Gallery

আড্ডাঃ বছরের শেষ দিনের পিকনিক ও আমার রান্নার একটা অপূর্ব সুযোগ


বছরের শেষ দিনে পিকনিকের আয়োজনের বুদ্ধিটা আমাদের বন্ধু শ্যামলের মাথা থেকে বের হল! সেই সাথে আমিও একটা সুযোগ পেলাম একটু বড় রান্না করে হাত পাকানোর! আসলে কিছুদিন ধরে আমরা কয়েক বন্ধু ভাবছিলাম পরিবার পরিজন নিয়ে একটু দূরে কোথায়ও থেকে ঘুরে আসি, সেই মেতাবেক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন। অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকার কারনে আমি বাজার সদাইতে মনোযোগ দিতে পারি নাই, আমাদের বন্ধু শ্যামল এবং কবির সেই কাজটা করে দেয়। তবে সন্ধ্যায় আমি সেই হিসাব ও খাবারের পরিমানের উপকরণের হিসাব করি। যাই হোক, প্রথমে অনেক বন্ধুদের নিয়ে প্রায় ৪০ জনের জন্য একটা হিসাব করা হয়, পরে বন্ধুদের কারো কারো এইকাজ সেই কাজ করে কমতে কমতে সেই হিসাব গিয়ে ঠেকে ২০-২২ জনের! আজকাল সবাই ব্যস্ত, সবাই ছুটে চলছে! কাউকে জোর দিয়ে কিছু বলার নাই!

যাই হোক, শুকনা বাজারের লিষ্ট দেখুন!


ঠিক সময়ে রাওনা হয়ে যাই, তবে এই শহরকে এখুনি যানযটের শহর হিসাবে ঘোষনা দিয়ে দিলেই ভাল হয়!


ময়মনসিংহ সড়ক বেশ সুন্দর হয়েছে! চেষ্টা ও উদ্দেশ্য থাকলে কোন কিছুই অসাধ্য নয়।


যাই হোক, মাওনায় আমাদের সেই পরিকল্পিত স্থানে পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে ১১টা বেজে গেলে! সামান্য সময় নষ্ট না করে আমি লেগে গেলাম বাজার সদাই নামিয়ে রান্নার কাজে। সাথে বন্ধু কবিরকে বললাম, কোন দিকে তাকানোর দরকার নেই, আগে রান্না হয়ে যাক, আমাদের টার্গেট আড়াইটার মধ্যে খাবার পরিবেশন করা! আমাদের এক ভাবী (বন্ধু শ্যামলের স্ত্রী) মশলা পাতি আগেই বাসা থেকে বাটিয়ে নিয়ে আমাদের কাজ এগিয়ে দিয়েছিলেন, ধন্যবাদ জানাতে হয় উনাকে।


প্রথমেই চুলা জালিয়ে ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই রোষ্ট সাইজ করে ফেললাম!


খাসির এই রেজালা ভাবী রান্না করতে চেয়েছিলেন (ছড়িয়ে দিয়েছিলেন) কিন্তু পরে তিনি হাওয়া হয়ে যান! সেই এক গল্প, পরে বলা যাবে!


মিনিট ৩০ এ পোলাও সাইজ! পোলাও রান্নায় বিশেষ উৎসাহ ছিল বন্ধু কবিরের।


বিফ কাবাব, অবশ্য এটা বাসা থেকে, ভাঁজাটা আমার ছিল।


বন্ধু শ্যামলের ধরা মাছ ভাঁজা হাতে আমাদের সোহেল ভাবী। তাজা মাছ ভাঁজা, খেতে অনেক মজা! সত্য না খেলে এটা কাউকে বুঝানো যাবে না!


কাটাকুটিতে ওস্তাদ কবিরের সালাদ।


লেবু কাঁচা মরিচ তো থাকছেই!


ঠিক ২টা ৪৫মিনিটে আমাদের খাবারের প্রথম ব্যাচ বসে পড়ে!


এভাবে খোলা জায়গায় বসে খেতে মন্দ লাগে না!


এবারের পিকনিকে ছবি তোলায় আমার তেমন মনোযোগ ছিল না! প্লেটের খাবার গুলোর ছবির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম!


রাতে বড় ছেলে বুলেটকে জিজ্ঞেস করলাম, কি রে পিকনিকে বাবার হাতের রান্না খেয়ে কেমন লাগলো? ছেলে হাসে, উত্তর দেয় না! ভাল রান্না করে কারো মুখ বন্ধ করে দেয়া কোন ব্যাপার না! হা হা হা…।


বছরের শেষ পিকনিক!


শিশু বলতে এখন এই দুইটাই, প্রায় বন্ধুদের বাচ্চারা এখন বড় হয়ে গেছে!


বুড়োদের আড্ডা!


শীতের পড়ন্ত বিকেল!


দারুণ সময়!


সন্ধ্যার পর আমাদের ফিরে চলার পালা।


গ্রামের মেঠো পথ পেরিয়ে


শহরের পথে বড় রাস্তা!


আপনারা জন্য আমরা আছি!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আনন্দে কাটুক আপনাদের সবার সময়।

(অনেক কিছু লিখার ইচ্ছা ছিল, কেন যেন আজকাল আর তেমন লিখতে পারছি না। লিখার সেই সময়, ভাবনা আর কিছুতেই মিলাতে পারি না। সরি বন্ধুরা। তবে রান্নার তারিফ শুনে ভাল লেগেছিল, সবাই পেট পুরে খেতে পেরেছিল, সেটা দেখে আনন্দ পেয়েছি। মশলাপাতিতে মনোযোগ একটু বেশি দিয়েছিলাম, ফলে প্রতিটা আইটেমে সব কিছু পরিমিত ছিল। লবন, ঝাল সব বুঝে দিয়েছিলাম! আশা করি আগামীতে আরো বড় রান্নায় যোগ দিবো এবং আপনাদের তা জানাতে পারবো। রান্না ভালবাসায় বাকী জীবন কাটিয়ে দিতে চাই!)

