Gallery

আড্ডাঃ দি কারী হাউস, শান্তি নগর


পরিবার পরিজন নিয়ে হোটেলে বা রেষ্টুরেন্টে খেতে কার না ভাল লাগে? পরিবারের সবার সাথে কিছু সময় আনন্দে কাটাতে কার না ভাল লাগবে? তবে আমি মনে করি আমাদের দেশেও এখন সবার জন্য এমন অবস্থা তৈরী হয় নাই। উচ্চবিত্তরা কিছুটা হোটেলে খেতে পারলেও মধ্যবিত্ত এবং নিন্মবিত্তদের এই পথে পা বাড়ানোর উপায় নেই। আমাদের হোটেলে গুলোতে খেলে মনে হয়, খাবার নয় টাকা খাচ্ছি!

আমি আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, হোটেল ব্যবসায় মালিকেরা সব সময়ে বেশী টাকা লাভ করতে চায়, খাবারের মান এবং পরিমানে কোন গুরুত্ব দেয় না! যেমন ধরুন, আপনি এক প্লেট ফ্রাইড রাইস কিনলেন ৪০০ প্লাস ভ্যাট দিয়ে। এখন কথা হচ্ছে এখানে আপনি কতটুকু রাইস আশা করতে পারেন। আমি মনে করি মাঝারি মানের হোটেল বা রেস্টুরেন্ট হলেও এখানে আধা কেজি চাল দিতে হবে। আধা কেজি চালের দাম ৪০ টাকা (এখন আমাদের দেশে ভাল কালী জিরা চালের কেজি ৮০-৮৫ টাকা, এই দামের কালিজিরা চাল আমার মনে হয় না কোন রেষ্টুরেন্ট ব্যবহার করে থেকে, ওরা আরো কম দামের চাল ব্যবহার করে, ফলে দাম আরো কম পড়ে), ডিম সহ অন্যান্ন উপকরণ ৬০ টাকার হলে ওদের খরচ ১০০ টাকা! বাড়িয়েই ধরি, মোট আধা কেজি ফ্রাইড রাইসের উৎপাদন খরচ ২০০টাকা, তাহলে ৪০০ টাকায় বিক্রি করলেও লাভ ২০০ টাকা! এখন কথা হচ্ছে, ৪০০ টাকার এক প্লেট ফ্রাইড রাইসে কেন তিন জন পেট পুরে খেতে পারবে না! আমি প্রায় এই মাঝারি রেষ্টুরেন্ট গুলোতে দেখেছি, এরা পরিমানে এত কম দেয় যে, দুইজনেও ভাল করে (সাথে আরো কিছু নেয় বটেই) পেট পুরে খেতে পারে না!

আপনারা যারা এমনি হোটেলে খেয়ে থাকেন তারা নিশ্চয় আমার সাথে একমত হবেন। খাবারের মান ও পরিমান, দাম/টাকার সাথে মিল রেখে করতে হয়, এটা আমাদের দেশের অনেক হোটেল মালিক জানেন বলে আমার মনে হয় না! কারন উনাদের মাথায় শুধু ব্যবসা ঘুরে, বছর না ঘুরতেই আরো একটা হোটেল করার স্বপ্ন দেখেন এবং অনেকেই সফল হয়েও পড়ছেন!

আজ তেমনি একটা রেষ্টুরেন্টের কথাই আপনাদের জানাবো! হ্যাঁ, শান্তি নগরে অবস্থিত কিছুদিন আগে চালু হওয়া ‘দি কারী হাউস’। বেশ সাজানো ঘুছানো রেষ্টুরেন্ট! অনেক টাকা ব্যয়ে এই রেষ্টুরেন্ট করা হয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিছু আমি খাবার খেয়ে হতাশ! উনারা খাবারের দামের সাথে মান এবং পরিমানের কোন ফরাক এখনো বুঝতেই পারছেন বলে মনে হয় না! রেষ্টুরেন্ট টাকা কামানোর মেশিন বটেই, কিন্তু যারা খাবার খায় তাদের আনন্দ দিয়েই টাকা উপার্জন করতে হয় এটা মনে হয় না এই রেষ্টুরেন্টের ব্যবস্থাপনা পক্ষ চিন্তা করেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলবো, এখানে নিজের পকেটের টাকায় একবার খাবারের পর সেই ব্যক্তি আর ২য় বার আসবেন! (দাওয়াত বা উক্কা পেলে আসবেন কিন্তু খাবারের মান ও উপকরণ নিয়ে সবাইকে বলেই যাবেন!)

যাই হোক, এটা নুতন নয়। আমার কাছে বেইলী রোডের প্রায় খাবারের (কয়েকটা বাদে) দোকানকে এমনি মনে হয়, দিন দুপুরে ডাকাতি, চোখের সামনে! মানুষ মনের আনন্দে তাদের প্রিয়জনদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবার খায় কিন্তু বিল দিয়ে সেই আনন্দ আর থাকে না। বেইলী রোডের প্রায় সব খাবারের দোকানেই আমার খাবার অভিজ্ঞতা আছে।

চলুন কিছু ছবি দেখি, আগামীতে এই বিষয়ে আরো লেখার ইচ্ছা থাকলো।


ছবি ১, দুপুরেই কোন ভীড় নেই! বিরাট হল রুমেই আমরাই ছিলাম মাত্র, খাবারের মাঝামাঝি সময়ে অন্য টেবিলে দুইজন এসেছিল!


