Gallery

রেসিপিঃ আইড় মাছের ঝোল (পেঁয়াজ কালি টুইস্ট)


গতানুগতিক রান্না, তবে সবজি হিসাবে পেঁয়াজ কালি যোগ করে রান্নার একটা আলাদা ভাব আনা হয়েছে! রান্নায় এমন ভাব মাঝে মাঝে নিয়ে আসার প্রয়োজন আছে। সাধারন ও গতানুগতিক রান্না খেয়ে যেতে থাকলেই মুখের ভাব আসে না, খাবারে মনের পুরো আনন্দ পাওয়া যায় না! তবে সত্য যদি বলি, অনেকে রাগ করে ফেলবেন, আমাদের দেশে মায়েরা, বোনেরা, স্ত্রীরা রান্না করেন ঠিকই, সামান্য এদিক সেদিক করে রান্না করতেই চান না! উনারা সব সময়েই গতানুগতিক রান্না এবং মিক্স ব্যবহার করে থাকেন এবং কেহ যদি করতে চায় সেটাকেও সুন্দর করে নিতে চান না! সাধারন বা ঘরে পড়ে থেকে কোন খাবারের আইটেম নষ্ট হলে ফেলে দেন কিন্তু সেটা দিয়ে কিছু একটা করে খাবারে নূতনত্ব বা সামান্য কিছু আইটেম বেঁচে গেলে সেটা দিয়ে কিছু একটা করে সাশ্রয়ী করা এটা অনেকে চিন্তাও করেন না! আমি এমনি নিজের সংসার বা বন্ধুদের সাথে কথা বলে দেখেছি, সর্বত্র একই অবস্থা! মাঝারি বা নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের মায়েরা, বোনেরা বা স্ত্রীরা একটু এমনি চিন্তা করলে কত পিতা, ভাই বা স্বামী নানান খারাপ অবস্থা থেকে বেঁচে যেত, ঘুষ দূর্নীতি থেকে নিজকে মুক্ত রাখতে পারত! পরকালে এই সব পিতা, ভাই বা স্বামী কত সহজে জবাবদিহি করতে পারতো!

যাই হোক, যারা বুঝদার তারা আমার কথা হয়ত বুঝে গেছেন! মনের অবস্থা ভাল নেই, আরো কিছু কথা বলে যেতে চাই। আমাদের অনেক মা, বোন, স্ত্রী আছেন যারা এটাও বুঝেন না যে তারা মুলত কত জনের জন্য রান্না করছেন, কাদের জন্য রান্না করছেন এবং কতটুকু রান্না করলে এক বেলা চলে যাবে বা কেমন বেঁচে যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি! মুলত এদের রান্না কাজের লোকেরাও মুখে তুলতে চায় না! পরদিন কাজের লোকেরা ঘরে নিয়ে যায় বটে কিন্তু আমি নিশ্চিত রান্না খেয়ে এদের গালিই দিয়ে থাকে বা সেই রান্নাকে নিজেরা ভিন্নভাবে মডিফাই করে খেয়ে থাকে! মশলা, তেল তুলার কথা তো না বলাই ভাল!

মশলা, তেল তুলার অতিমাত্রা ব্যবহারে সংসারের খরচ বেড়ে সেই চাপ যেয়ে সংসারের টাকা উপার্জনকারীর ঘাড়ে পড়ে সেটা ঐ মানুষ্টাকে কত নিঃস্ব করে দেয়, তা একমাত্র বিবেকবান ভুক্তভোগীরাই জানেন। একজন উপার্জনকারী কি করে টাকা উপার্জনের জন্য সৎ পথ ছেড়ে খারাপ পথে চলে যায়, এমন আমি নিজেও দেখেছি! যাই হোক, নারী পুরুষ সবার বিবেক জেগে উঠুক, সবাই আমরা ভাল থাকি, এইকাল পরকালে সবাই সহজে মুক্তি পাই, সেই কামনাই করি!

চলুন, আজ এমনি একটা সাধারন রান্না দেখি। আইড় মাছ রান্না। খুব সাধারন এবং সহজ রান্না, এজ ইট ইজ!

আইড় মাছ, স্বাদের মাছ। এই মাছের চেহারা দেখেও আনন্দ পাওয়া যায়!

উপকরন ও পরিমানঃ
– আইড় মাছঃ ৫০০ গ্রাম কম বেশি, একটা
– পেঁয়াজ কালিঃ ৮/১০ টা (গোড়া)
– পেঁয়াজ কুচিঃ মাঝারি দুই/তিন্টা
– রসুন বাটাঃ এক চা চামচ
– মরিচ গুড়াঃ হাফ চা চামচ বা কম
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– জিরা গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– কাঁচা মরিচঃ কয়েকটা
– লবনঃ পরিমান মত, শুরুতে কম দিয়ে পরে ফাইন্যাল দেখে দিতে হবে
– তেলঃ ৫/৬ টেবিল চামচ (কম তেলেই রান্না করা উচিত)
– পানিঃ পনে এক কাপ বা বেশি

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, তেল গরম করে পেঁয়াজ কুঁচি, লবন ও মরিচ ভাঁজুন