6 responses to “আড্ডাঃ বছরের শেষ দিনের পিকনিক ও আমার রান্নার একটা অপূর্ব সুযোগ

  1. আপনার “পরে বলা যাবে” টাইপের গল্পগুলা আপনি পরে কখনই আর বলেন না -_-
    সুন্দর জায়গা,বনভোজন এ গেলেন জায়গার ডিটেইলস দিলে ভালো হত, শীতের পিকনিকগুলা জমে বেশ,আমাদের এখন আর তেমন পিকনিক করা হয় না,বুলেট ছোট থাকতে যা আনন্দ করার করে নেন,আমার ক্ষেত্রে ভাইয়া বিদেশে,আমি ঢাকার বাইরে, সবাই একত্র যদি কোনো ভাবে হয়েও যায় তাহলে বাধ সাধে, অমুকের এই পরীক্ষা,তমুকের সেই বোর্ড পরীক্ষা এইরকম ঝামেলা করে আর করাই হয় না,ফ্যামিলি ছাড়া দূরে কোথাও ঘুরতে যেতেও ভালো লাগেনা, তাই এখন আর অতটা হয়ে ওঠে না।বোঝা যাচ্ছে, আপনারা অনেক আনন্দ করেছেন, প্রত্যেকবছর ই এইরকম কইরেন পরে পরিবারের একেকজন একেক প্রান্তে চলেও গেলে আর কিছু হয় না, আম্মু তো মাঝে মধ্যে বলেই ফেলে, দুই ছেলে ফ্যামিলির বাইরে চলে গেল,আর আসবে না :/

    খাবারের চেহারা খুব ই ভালো হইছে,কাঠের আগুন এর রান্নার একটা আলাদা মজা আছে। তবে বনভোজনে ঘোরাঘুরি এর একটা ব্যাপার আছে, আমার মতে এমন ধরনের রান্না করা উচিৎ যাতে অস্বস্তি না হয়,ঘরের রান্নায় অস্বস্তি হয় না,কারণ এইটা ঘরের রান্নাই একদিক দিয়ে। গরু খাসি খাওয়ার চেয়ে আচারি মুরগি করা যেত কম তেলে, আর এক আইটেম চাইনিজ চিকেন ভেজিটেবল করা যেত। পেট ভরে খেলেও কোনো অস্বস্তি হত না।আর বোরহানি রাখা যেত।

    যাই হোক, আগামী জানুয়ারির ১০ তারিখ থেকে নিজের প্রফেশন এর জন্য পড়ালেখা করতে যাচ্ছি,আপনার দোয়াপ্রার্থী, আপনার সাথে যোগাযোগ এবং গল্প ও রান্না সাইট এ আগমন অবশ্যই থাকবে।

    শুভেচ্ছা ও ভালোলাগা

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ ভাতিজা।
      এত বড় কমেন্ট করার জন্য অনেক অনেক খুশি হলাম। যাই হোক, কিছু গল্প আসলেই আর লিখতে পারি না, আশে পাশের মানুষ কষ্ট পাবে বা নিজদের গায়ে টেনে নিয়ে নিবে বলে আর বলা হয় না। আমি আসলেই লিখতে চাই। চারপাশের পরিস্থিতির জন্য লিখতে পারি না!

      যাই হোক, চাচ্চু, তোমাদের সাফল্য দেখে যেতে চাই।

      আশা করি, ঢাকার বাইরেও আনন্দের জীবন কাটবে এবং ভাল হবে। যোগাযোগ হীন হয়ে পড়ো না, মাঝে মাঝে ফাঁকে ঝুকে দেখে যাবে।

      আমাদের এই সম্পর্ক আমৃত্যু টিকে থাকুক।

      শুভেচ্ছা ও ভালবাসা থাকলো।

      Like

  2. office e kajer fake ami always apnar ei ranna o golpo tei break ta nei. khub valo lage. onek ranna sohoje korar upay shikhechi. soup try korecilam. oshadharon. creamy pron soup ta khub valo ja atodin sudhu restaurant ei khetam. thanks a lot. my best wishes and best regards to u and your family.

    Liked by 1 person

  3. কত বছর এভাবে বাইরে কোথাও দল বেধে পিকনকে যাইনি।
    খুব ভালো লাগলো ছবিগুলো দেখে।
    খাবারের ছবি দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে অনেক সুস্বাদু হয়েছিলো।
    আপনার পুচকুটাকে আমাকে দিয়ে দেন রান্নাতো ভাই। পেলে বড় করে দেই।

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন।
      হ্যাঁ, আমরাও অনেকদিন পরে এভাবে বের হলাম। বছরে দুই একবার এভাবে বের হলে ভাল লাগে।

      হ্যাঁ, আপা এটা একটা সুযোগ ছিল, রান্না করে দেখিয়ে দেয়ার। আল্লাহ্‌ রহমতে সবাই ভাল বলেছে, ভাল লেগেছিল। চান্স পেলে আবারো রান্না করবো।

      পুচকুটাকে ওর মা চোখের আড়াল হতে দেয় না! হা হা হা…।

      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s