ছবি ২, বাহারী প্লেট বাটি।


ছবি ৩, স্যুপ।


ছবি ৪, আহ।


ছবি ৫, শিশুদের বসার জন্য তেমন ভাল চেয়ার নেই। হয়ত এই বিষয় কেহ মনেও রাখে নাই। রেষ্টুরেন্টে কি শুধু বড়রা খেতে আসে!


ছবি ৬, বাহার।


ছবি ৭, এই দেখুন ৪০০ টাকার ফ্রাইড রাইস। চিকেন ছিল কি না মনে করতে পারছি না! ছবিতেও খুঁজে পাচ্ছি না!


ছবি ৮, চিকেন (মুল নামটা মনে নেই), এখনো আমার কাছে ‘আবর্জনা’ই মনে হয়। না স্বাদ, না পরিমান! খেতে বসে স্ত্রী পুত্রের সামনে কিছু বলি নাই বটে কিন্তু আমার কাছে খুব দুঃখ লেগেছিল। চিকেনের চামড়াতে ভরা ছিল! এই ধরনের রান্না আমি নিজে কয়েক শ বার করেছি! আমি চোখের সামনে বুঝতে পারছি, কিভাবে মানুষকে ঠকানো হচ্ছে!


ছবি ৯, তিন জন মানুষের জন্য এই খাবার যথেষ্ট হবার কথা ছিল! কিন্তু পরিমান দেখে পরিবেশন করতে গিয়ে ভাবতে হয়েছে, কে কতটুকু নিবে!


ছবি ১০, এই ছিল আমার প্লেট! ওদের মুখের দিকে চেয়ে কিংবা তুমি নাও তুমি নাও করে সময় কাটাতে হয়েছে! হা হা হা…।


ছবি ১১, পানীয় কাঁচের বোতলে, দাম ক্যানের!


ছবি ১২, শুধু আছে বাহার!


ছবি ১৩, এই নিন বিল! দেখুন, কোন ডিসের কত দাম এবং কত টাকা ভ্যাট কাটা হয়েছে! এই ভ্যাটের টাকা কি সরকার পাচ্ছে! নাকি এটাও লাভ! (বিল দিতে আমি কষ্ট পেয়েছি!)


ছবি ১৪, তবে ডেকোরেশন ভাল, সামনে বসার জন্য প্যাসেজ ভাল! শহরের রাস্তায় হাটু পানি (যদি আপনি কোন বৃষ্টির দিনে যান) দেখে হয়ত ভাল লাগবে!

এই রেষ্টুরেন্টে এই জীবনে না খেলেও আফসোস থাকবে না! তবে সুযোগ পেলে ভিতরটা হেঁটে দেখে আস্তে পারেন! হা হা হা।

(সময় পেলে আরো লেখার ইচ্ছা আছে, লেখার ইচ্ছা আছে বেইলী রোডের খাবারের দোকান গুলো নিয়েও)

সবাইকে শুভেচ্ছা।

4 responses to “আড্ডাঃ দি কারী হাউস, শান্তি নগর

  1. আজকাল রেস্টুরেন্ট একটা ব্যবসা হয়ে গেছে, খাবারের ঠিক নেই সুন্দর সুন্দর ডেকোরেশন দেখিয়ে ফাইভ স্টার হোটেলের মত দাম রাখতে জুড়ি নেই। আবার এখন মড়ার উপর খাড়ার ঘা এর মত খাবারের উপর যুক্ত হয়েছে ভ্যাট!!! মানুষের একটা মৌলিক চাহিদার উপর যে সরকার ট্যাক্স বসায় তাদের আর কী বলব, বসাইছে ঠিক আছে, ঠিকভাবে সেটা হ্যান্ডেল করতে পারছে না,ফলে এই রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা ভ্যাটের নামে এক্সট্রা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, এই দৃশ্যটা কিন্তু পাঁচ বছর আগেও ছিলো না, আবার যেসব রেস্টুরেন্ট সেবা এবং মান এ অতুলনীয় তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অন্যান্য রেস্টুরেন্টের এঈ গলাকাটা দামের কারণে, নিতান্তই দরকার না হলে আজকাল কেউ বাইরে খেতে চায় না, বাসায় ছোট বাচ্চা কাচ্চা থাকলে মাঝে মধ্যে বাইরে খায় কেউ কেউ। আমরা চার ভাই বোন, আমাদের ও প্রচন্ড বাইরে খাওয়ার অভ্যাস ছিল, মাসে একবার অন্তত ভালো কোথাও খেতে যেতাম, প্রত্যেক সপ্তাহে বড় বড় ফাস্টফুড শপে গিয়েও খাওয়া হত, এখন বড় হয়ে গেছি এই কারণে কি না জানি না, এখন আর অতটা ইন্টারেস্ট নাই, খেতে ইচ্ছা করলেও অত্যধিক দামের কারণে খেতে ইচ্ছা করে না।এখন বাসায়ই মোটামুটি বাইরের খাবার দাবার,স্পেশালি চাইনিজ রান্না গুলো শিখে ফেলছি, খেতে ইচ্ছা করলে আর হাতে সময় থাকলে করি, এবং আশ্চর্য হয়ে দেখি আমি ১০০০ টাকা খরচ করে যে কয়টা আইটেম বানাইছি, এর তিন ভাগের এক ভাগ পরিমাণ প্রত্যেক আইটেম থেকে নিয়ে সেটা রেস্টুরেন্ট এ পরিবেশন করলে তার দাম কমছে কম ৩-৪ হাজার হত (কিছুদিন আগে ফেসবুকে ছবি দিয়েছিলাম, প্রায় ৭ আইটেম করছিলাম) , আমার মতে রেস্টুরেন্ট এ মানুষ সময় বের করেই খেতে যায়, অন্তত এক থেকে দেড় ঘন্টা রেস্টুরেন্টে কাটায়, সেই সময় টা বাসায় রান্না করলেও এর থেকে পরিচ্ছন্ন আর স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু রান্না বাসায়ই খাওয়া যায়।

