Gallery

রেসিপিঃ চিচিঙ্গা ঝোল (পরোটার সাথে সকালের নাস্তায়)


আমার খুব ইচ্ছা হয়, ইস যদি দেখে যেতে পারতাম, আজ থেকে একশত বছর পরে মানে ২১১৫ সালের বাংলাদেশ! সত্যি তখন এই বাংলাদেশ দেখতে কেমন হবে? টিকাটুলি, সোনালী ব্যাংক হেড অফিস হয়ে, দিলকুশা, গুলিস্থান, জিপিও, পল্টন মোড় হয়ে বিজয় নগর, কাকরাইল, শান্তিনগর, বেইলী রোড (সামান্য সময় এখানে আড্ডা দিয়ে), মালিবাগ, মৌচাক, রেল গেইট, আবুল হোটেল, হাজী পাড়া, মিনিট খানেক পরেই রামপুরা বাজার! আচ্ছা, এই রামপুরা বাজার রাতে কি তখনও এভাবে জমে উঠবে? কোন এক মাঝ বয়সি কি এই মাছ বাজার দিয়ে মাছ দেখতে দেখতে এগিয়ে যাবে?

আচ্ছা, ২১১৫ সালের বাংলাদেশের মানুষ কি চিচিঙ্গা এভাবে রান্না করে খাবে? কত কি মনে পড়ে, কত কথা মনে আসে! ইস, যদি দেখে যেতে পারতাম! না, সেটা কিছুতেই সম্ভব নয়! একশত বছরের উপরে বেঁচে থাকার কয়জন মানুষ আছে এই বাংলাদেশে, আর যে কয়েকজন আছে তাদের কয়জন হেঁটে বেড়াতে পারেন? দুনিয়া বড় রহস্যময়। জন্মনিলে মরতে হবেই! প্রান যাদের আছে তাদের একদিন প্রানহীন হয়ে পড়তেই হবে! আমরা যারা এখন বেঁচে আছি, আমাদের একদিন এই স্বাদের দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। ভাবতেই মন কেমন করে। দুনিয়ার সব কিছুই দুনিয়াতে থেকে যাবে, আমরা প্রবেশ করবো আর এক অনন্ত দুনিয়ায়, যার কোন খবর দুনিয়ার কেহ জানে না!

যাই হোক, মরে মরেও যেন এই প্রিয় বাংলাদেশকে ভালবেসে যেতে পারি। আবার দুনিয়া ফেরতের কোন চান্স থাকলে আমি এই বাংলাদেশই আবার বেছে নিব! আবারো এই বাংলাদেশেই আসতে চাইবো। ২১১৫ সালের বাংলাদেশ অনেক অনেক সুন্দর হবে, এটা মনে প্রানে আশা করি। দুনিয়ার সেরা একটা দেশ হবে, এটাও কামনা করি। মানবিকতায়, বিচারে, শাসনে সব মানুষ একই কাতারে সমঅধিকার পাবে এটাই কামনা করি। দেশের কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না, এই স্বপ্নও দেখি। কোন মানুষ চিকিতসাহীন মৃত্যু বরন করছে এটাও হয়ত হবে না! এমন সুশাসক দেশ পরিচালনা করবে যে, মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঘুরে বলবে, আর কি লাগবে!

যত কথাই বলি না কেন, বর্তমান সময়ই হচ্ছে সেরা সময়। আপনি আমি বেঁচে আছি এটাই আনন্দের। একটু পরে কি হবে কে জানে? চলুন, আজ সামান্য একটা সহজ সরল রান্না দেখি। এই রান্নাটা আপনি সকালের নাস্তায় পরোটার সাথে জমিয়ে খেয়ে বের হয়ে পড়তে পারেন। কম মশলায় রান্না, আমার ফেবারিট সবজি চিচিঙ্গা! চিচিঙ্গা সম্রাটের দপ্ততর থেকে! চলুন, দেখি।

উপকরণ ও পরিমানঃ
(পরিমান ছবি দেখেই বুঝতে পারবেন বলে আশা করি)
– চিচিঙ্গা
– একটা মাঝারি আলু
– কয়েকটা চিংড়ি
– পেঁয়াজ কুঁচি
– রসুন বাটা
– মরিচ গুড়া
– হলুদ গুড়া
– লবন
– তেল
– পানি
– সামান্য চিনি
– ধনিয়া কুঁচি
– কাঁচা মরিচ দুই/তিন টা

প্রনালীঃ

ছবি ১, আলু ও চিচিঙ্গাকে সামান্য লবন যোগে সিদ্ধ করে পানি ফেলে ঝরিয়ে রাখুন।


ছবি ২, কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুঁচি ভাঁজুন, সামান্য লবন এবং চিংড়ি গুলো দিয়ে দিতে পারেন।


ছবি ৩, রসুন রাটা দিয়ে দিন, কাঁচা মরিচ এই সময়েও দেয়া যেতে পারে।


ছবি ৪, পেঁয়াজ কুঁচির রং হলদে হয়ে এলে এক কাপ পানি দিন এবং কষিয়ে উঠার আগে হলুদ ও মরিচ দিন।


ছবি ৫, কষিয়ে তেল উপরে উঠে নিন।


ছবি ৬, এবার সিদ্ধ করে রাখা চিচিঙ্গা ও আলু দিয়ে দিন।


ছবি ৭, এভাবে।


ছবি ৮, ভাল করে মিশিয়ে নিন। মিনিট ৪/৫ রাখুন।


ছবি ৯, এবার ঝোল দিন, আরো এক কাপ পানি।


ছবি ১০, এবার চিনি দিন। (এটা না দিলেও চলে, তবে এই সামান্য চিনির কারনে স্বাদ বেড়ে যায়)


ছবি ১১, আগুন মাঝারি আঁচে। মিনিট ১০ ঢাকনা দিয়ে রাখুন।


ছবি ১২, ঝোল কমাতে আগুন বাড়িয়ে ঢাকনা সরিয়ে দিন। ফাইন্যাল লবন দেখুন। সব ঠিক থাকলে ধনিয়া পাতার কুঁচি দিন, আমি বিলাতি ধনিয়ার কুঁচি দিয়েছি।


ছবি ১৩, ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৪, সকালের নাস্তায় পরোটার সাথে খুব আরাম করে খেয়ে বাসা থেকে কাজে বের হওয়া যায়। আশা করি একদিন এই সহজ রান্নাটা করে দেখবেন। আমি কম তেলে রান্না করেছি, আপনারাও তেমনি করবেন।

আপনাদের এই ঢাকা শহরে আমাদের মত যারা বাসা থেকে বের হয়ে দূর দূরান্তে কাজে যাই এবং দুপুরের আগে যাদের জন্য আর কোন খাবার জুটে না, তাদের জন্য এমনি সকালের নাস্তা হলে মন্দ কি!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আরো মজাদার রেসিপি নিয়ে আসছি।

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s