Gallery

রেসিপিঃ চিকেন ফ্রাই (স্বামী বাড়িতে হয়ে যাক স্ত্রীর প্রথম রান্না)


গল্প খুব সাধারন! আমাদের ঘরোয়া গল্প! আমাদের গ্রাম বাংলার আনন্দের গল্প! বাসা/বাড়িতে বিয়ে হয়ে কোন নুতন বউ এলে পরদিন বা কয়েক দিনের মধ্যে টুকটাক রান্না করতে বলা হয়ে থাকে! এটাও বিবাহ পরবর্তি এক ধরনের আনন্দ! নুতন বউ রান্নাঘরে প্রবেশ করেন বটে তবে আসে পাশে তাকে সাহায্য করার লোকের অভাব হয় না, অনেক ননদ ভাবী তাকে রান্নায় এবং কাজে হেল্প করে থাকে তবে পুরো রান্নার কৃতিত্ব নুতন বউকেই দেয়া হয়ে থাকে! আর রান্না ভাল হলে তো কথাই নেই, চারিদিকে প্রশংসা! রান্না জানা আসলে বিরাট মজার ব্যাপার! রান্না জানা নুতন বউ এই রান্নায় বাজিমাত করে সবার মন জয় করে নেয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় মাত্র!

যাই হোক, আমি মনে করি, নুতন বউকে সাধারন যে কোন একটা রান্না মনে মনে স্থির করে নিয়ে কাজে নেমে পড়লেই হল! চিকেন ফ্রাই রেসিপিটা তেমনি একটা আইটেম হতে পারে বলে আমার মনে হয়! খুব সাধারন রান্না, সবাই পছন্দ করবেই। হাতের কাছে সব থাকবে বা মধ্যবিত্ত পরিবারেও এমনি আইটেম থাকার কথা! চলুন, আজ আবার তেমনি চিকেন ফ্রাই রেসিপি দেখে ফেলি!

তবে আগেই বলে ফেলি, চিকেন ফ্রাই রেসিপি নেটে আমার দেখা সব চেয়ে বেশি খুঁজে দেখা রেসিপি! হা হা হা… আর আমার এই পুরানো চিকেন ফ্রাই রেসিপিটা (লিঙ্কটা এই রেসিপির শেষে দেয়া হল) সারা দুনিয়া থেকে এত বেশি দেখা হয়েছে যে বলে শেষ করা যাবে না, এখনো প্রতিদিন বেশ কয়েকবার হিট হয়েই থাকে! এই রেসিপিটা নিয়ে আমি আনন্দিত এবং বলে রাখা ভাল যে, এই চিকেন রেসিপিটা আমি সম্পূর্ন একাই করেছিলাম, তবে বুলেট কিছু সময়ের জন্য এগিয়ে এসেছিল! চিকেন ফ্রাই এখনো তার প্রিয় খাবার! হা হা হা…। এদিকে আপনাদের ছোট বুলেটও চিকেনের ঝোকে আছে, মাঝে মাঝে বলে, ‘বাবা চিকেন ফ্রাই খাবো’, দুই বছরেই চিকেন ফ্রাই কি বুঝে গেছে!

যাই হোক, চলুন দেখে ফেলি, আরো এক দফা!

মুরগী ধোয়া তেমন কোন ব্যাপার নয়, একটু চেষ্টা আর কি!

উপকরন ও পরিমানঃ
– দেশি মুরগীঃ এক কেজি
– আদা বাটাঃ এক চা চামচ
– রসুন বাটাঃ দেড় চা চামচ
– গোল মরিচ গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– লাল মরিচ গুড়াঃ হাফ চা চামচ (ঝাল বেশী হলে কম দিতে হবে)
– সয়াসসঃ দুই টেবিল চামচ
– লবনঃ দুই চিমটি বা ক্বম/বেশি
– ডিমঃ একটা
ভাজার জন্য-
– তেল যা লাগে (ডুবো তেলে ভাজলে বেশী তেল লাগবে)
– ময়দার মিশ্রনঃ এক চিমটি লবন দিয়ে হাফ কাপ ময়দা মিশিয়ে নিতে হবে

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, দেশি মুরগী ভাল করে পরিস্কার করে পানি ঝরিয়ে রাখুন, এর পর উল্লেখিত মশলা পাতি একে একে দিতে থাকুন।


ছবি ২, সয়াসস এবং গোল মরিচের গুড়া দিতে ভুলবেন না!


ছবি ৩, ভাল করে মেখে নিন এবং এভাবে আধ ঘন্টার জন্য রেখে দিন।


ছবি ৪, ভাজার পূর্বে ডিম ভেঙ্গে দিয়ে আবারো মেখে নিন।


ছবি ৫, একটা চাওড়া থালে ময়দার মিশ্রন নিন এবং চিকেন গুলো এভাবে গড়িয়ে নিন।


ছবি ৬, ইচ্ছা হলে কয়েকবার গড়িয়ে পুরুত্ব বাড়িয়ে নিতে পারেন।


ছবি ৭, এবার একটা ফ্রাই প্যানে তেল গরম করে চিকেন গুলো ভাঁজতে থাকুন। ডুবো তেলে চিকেন ভাঁজলে মজা বেশি পাওয়া যায়!


ছবি ৮, যে কোন কিছু ভাজার সময়ে একটু আলাদা বা বাড়তি সতর্কতায় থাকুন। গরম তেল বা তার ছিটকে যে কিছুতেই আপনার শরীরে না পড়ে তার দিকে লক্ষ্য রাখুন।


ছবি ৯, এক পিট হয়ে গেলে ধীরে অন্য পিট উলটে দিন।


ছবি ১০, এমনি অবস্থায় এসে যাবে।


ছবি ১১, ভাজার রঙ আপনাকে বলে দিবে ভাজা হল কি না! আপনি চাইলে একটু কড়কড়ে করেও ভাঁজতে পারেন! আপনার ইচ্ছা!


ছবি ১২, প্লেটে তুলে রাখুন।


ছবি ১৩, ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৪, ভেতরটা কেমন হল তাও দেখে নিতে পারেন!


ছবি ১৫, বাহ, ইয়ামী!


ছবি ১৬, একবার করেই দেখুন, আপনার রান্নার তারিফ না পেলে আমাকে জানান, আপনার পুরো দেশি চিকেনের দাম আমি নিজেই দিয়ে দিবো! হা হা হা…।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আসছি আরো আরো মজাদার রান্না নিয়ে, সাথে থাকুন।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

রেসিপিঃ চিকেন ফ্রাই (নেটে সব চেয়ে বেশী খুঁজে দেখা রেসিপি!)

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s