Gallery

রেসিপিঃ গরুর গোস্ত রান্না ও ২১ লক্ষ হিটের শুভেচ্ছা


গতকাল সকালে ‘গল্প ও রান্না’ সাইটে একুশ লক্ষ হিট হয়ে গেল। বিষয়টা আমার নজরে এসেছে বিকালের দিকে! সাধারণত এক লক্ষ হিট হয়ে গেলে আমি চেষ্টা করি একটা বিশেষ কিছু রান্নার রেসিপি দিতে, আজ সেই সময় পাই নাই! যাই হোক, আপনাদের ভালবাসায় আমরা এগিয়ে চলছি! এই আনন্দক্ষনে আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানাই।


সাইট নিয়ে, ‘গল্প ও রান্না’ নিয়ে আমার আরো কিছু কাজ করার ইচ্ছা জাগে, নানান কারনে তা করতে পারছি না! জীবনে বেঁচে থাকার তাগিদে টাকা কড়ির পিছনে এত বেশি সময় এবং ভাবনা দিতে হচ্ছে যে, মাঝে মাঝে এই বিষয়ে চিন্তা করতেও সময় পাচ্ছি না এখন! এর পরেও যে সময় টুকু বের করতে পারছি, তাতেও নানান বাঁধা এসে পড়ছে! লেখালেখি এম্নিতেই একটা কঠিন কাজ, তার পর মনের অবস্থা যদি ভাল না থাকে, লেখার পরিবেশ যদি অনুকুলে না থাকে তবে লিখি কি করে! অর্থ ও শিল্প (বুঝে নিন) আসলে একসাথে থাকে না! দুটোর মেরু দুই জায়গায়, অনেকটা চুম্বকীয় শক্তির মত!

যাই হোক, তবুও আমাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে, আপনাদের ভালবাসা আমার চাই! কিছু মানুষ আমাকে ভুল বুঝলে বুঝুক, তাদের কথা ইতিহাসের কাছে ছেড়ে দিলাম! চলুন, আজ একটা রান্না দেখে ফেলি। রান্না নিয়ে কথা বলতে গেলে বলা চলে, রান্না হচ্ছে অভিজ্ঞতা লব্ধ ব্যাপার, আপনি যত বেশি রান্না করবেন, আপনার হাত, চোখ আপনাকে উপকরণ, পরিমান বলে দেবে! আর স্বাদ, সেটা রান্না করে আপনি রঙ দেখেই বলে দিতে পারবেন!

আগেই বলে দেই, এমন রান্না আগেও হয়েছে, এই রান্নায় সামান্য ভিন্নতা আছে, আছে জিরা গুঁড়ার শেষে ব্যবহার!

উপকরন ও পরিমানঃ
– গরুর গোসতঃ ৮০০ গ্রাম (আপনি চাইলে হাড়গোড় নিতে পারেন, আমরা শুধু গোশত নিয়েছি)
– এলাচিঃ ৩/৪ টা
– দারুচিনিঃ ৩/৪ পিস (এক ইঞ্চি করে)
– লংঃ ৩/৪ টা
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ মাঝারি একটা
– পেঁয়াজ বাটাঃ মাঝারি তিনটে
– রসুন বাটাঃ এক টেবিল চামচ
– আদা বাটাঃ এক টেবিল চামচ
– গুড়া মরিচঃ এক চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ এক চা চামচ
– কাঁচা মরিচঃ কয়েকটা
– লেবুর রস বা ভিনেগারঃ এই টেবিল চামচ
– লবনঃ পরিমান মত (শুরুতে কম দিয়ে রান্না শুরু করা ভাল)
– তেলঃ ৬/৭ টেবিল চামচ
– পানিঃ হাফ কাপ (যদি গোসত না মজে!)
– জিরা গুড়াঃ এক চা চামচ (জিরা ভেঁজে গুড়া করে নিতে হবে)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)
গোশত প্রিপারেশন-

গোসত পরিস্কার করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিয়ে তাতে লেবুর রস বা ভিনেগার দিয়ে কিছু সময় রেখে দিন এবং এই ফাঁকে অন্যান্য মশলা পাতি যোগাড় করে নিন।

মুল রান্না-

ছবি ১, তেল গরম করে তাতে গরম মশলা দিন।


ছবি ২, পেঁয়াজ কুঁচি দিন সামান্য ভেঁজেই আদা, রসুন, পেঁয়াজ বাটা দিন (আমরা সব কিছু গ্রাইন্ড করে নিয়ে ছিলাম), লবন দিতে ভুল্বেন না!


ছবি ৩, ভাল করে ভেঁজে নিন।


ছবি ৪, হলুদ ও মরিচ গুড়া দিন।


ছবি ৫, ভাল করে ভেঁজে নিন।


ছবি ৬, এবার গোশত দিয়ে দিন। এবং মিশিয়ে নিন।


ছবি ৭, আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে।


ছবি ৮, আগুন কমে থাকলে এক্ট্রা পানি দিতে হবে না!


ছবি ৯, ঢাকনা দিয়ে, আগুন কমিয়ে আপনি অন্য কিছু কাজ করে ফেলতে পারেন, মিনিট ২০ তো লাগবেই!


ছবি ১০, বাহ!


ছবি ১১, মোটামুটি কাজ শেষ, তবে গোসত নরম হল কিনা দেখে নিন। না হলে আরো কিছু সময় দিতে হবে, পানি শুকিয়ে গেলে পানিও দিতে হবে। তবে পানি না লাগারই কথা, আগুন কম থাকলে চলবে!


ছবি ১২, এবার জিরার গুঁড়া দিন।


ছবি ১৩, একটা আলাদা ঘ্রান বের হবে।


ছবি ১৪, ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন।


ছবি ১৫, কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিন। ঝোল কমিয়ে নিতে পারেন।


ছবি ১৬, চুলা বন্ধ করে কয়েক মিনিট ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন।


ছবি ১৭, ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৮, যা খুশি দিয়ে চালান দিতে পারেন, সাদা ভাত, পোলাউ, রুটি বা পরোটা!


ছবি ১৯, এই ছিল আমাদের কোন এক দিনের দুপুরের খাবার, সাথে ছিল সাদা ভাত, মধ্যবিত্তের আনন্দ!

সবাইকে শুভেচ্ছা, সাথে থাকুন, আসছি আরো আরো গল্প ও রান্না নিয়ে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s