গ্যালারি

রেসিপিঃ রুই মাছ ভুনা (টমেটো যোগে, মনে রাখতেই হবে!)


আমি মাছ কিনে একটা আলাদা আনন্দ পাই! ছোট বড় যাই হোক, মাছ যদি তাজা হয় তবে সেই আনন্দের মাত্রা আরো বেশী হয়ে থাকে! আজকাল বাজারে বেশ মাছ উঠে কিন্তু দাম সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে। মাছ জ্যান্ত হলে দাম আরো আকাশে উঠে পড়ে! সাইজ একটু বড় মানে দুই কেজির বেশি হলে তো কথাই নেই। গত কয়েকদিন ধরে বাজারে তাজা রুই, চিংড়ি, পুঁটি মাছ দেখে আসছিলাম। ফলে এই তিন ধরনের মাছ কিনে ফেললাম! চিংড়ি হাফ কেজি’র সাহস হয়েছিল! অপেক্ষাকৃত পুঁটি মাছের দাম কম ছিল! পুঁটি মাছের দাম কমের কারন বোধ হয় এখন ঢাকার মানুষ এই কাটাযুক্ত মাছ খেতে আর পছন্দ করছে না!

পুঁটি মাছ নিয়ে গত কয়েকদিন আগে এক আপার ফেবুতে স্ট্যাটাস দেখে এটা মনে হয়েছিল, তিনি লিখেছিলেন, ‘পুঁটি মাছ কেটে পরিষ্কার করার চেয়ে কষ্টকর কাজ আর হয় না’! হা হা হা… যাই হোক, বড় মাছ গুলো বাজার থেকে কেটে আনতে পারলেও পুঁটিমাছ কে কেটে দেবে? আমাদের পুঁটি মাছ গুলো দুইদিন হল এখনো ফ্রীজে! এই রেসিপি লিখতে গিয়ে মনে হচ্মাছে আমি নিজেই কাটাকুটি শুরু করে দেই! যাই হোক, দেখা যাক সামনে কি হয়! পুঁটি মাছ ভাঁজা খাবার একটা ইচ্ছা আছে, সেটা আশা করি পূর্ন হবে।

তবে আজ চলুন, একটা সাধারন মাছ রান্না দেখাই। এই রান্নাটা আলাদা কিছু নয় তবে জিরা গুড়া নয়, আস্ত জিরা দিয়ে শুরু করা রান্না। খেতে চমৎকার লেগেছিল! আশা করি আপনারাও একদিন এই ধরনের রান্না করে দেখবেন। হাতের কাছে সব কিছুই আছে, লাগবে শুধু ধৈর্য এবং ভালবাসা! চলুন দেখে ফেলি!

উপকরন ও পরিমানঃ (আপনি নিজেও অনুমান করে নিতে পারেন)
– রুই মাছ, ৮/১০ টুকরা (মাছ দোকানী কেটে দিয়েছিল বলে সাইজ ছোট হয়েছে!)
– জিরা, আস্ত তিন চিমটি
– রসুন চেঁচা, এক চা চামচ
– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি তিনটে
– টমেটো কুঁচি, মাঝারি দুটো
– গুড়া মরিচ, বুঝে শুনে ঝাল দেখে
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচের কিছু বেশি (তবে মাছ ভাঁজার সময়ে সামান্য হলুদ গুড়া মেখে নিতে হবে)
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা
– লবন, বুঝে
– তেল, কয়েক চামচ (কম তেলেই রান্না করুন)
– পানি, এক কাপ বা সামান্য বেশী

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে, তবে মোবাইল ক্যামেরার তোলা ছবি বলে রান্নার রং সুন্দর আসে নাই, বাস্তবে আরো চমৎকার ছিল।)

ছবি ১, মাছ ভেঁজে নেয়াটা কুমিল্লা স্টাইল! আপনার ইচ্ছা হলে মাছ সামান্য ভেঁজে নিতে পারেন। নতুবা সরাসরি রান্নায় চলে যেতে পারেন।


ছবি ২, তেল গরম করে তাতে জিরা আস্ত দিন, রসুন চেঁচা ও সামান্য লবন দিন। ভাঁজুন।


ছবি ৩, রসুন সামান্য হলদে হয়ে এলে পেঁয়াজ কুঁচি, টমেটো কুঁচি ও কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিন।


ছবি ৪, ভাঁজুন।


ছবি ৫, পেঁয়াজ কুঁচি হলদে হয়ে এলে মরিচ গুড়া ও হলুদ গুড়া দিন। ভাঁজুন।


ছবি ৬, কয়েক মিনিট ভেঁজেই পানি দিয়ে দিন। ঝাঁজ ছোটানোর দরকার কি!


