জিরা গুড়া দিন, ভাঁজুন কয়েক মিনিট।


ছবি ৬, এবার হাফ কাপ পানি দিয়ে ঝোল বানিয়ে নিন।


ছবি ৭, এবার মাছের মাথাটা দিয়ে দিন।


ছবি ৮, শক্ত থাক্তেই উলটে দিন। চামচে করে ঝোল তুলে মাছের উপরে দিন।


ছবি ৯, আগুনের আঁচ কম থাকবে!


ছবি ১০, কিছু সময়ের জন্য ঢেকে দিন।


ছবি ১১, মাছ বেশি নাড়াবেন না, ভেঙ্গে যাবে! চামচ দিয়ে ঝোল তুলে মাছের উপরে দিন।


ছবি ১২, আরো কয়েক মিনিট।


ছবি ১৩, রঙ দেখেই বুঝতে পারবেন, হয়ে গেছে! ফাইন্যাল লবন দেখুন।


ছবি ১৪, ধনিয়া পাতার কুচি ছিটিয়ে দিন।


ছবি ১৫, চুলা বন্ধ করে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন। ব্যস!


ছবি ১৬, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। তবে পাতিল থেকে মাছ বাটিতে নিতে সাবধান, যেন ভেঙ্গে না যায়!


ছবি ১৭, আরো খোলা চওড়া প্লেটে মাছটা নেয়া দরকার ছিলো, বাটিতে সাইজ বুঝানো যাচ্ছে না!


ছবি ১৮, এক মাথা রান্না দিয়েই এক বেলা চালিয়ে দিতে পারেন! জামাই বাবাজী খাদক হলে একাই চালিয়ে দিবেন! এই এর কি!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আসছি আরো আরো রান্না নিয়ে!

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন।

Advertisements

2 responses to “রেসিপিঃ কাতলা মাছের মাথা রান্না (মাছের মাথা রান্না)

  1. JUST LIKE MY MOTHER IN LAW COOKS. GREAT TASTE!

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন।
      আপনার চোখে দেখা রান্নার সাথে মিলছে বলে আনন্দিত হলাম। এই সব আমাদের ভালবাসার রান্না।
      আপনার শাশুড়ি মায়ের জন্য আমাদের শুভেচ্ছা থাকলো, সালাম জানাবেন। কখনো সময় পেলে আমাদের রান্না দেখিয়ে দেবেন।
      শুভেচ্ছা।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s