গ্যালারি

রেসিপিঃ বেগুন, আলু ঝোল (ইলিশের মাথা সঙ্গী)


শীতকালে আমাদের দেশে নানান সবজি পাওয়া যায় (যদিও এখন সারা বছরে অনেক সবজি পাওয়া যায়) তবে শীতের এই সময়ে সবজি খেতে অনেক মজা! বাজারে অনেক তরু তরকারী উঠে আসছে। নুতন বেগুন দেখে ভাল লাগছে। বাসায় ইলিশ মাছ ছিল ফলে ভাবলাম এই বেগুনের সাথে ইলিশের মাথা দিয়ে রান্না করলে মন্দ হবে না। যদিও এমন রান্না আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোতে প্রায় হয়ে থাকে, আপনারা অনেকেই নিষয় এমন রান্না বহুবার খেয়েছেন। আমি আমাদের পরিবারে ছোট বেলা থেকে খেয়ে এসেছি যদিও ছোটবেলায় এমন বেগুন দেখলে ফাল দিয়ে উঠতাম! কালের আবর্তে এখন এমন এমন বেগুন রান্নাই সেরা খাদ্য মনে হয়! বেগুন আনন্দদায়ক খাবার মনে হয়! (সময় বড় কঠিন!)

চলুন মজাদার বেগুনের এমনি একটা রান্না দেখি। এমনি রান্না নূতনদের কাজে লাগবে আর যারা পুরানো রান্নাকারী তাদেরও মনে করিয়ে দেবে। (এমন রান্না আগেও কয়েকবার দেখিয়েছি, তবুও আবারো দেখাতে মনে মানে না! প্রতিটা রান্নাই ইউনিক এবং আলাদা বলে আমি মনে করি।)

পরিমান ও উপকরনঃ (রান্নার সময় আপনিও মশলার অনুমান করতে পারেন)
– তিনটে মাঝারি গোল বেগুন (অনুমানিক মাঝারি এক বাটি রান্না)
– ইলিশ মাছের মাথা ও লেজ
– আলু, মাঝারি দুইটা বা বেশি
– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি দুইটা
– রসুন বাটা, দেড় চা চামচ
– মরিচ গুড়া, দুই চিমটি (রং ধরাতে মাত্র)
– হলুদ গুড়া, এক চা চামচের কিছু কম
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা
– লবন, পরিমান মত
– তেল, ৮/১০ টেবিল চামচ, একটু বেশী লাগতে পারে, বেগুন তেল টানে (কম তেলে রান্না ভাল, তবে রান্না করার সময়ে খেয়াল বেশী রাখতে হয়!)
– পানি, পরিমান মত

  • চিনি, দুই চিমটি (ইচ্ছা না হলে না দিলেও চলে)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, তেল গরম করে পেঁয়াজ ও রসুন দিন, ভাল করে ভাঁজুন।


ছবি ২, লবন ও কাঁচা মরিচ (এক দুইটা চিঁরে) দিন।


ছবি ৩, পেঁয়াজের রং কিছুটা পরিবর্তন হলে হাফ কাপ পানি দিয়ে দিন। কাষান!


ছবি ৪, এবার হলুদ ও মরিচ দিন।


ছবি ৫, আগুন মাঝারি থাকবে।


ছবি ৬, সামান্য তেল উঠে গেলে এবার ইলিশ মাছের মাথা ও লেজ দিন।


ছবি ৭, এভাবে আলু দিন।


ছবি ৮, আগুন মাঝারি রেখে মিশিয়ে নাড়িয়ে নিন।


ছবি ৯, ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১০ রাখুন, এই সময়ে আলু ও মাছ সিদ্ধ হয়ে যাবে।


ছবি ১০, এবার বেগুন দিন।


ছবি ১১, এই পর্যায়ে বেগুন দিতে হবে এই জন্য যে, বেগুন আলু এবং মাছের তুলনায় অনেক নরম, কাজেই রান্না হতে বেগুনের সময় কম লাগবে।


ছবি ১২, মিশিয়ে নিন।


ছবি ১৩, আগুন কম আঁচে চলুক।


ছবি ১৪, হাফ কাপ পানি দিয়ে দিন।


ছবি ১৫, নাড়িয়ে দিন। (এই পর্যায়ে চাইলে চিনি দিতে পারেন, না পছন্দ করলে দেয়ার দরকার নেই, স্বাদে সামান্য হেরফের হতে পারে, এই তো!)


ছবি ১৬, এবার ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১০ রাখুন, আগুন মাঝারি। ৫/৭ মিনিটের মাথায় ঢাকনা সরিয়ে নিন কারন তা না হলে বেগুনের রং মলিন হয়ে যাবে!


ছবি ১৭, ব্যস হয়ে গেল। ঝোল কেমন রাখবেন নিজেই কল্পনা করুন। তবে এই সময়ে ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন। লাগলে দিন!


ছবি ১৮, ব্যস পরিবেশন করুন। গরম ভাতের সাথে জম্বে বেশ!


ছবি ১৯, স্বাদ বলে বুঝানো যাবে না! আপনাকে খেয়েই বুঝে নিতে হবে! বিশেষ করে আমাদের জাতীয় মাছ  ইলিশের ঘ্রানের সাথে বেগুন আলু, আহ! অপূর্ব! ডিলিশিয়াস!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s