গ্যালারি

রেসিপিঃ বিফ মাসালা (এক্সক্লুসিভ)


আমি সারা দিন নেটে থাকলে তার বেশী সময়ে রান্নাবান্না নিয়েই থাকি, মানে এই বিষয়েই কিছু না কিছু দেখা বা কাজ করে থাকি। গল্প ও রান্না সাইটের উন্নয়নে মাথায় কাজ করেই যায়, কোন রেসিপি পোষ্ট করেই আমি মনে করি না যে, আমার কাজ শেষ হয়ে গেল! রেসিপিটা আবার নানান কলা কৌশলে দর্শকের সামনে হাজির করার উপায়ও আমাকে খুঁজে বের করতে হয়। রেসিপি পোষ্ট হয়ে গেলেই ফেসবুকের একটা ভুমিকা চলে আসে! ফেসবুকের বন্ধুদের জানানো এবং দুই একটা পেইজে বা গ্রুপে (আমি মাত্র দুটো গ্রুপে আছি) সামান্য কথা বলার মধ্যে যারা রান্না করেন তাদের আনন্ত্রন জানিয়ে আসি!

যাই হোক, প্রচারেই প্রসার কিন্তু আমি মনে করি আমি এত প্রচার করতে পারলাম কই! প্রচারের জন্য আমি মনে করি নিজকে কখনো ছোট করি নাই, সামান্য আমার ফিড লাইন দিয়েই আমি এগিয়েছি, যতদুর আমি পারছি! তবে সারা দুনিয়া থেকে একটা বিশাল গ্রুপ আমাদের এই সাইটে এসে থাকেন, রান্না খুঁজতে গিয়েই। এরাই আমার আসলে মুল টার্গেট গ্রুপ, আমার ভালবাসার দল! এরা সত্যকার অর্থে রান্না করতে গিয়ে আটকা পড়ে এবং কোন রান্নার নাম লিখে আমাদের দেখতে পায় ফলে আমাদের সাইটে এসে থাকেন। গুগল সার্চ এই ব্যাপারে আমাদের মুল হেল্প করে আসছে। হা হা হা…

যাই হোক, অন্য আর একটা দল আমি গত কয়েক বছরে গড়ে নিতে পেরেছি যারা আমাদের ভালবাসেন না শুধু, প্রতিদিন এরা আমাদের সাইটে আসেন, আজ কি কিছু হল, আজ কি কিছু হল ভেবেই! নুতন লেখা ও রেসিপি পড়তেই আসেন। এবং এই দলের ভালমানুষ গুলোর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

চলুন আজ একটা নুতন রেসিপি দেখা যাক। আপনারা যারা হোটেল বা রেষ্টুরেন্টে খেয়ে থাকেন তারা অবশ্যই এমন খাবারের নাম দেখে থাকবেন। মাসালা বিফ বা বিফ মাসালা! চিকেন দিয়েও এমন মাসালা পাওয়া যায়। থাই, ইন্ডিয়ান, চায়নিজ রেষ্টুরেন্ট গুলোতে এমন আইটেম পাওয়া যাবেই! তবে আগেই বলে নিচ্ছি, হোটেলের চেয়ে আরো ঢের বেশি স্বাদের হলেও আমি হোটেলের কয়েকটা আইটেম ত্যাগ করে বানিয়েছি। আমি মনে করি হোটেলে প্রায় রান্নাতে যে টেস্টিং সল্ট বা নানা প্রকারের ভিনেগার বা সস ব্যবহার করে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর (এটা বাংলাদেশেই চালু, না বুঝেই রান্নায় দিয়ে থাকে, যেহেতু এই সব হোটেলের রান্নাকারীরা শিক্ষায় শিক্ষিত নয় বা কোন প্রপার টেনিং নেই)। এই সব দিলে রান্নায় স্বাদ বাড়ে কিন্তু ক্ষতিটা খাবার যে খায় তারই হয়ে যায়!

তাই চলুন, ঘরেই রান্না করুন। দেখুন কত সহজ এবং মজাদার রান্না।

উপকরন ও পরিমানঃ
– গরুর গোসতঃ ৬০০ গ্রাম কম বেশি (হাড় ছাড়া নিতে পারেন)
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ মাঝারি ২ টা (আর দুইটা পরে ফালি করে লাগবে)
– এলাচিঃ ২/৩ টা (খুলে)
– রসুন বাটাঃ এক চা চামচ
– আদা বাটাঃ ১ চা চামচের কম
– লাল মরিচ গুড়াঃ এক চা চামচের কম (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ এক চা চামচের কম
– জিরা গুড়াঃ হাফ চা চামচের কম
– ধনিয়া গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– বাদাম বাটাঃ দেড় চা চামচ
– গরম মশলার গুড়াঃ এক চামচের চার ভাগের এক ভাগ।
– চিনিঃ এক চিমটি বা সামান্য বেশি (টুইষ্ট, দিলেও চলে না দিলেও নাই!)
– লবনঃ পরিমান মত, দুই ধাপে
– তেলঃ হাফ কাপের কম (বা আরো কম, আমি কম তেলেই রান্না করি)
– পানিঃ পরিমান মত, ঝোল থাকবে না তবে গোশত নরম হতে যে পরিমান লাগে বা ঝোল রাখতে পারেন
– ক্যাপ্সিকামঃ বড় সাইজের হাফ
– টমেটোঃ বড় একটা
– পেয়াজঃ মাঝারি দুইটা, ফালি করে কাটা
– কাঁচা মরিচঃ কয়েকটা
– লেবুর রসঃ এক চা চামচের সমপরিমাণ বা বেশী কম

