Gallery

রেসিপিঃ কানাডিয়ান মাছের শুঁটকী রান্না ও নানান গল্প


আখতার হুসেন স্যারের সাথে ফেসবুকেই পরিচয়, তিনি কানাডায় থাকেন। উনার প্রসঙ্গে তেমন বেশি ইনফরমেশন না জানলেও ফিড লাইন দেখে বুঝতে পারি কানাডাতে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি কৃষি এবং মাৎস্য বিষয়ে বেশ আগ্রহ নিয়ে কাজ করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশী শাক সবজি কানাডাতে ফলন করে বেশ নাম কামিয়েছেন। অন্যদিকে আমি উনার যে বিষয়ে বেশ আগ্রহ দেখি, সেটা হচ্ছে উনার নানান লেকে নদীতে মাছ ধরা, সাথে বরফেও মাছ ধরা।

কি করে একজন মানুষ এমনি কাজ বছরের পর বছর করে যেতে পারেন, তা আমার মাথায় ধরে না! যাই হোক, উনার এই মাছ ধরা নিয়ে আমার আগ্রহ বেশ মাত্রায় এবং উনি যে সব মাছ ধরেন সেই মাছ খাবার লোভ হয়! একদিন উনার ফিডে দেখি সেই সব মাছ দিয়ে তিনি শুটকী বানাচ্ছেন এবং রোদে শুকাচ্ছেন। যাই হোক, চাইছিলাম কি না জানি না, শিক্ষক বলে হয়ত ছাত্রের মনের কথা বুঝতে পারছেন!


একদিন তিনি মোবাইল নং চাইলেন এবং ঢাকা থেকে ফোন পেয়ে উনার বোনের বাসা থেকে আমি এই শুটকী সংগ্রহ করে ফেলি! হা হা হা…। সাধারন গল্প! তবে এই গল্পে যে ভালবাসা আছে, তা প্রকাশ করা যাবে না! একজন মানুষ কতটা আন্তরিক হলে এমনি উপহার পাঠাতে পারেন, তা ভাবি।


শুটকী মাছ এত সুন্দর করে প্যাকেট করা যে, বাইরে থেকে সামান্যও ঘ্রান নেই! হা হা হা…


শুটকী না তেলে ভাজা মাছ! নিশ্চিত হতে আমার কিছু সময় লেগেছিল!

যাই হোক, আর দেরী কি! এই শুঁটকী কি মাছের (উপরের ছবির কোন মাছ হবে হয়ত!), তা এখনো না বুঝলেও আমি রান্নায় লেগে পড়ি! এদিকে স্যার আগামী দুই মাস নেটে আসবেন না ফলে জিজ্ঞেস করতেও পারছিলাম না! তবে এই শুঁটকী মাছ ঢাকার আর এক বোনের কাছেও পাঠনো হয়েছে তা বুঝতে পারি ফেসবুকে ফিড লাইন দেখেই! হা হা হা…। বোন ফারহানামামুন দুলাভাই কি করে রান্না করেছেন তা বুঝতে না পারলেও, আশা করি স্বাদ নেয়া হয়ে গেছে!

আগেই বলে নেই উপহার হিসাবে যে শুঁটকী গুলো পেয়েছি তা দুইভাগ করে এই প্রথম ভাগ দিয়ে আমাদের দেশের সাধারন শুঁটকী মাছের সাধারন রান্নাই করেছি, এতে শুটকীর স্বাদ ভাল পাওয়া যাবে! চলুন দেখে ফেলি, গল্প চলবে রান্নার ফাঁকে ফাঁকে! অন্যভাগ বা কিছু দিয়ে একদিন দেশি বেগুন রান্না করবো!

উপকরন ও পরিমানঃ
– শুটকী মাছঃ ৪০০ গ্রাম
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ মাঝারি কয়েকটা (একটু বেশী হলে মন্দ কি!)
– রসুন বাটাঃ দুই চা চামচ
– গুড়া মরিচঃ হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– কাঁচা মরিচঃ কয়েকটা
– লবনঃ পরিমান মত (দুই চিমটি কম বেশী)
– তেলঃ ৬/৭ টেবিল চামচ
– পানিঃ হাফ কাপ (একটু বেশি লেগেছিল, কারন নরম হতে সময় লেগেছিল)
– ধনিয়া পাতার কুচিঃ ৩/৪ টেবিল চামচ

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)
শুঁটকী প্রিপারেশন-

ছবি ১, বড় মাছের শুঁটকী বলে কোন কাঁটার দেখা নেই, তবে আমাদের দেশের বড় মাছের শুঁটকীর মতই।


ছবি ২, কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে কিছুক্ষন পানিতে রেখে দেই।


ছবি ৩, দেখেই শান্তি।

মুল রান্না-

ছবি ৪, কড়াইতে তেল গরম করে তাতে সামান্য লবন দিয়ে পেঁয়াজ কুঁচি ভাঁজতে থাকি। কয়েক মিনিট পরে রসুন বাটা ও কয়েকটা কাঁচা মরিচ দেই।


ছবি ৫, পেঁয়াজ কুঁচি হলদে হয়ে এসে মরিচ গুড়া এবং হলুদ গুড়া দেই।


ছবি ৬, ভাল করে ভেজে নিলে তেল উঠে যাবে।


ছবি ৭, এবার শুঁটকী গুলো দিয়ে দেই।


ছবি ৮, কম আঁচে কিছু সময় আগুন লাগুক।


ছবি ৯, এবার হাফ কাপ পানি দিয়ে দেই।


ছবি ১০, ঢাকনা থাকুন আরো কিছু সময়। আগুন কম আঁচে চলবে।


ছবি ১১, শুঁটকী সিদ্ধ না হলে আরো হাফ কাপ পানি দেয়া যেতে পারে!


ছবি ১২, চলুক।


ছবি ১৩, এবার আরো কয়েকটা কাঁচা মরিচ দেয়া যেতে পারে, ফাইন্যাল লবন দেখা যেতে পারে।


ছবি ১৪, ধনিয়া পাতার কুঁচি দিয়ে দিলাম।


ছবি ১৫, মিশিয়ে নেয়ার পর।


ছবি ১৬, ঝোল কেমন থাকবে সেটা আপনি নিজে নির্ধারন করুন।


ছবি ১৭, ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৮, সাদা গরম ভাতের সাথে বেশ জম্বে! স্বাদ চমৎকার। এই সাধারন শুঁটকী ভুনা দিয়েই কয়েক প্লেট ভাত চালান দিয়ে দেয়া যায়!


ছবি ১৯, স্বাদ দারুন! জীবনে অনেক শুটকী মাছ খেয়েছি, রান্না করেছি এই শুটকীর জুড়ি বা মজা পাই নাই, দারুন সুস্বাদু!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আনন্দে কাটুক আমাদের সবার জীবন।

বি দ্রঃ এমন শুঁটকী পেতে স্যারের সাথে আপনারাও যোগাযোগ করতে পারেন! হা হা হা, তবে আমার নাম বলা যাবে না! আমি শুনেছি, প্রতি বছর স্যার এমনি মাছ ধরে শুঁটকী করেন এবং সেটা সারা বিশ্বে বন্ধুদের মধ্যে বিলি বন্টন করেন!

4 responses to “রেসিপিঃ কানাডিয়ান মাছের শুঁটকী রান্না ও নানান গল্প

  1. আমি এখনও রান্না করিনি। রান্না করে আমিও ছবি দিব।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s