    শুভেচ্ছা

    Liked by 1 person

    • ভাতিজা, আমি দেশ বিদেশে অনেক বড় ছোট ফুটপাতের দোকানে খাবার খেয়েছি। আমি শুধু এই ব্যাপারটা বাংলাদেশের হোটেল গুলোতেই দেখি, এটা অত্যান্ত দুঃখজনক ব্যাপার। খেতে বসে যদি মনে হয় টাকা খাচ্ছি, তা কিছুতেই কারো ভাল লাগবে না!

      কয়েকদিন আগে বেইলী রোড়ের একটা দোকানে ১২০ টাকা নুড্যুলস খেয়েছিলাম, আমার মনে হয়েছিল ২০ টাকার মাল মশলাও দেয় নাই।

      সারা দুনিয়া থেকে আমরা আলাদা বটেই! সত্য মিথ্যার ভাবনা গুলোও বুঝতে পারি না! তবে এটা গোড়ার গলদ, আমরা এখনো কোন ভাল রাষ্ট্রপ্রধান পাই নাই, যিনি শক্ত করে বকে আমাদের বিঝিয়ে দেবেন, কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ!

      আমিও মনে করি, যাই পাও ঘরেই রান্না করে খাও!এতে টাকা যেমন বাঁচবে তেমনি শরীর ভাল লাগবে। অনেক রেষ্টুরেন্টে খাবার স্বাদ করার জন্য কিছু ক্যামিক্যাল ব্যবহার করে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। টেস্টিং সল্ট ওরা প্রায় খাবারেই দেয় যা ক্ষতিকর।

      হোটেলের খাবার খেলে এখন পেশার বেড়ে যায়, গলা তিতা লাগে। এই সব হোটেলে যারা রান্না করে তাদের আসলে কোন প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, ফলে কোনটা খারাপ কোন টা ভাল বুঝতেও পারে না!

      শুভেচ্ছা নাও।
      (কোথায় ভর্তি হলে? আমরা কি আগামী দিনে একজন ভাল বিবেকবান ডাক্তার পাব?)

      Like

      • মেডিকেলেই ভর্তি হলাম। ভালো বিবেকবান ডাক্তার হতে পারব কি না জানিনা, সময়ই সবকিছু বলে দিবে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত মেডিকেলে পড়া হবে কি না জানি না, ফ্যামিলি ছেড়ে থাকার কথা চিন্তাও করতে পারি না, বিদেশ হলে অবশ্য অন্য কথা ছিল,আসলে সত্যি কথা হল সেখানে ঢাকার মত আরাম আয়েশ বা সুযোগ সুবিধা নিয়ে কাটাতে পারব নাকি জানি না।

        বর্তমান সময়ের খাদ্য শিল্পে খুবই বড় একটা মিসকনসেপশন হল টেস্টিং সল্ট। এইটাকে যদি আমরা কেমিকেল উপাদান বলি তাহলে খাদ্য লবণ ও একটা কেমিকেল উপাদান। টমেটো সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর সবজি তে এটা পাওয়া যায়। সময় থাকলে এইটা নিয়ে ডিটেইলস লিখলাম, শুধু আপনি চিন্তা করেন চীন,জাপান, কোরিয়ায় এইগুলার ব্যবহার সবথেকে বেশি তাহলে তাদের কিছু হয় না কেন?? বরং পৃথিবীর যেকোন জাতির থেকে তাদের আয়ু বেশি

        ভালো থাকবেন। দোয়া করবেন আমার জন্য

        Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s