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, পছন্দ সই হাড় ছাড়া গোশত নিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন।


ছবি ২, সামান্য (দুই চিমটি) হলুদ, মরিচ গুড়া এবং লেবুর রস দিয়ে মাখিয়ে নিন। সামান্য সময় রেখেও দিতে পারেন।


ছবি ৩, কড়াইতে তেল গরম করুন।


ছবি ৪, সেই তেলে গোশত ভেঁজে নিন।


ছবি ৫, মাঝারি আঁচে আগুন রাখুন।


ছবি ৬, প্রয়োজনে আগুন কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখতে পারেন, এতে গোশত নরম হয়ে যাবে।


ছবি ৭, ব্যস এবার গোশত তুলে রাখুন এবং এই তেলেই মুল রান্না শুরু করুন।

মুল রান্নাঃ

ছবি ৮, তেল গরম হলে পেঁয়াজ কুঁচি দিন। সাথে লবন দিয়ে ভাঁজুন।


ছবি ৯, পেঁয়াজ হলদে হয়ে গেলে এবার একে একে সব মশলা দিন। গরম মশলার গুড়াও দিয়ে দিন, এক দুইটা এলাচ আলাদা করেও দিতে পারেন। (গরম মশলার মিক্স গুড়া না থাকলে আলাদা আলাদা করে দারুচিনি, এলাচি, লং দিতে পারেন, ব্যাপার না)


ছবি ১০, দুই চিমটি চিনি দিতে পারেন। ভাঁজুন।


ছবি ১১, এবার এক কাপ পানি দিন এবং ভাল করে কষিয়ে তেল উঠিয়ে নিন।


ছবি ১২, এভাবে মশলা ঝোল প্রস্তুত।


ছবি ১৩, এবার গোশত গুলো দিয়ে দিন।


ছবি ১৪, আগুন মাধ্যম আঁচে রাখুন। কয়েক মিনিট পরে  হাফ কাপ পানি দিন।


ছবি ১৫, ঢেকে রাখুন, আগুন কম আঁচে।


ছবি ১৬, ফাঁকে এই কাজটা করে নিন। ক্যাপ্সিক্যাম, টমেটো, পেঁয়াজ এবং ১/২টা কাঁচা মরিচ এভাবে কেটে নিন।


ছবি ১৭, রান্না এই পর্যায়ে এসে যাবে। গোশত মওজে যাবে। চমৎকার একটা ঘ্রান বের হবে। তবে এই পর্যায়ে ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে এগিয়ে চলুন।


ছবি ১৮, এবার সবজি গুলো দিয়ে দিন।


ছবি ১৯, আগুন মাধ্যম আঁচে, ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ২০, মাত্র মিনিট ৪/৫ রাখুন। ব্যস, হয়ে গেল। বেশিক্ষন রাখলে ক্যাপ্সিক্যাম এবং টমেটোর রং নষ্ট হয়ে যাবে।


ছবি ২১, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। স্বাদ বলে বুঝানো যাবে না! খেয়েই বুঝতে পারবেন। হা হা হা, গরম ভাত, পোলাউ এর সাথে পরিবেশন যোগ্য। রুটি বা পরোটার সাথেও ভাল লাগবে।


ছবি ২২, বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আমি যে সামান্য প্লেটে উঠালাম, এই রকম সামান্য মাসালা বিফ আমাদের দেশের মাঝারি মানের হোটেলেও ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা করে বিক্রি করে থাকে। অথচ দেখুন কত কম খরচে ঘরেই এই মাসালা বিফ রান্না করা যায়।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

6 responses to “রেসিপিঃ বিফ মাসালা (এক্সক্লুসিভ)

  1. একটু বর্ণনা থাকলে ভালো হয়, বিশেষ করে ২য় ছবিটার বিষয়ে 🙂

    Liked by 1 person

  2. জাজাকাল্লাহ ভাই, আমি আপনার রেসিপির রেগুলার ইউজার 🙂
    ইদানীং বাসায় শেফ হিসেবে বেশ সুনাম হয়েছে, আর হাঁসের কালিয়া খেয়ে তো সবাই ফিদা মকবুল 😀

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s