ছবি ৭, আগুন বাড়িয়ে দিন।


ছবি ৮, ঝোল ফুটে উঠবে।


ছবি ৯, এবার মাছ দিয়ে দিন।


ছবি ১০, ঢাকনা দিন, আগুন কমিয়ে দিন। এই ভাবে মিনিট ২০ রাখুন।


ছবি ১১, মাঝে খুন্তি দিয়ে নাড়িয়ে দিতে পারেন। আগুন কম থাকবে।


ছবি ১২, ঝোল কেমন রাখবেন আপনি নিজেই নির্ধারন করুন। ফাইন্যাল লবন দেখুন। সব ঠিক থাকলে ধনিয়া পাতার কুঁচি দিন, ইচ্ছামত!


ছবি ১৩, ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৪, গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন। আমি নিশ্চিত আপনার প্রিয়জন এই রান্না খেয়ে আপনার তারিফ করবেই! ঝোল দিয়েই তিনি হয়ত এক প্লেট সাবাড় করে দিবেন!

আমাদের রান্না টেষ্টার বুলেট আমাকে বলেছে, ঝাকাস! হাতের বুড়ো আঙ্গুলে আপ সাইন দেখিয়ে বলেছে, এভাবেই রান্না করবে সব সময়ে! হা হা হা…।। আসলে খেলেই গলা দিয়ে নেমে গেলেই হল!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

  • বন্ধুরা, যে  কোন মাছ এভাবে রান্না করে দেখতে পারেন। মাছ তাজা হলে ভাঁজার দরকার নেই আর সামান্য ভেঁজে নিলেও কি আসে যায়! তবে আমি মনে করি মাছ ভাঁজলে মাছের আসল স্বাদের কিছুটা ইজ্জত চলে যায়! তাজা মাছ সরাসরি রান্নাই উত্তম।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

6 responses to “রেসিপিঃ রুই মাছ ভুনা (টমেটো যোগে, মনে রাখতেই হবে!)

  1. Apnake mone must rakhboi….valo thakun….

    Liked by 1 person

  2. Hello from Dallas, TX
    Asalamu alaikum Udraji Bhai,
    Love, love, love your blog!! Thank you so much for bringing all these authentic Bengali recipes for us! I learned so much from your blog.
    May Allah bless you and your family,

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন।
      আপনাদের জন্যই আমরা আছি। আপনাদের আনন্দ দিতে আমরা সব সময়েই প্রস্তুত। আপনারাই আমার টার্গেট গ্রুপ। রান্না হচ্ছে ভালবাসা, এই ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হবেন কেন।

      যাই হোক, সময় পেলে রান্না করুন। আমি আছি সাথে।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  3. Hello, Me from Fukuoka, Japan and today I have become new followers of your site . Your blog is very much helpful for us specially who we live in abroad and also unmarried to get knowledge about very essential and ofcourse delicious recipie.

    Good Luck!!!!!!!!!!!!

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ আরিফ ভাই।
      আমিতো আপনাদের জন্যই আছি। আমি একদিন আপনার মতই ছিলাম। আমাদের সময়ে এমন নেটে রেসিপি পাওয়া যেত না বলে রান্না করতে পারি নাই অথচ সময় ছিলো, টাকা ছিলো, বাজার সদাই কাছে ছিল। ক্যারেলার হোটেলে খেয়ে খেয়ে মোটামুটি সাউথ ইন্ডিয়ান হয়ে পড়ছিলাম। হা হা হা…।

      রান্না হচ্ছে ভালবাসা। অবসর পেলে রান্না করুন, সময় আনন্দে কাটবে। আর বিদেশীদের ধরে এনে খাওয়ান। দেশের সন্মান বাড়বে।

      শুভেচ্ছা আপনার জন্য। কিছু জানার থাকলে সংকোচ করবেন না। সরাসরি মেসেজ বা কমেন্টে জানাবেন। আমার চেষ্টা থাকবে।

      আপনারাই আমার টার্গেট গ্রুপ। সাথে থাকবেন আশা করি।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s