ছবি ২, রসুন দিয়ে দিন, ভাঁজুন।


ছবি ৩, পেঁয়াজের রং হলদে হয়ে এলে হাফ কাপ পানি দিয়ে দিন।


ছবি ৪, এবার মরিচ গুড়া, হলুদ গুড়া দিন, আগুন মাঝারি থাকবে।


ছবি ৫, জিরা গুড়া দিতে ভুলবেন না।


ছবি ৬, তেল উপরে উঠে আসবে।


ছবি ৭, এবার মাছ দিয়ে দিন।


ছবি ৮, মাছ মিশিয়ে নিন। আড় মাছ নরম মাছ, সুতারাং সারা রান্নায় একবার উল্টে দিলেই যথেষ্ট।


ছবি ৯, কয়েক মিনিট পরে আরো কিছু সামান্য পানি দিতে পারেন, ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে রাখুন।


ছবি ১০, এবার পেঁয়াজ কালি বা গোড়া দিয়ে দিন।


ছবি ১১, মাঝারি আঁচে ঢাকনা দিয়ে রাখুন। বেশি নাড়ানাড়ির দরকার নেই, মাঝে মাঝে পাত্রের হাতল ধরে ঘুরিয়ে দিতে পারেন।


ছবি ১২, ঝোল কেমন রাখবেন সেটা আপনি নিজেই নির্ধারন করুন, ঝোল কামাতে হলে ঢাকনা সরিয়ে আগুন বাড়িয়ে দিতে হবে। তবে এই সময়েই ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন। লবন লাগলে দিন, না লাগলে ‘ওকে’ বলে আগে বাড়ুন।


ছবি ১৩, ব্যস হয়ে গেল। গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন, আইড় মাছের ঝোল।


ছবি ১৪, ভাতে যখন পেঁয়াজ কলি মেখে মুখে পুরবেন তখন এর স্বাদ বুঝতে পারবেন।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আসছি আরো আরো মজাদার রান্না নিয়ে, সাথে থাকুন। আপনাদের ভালবাসাই আমাদের পথচলা।

Advertisements

6 responses to “রেসিপিঃ আইড় মাছের ঝোল (পেঁয়াজ কালি টুইস্ট)

  1. দারুণ!! অনেকটা দোপেয়াজির মতই রান্না, পেয়াজ এর কালির ফ্লেভারটা পেয়াজ এর কাছাকাছি, কিন্তু একটু আলাদা, পেয়াজ এর মত অত ঝাঁঝালো না, সফট হলে মুখে ভালো লাগবে, সেই হিসেবে এই রান্না ১০ এ ১০!!

    একটা জিনিস, আপনারা কি সবসময় এই ননস্টিক কোটিং দেওয়া ইউটেনসিলস ব্যবহার করেন?? যতদূর জানি এইটা ব্যবহার করা খুব একটা স্বাস্থ্যসম্মত না,আমেরিকায় টেফলন(ননস্টিক) কোটিং দেওয়া ইউটেনসিলস অলরেডি নিষিদ্ধ

    শুভেচ্ছা

    Liked by 2 people

    • ধন্যবাদ চাচা। হ্যাঁ, বেশ মজাদার রান্না হয়েছিল।
      রান্নার পাত্রের ব্যপারে আগে সিল্ভারের পাত্র বা লোহার কড়াই ব্যবহার করতাম, গত কয়েক বছরে তা বাদ দিয়েছি।
      যাই হোক, ভাবছি এবার আবার কিছু রান্নার পাত্র কিনবো। ননস্টিক নিয়ে আগেও কিছু লেখা পড়েছি, পক্ষে বিপক্ষে। ইউরোপে এগুলো নিষিদ্ধ নয়।

      ছবি তোলার জন্য এ পাত্রের বিকল্প নেই বিশেষ করে আমার রেসিপির জন্য। সিঙ্গেল ছবি হলে পাত্রের প্রশ্ন উঠে না! পাত্র ভাল না দেখাতে পারলে আবার অন্যরা ভুল বুঝতে পারে! আগের রেসিপি গুলোতে কিছু এমনি সিল্ভারের ডিস্কো টাইপ পাত্র ছিল, দেখতে ভাল লাগে না! হা হা হা।।

      শুভেচ্ছা।

      Liked by 1 person

      • সিলভার বা লোহা না,রান্নার কাজে দস্তার কড়াই ব্যবহার করা হয় আমাদের বাসায়, লোহার কড়াই হল ডুবো তেলে কিছু ভাজার জন্য ব্যবহার করা হয়,আর সিলভারের কড়াই আসলে ব্যবহারটা অতটা সুবিধাজনক না, পুড়ে যাওয়ার বা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কারণ অতটা পুরু না।
        ছবি তোলার সময় সুন্দর দেখায় সেরকম টা বললে বলি চকচকে প্রলেপ দেওয়া একপ্রকার এলুমিনিয়াম এর হাড়ি পাওয়া যায়,ওইগুলা ব্যবহার করতে পারেন, আর কড়াইর ক্ষেত্রে বাণিজ্য মেলা প্রায় এসে গেল,অনেক ইন্ডিয়ান ইউটেনসিলস শপ এ সুন্দর সুন্দর কড়াই পাবেন, ওই গুলা আপনার ননস্টিক থেকে বেশি সুন্দর লাগবে 🙂

        Liked by 2 people

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s