Gallery

আড্ডাঃ ব্লগার্স মিটআপ (ছবি ব্লগ ১১/০৯/২০১৫ইং)


লেখালেখি খুব একটা সহজ কাজ নয়! লিখতে গেলে যে ভাবনা এবং সময় দরকার, আমাদের যান্ত্রিক জীবনে সেটা এখন পাওয়া মুস্কিল। একটা মানুষ পশুপাখীর মত যদি সারা দিন টাকা রুজির চিন্তা করেই চলেন তবে তার পক্ষে লেখালেখি প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। আর যদিও ফাঁকে ফাঁকে লিখার চেষ্টা করেন তবে তাতে তো ফাঁকি থাকবেই! আমি এখন এই গোত্রের হয়ে গেছি! সারাদিন টেকাটুকার চিন্তা করে চিন্তা চেতনায় প্রায় নিঃস্ব!

তবে আমি লেখকদের এখনো দুনিয়ার সেরা মানুষদের তালিখায় রাখি, কারন একজন লেখক যাই লিখুন না কেন এই লিখতে পারাটাই হচ্চে আসল কথা। সারা দুনিয়াতে এত মানুষ কিন্তু লিখতে পারছে কয়জন? অনলাইন আমাদের হাতের মুঠায় আসায় এখন মুল লেখকগন হারিয়ে যেতেই বসছেন! হা হা হা, তবে পাশাপাশি একটা লেখক গোত্র তৈরী হয়ে গেছেন এবং এদের শুরুটা হচ্ছে নানান ব্লগে লিখেই! এরাই আগামীর লেখক, আগামীর জাতির বিবেক। হ্যাঁ, অনেকেই এদের ব্লগার বলে থাকেন, আমি এদের লেখকই বলব।

আমি সব সময়েই আড্ডা পছন্দ করি, আড্ডা থেকেই প্রান শক্তি পাওয়া যায়, পাওয়া যায় লিখার নানান উপকরন। এই ব্লগারস বা লেখকদের যদি আড্ডা হয় তবে আপনিই বলুন না যেয়ে কি পারা যায়! এমনি একটা আড্ডায় হাজির থাকতে পেরে ভাল লাগছিল। চলুন ছবি দেখি। চমৎকার জায়গা, ভাল ভাল খাবার দাবার, সাথে আমাদের কত কথা।

ছবি ১, আড্ডার জায়গার তারিফ করতে হয়। রাজধানীতে এমন ফ্লোরে বসে আড্ডা দেয়ার জায়গা ভাড়া পাওয়া যায় এটা হয়ত অনেকে বিশ্বাস করবেন না! আছে!


ছবি ২, আড্ডার শুরুতেই যদি এমনি তেলের পিঠা মুখে লাগে, তবে বলুন কি অবস্থা হবে! আড্ডা!


ছবি ৩, আড্ডার তরুণদের দেখেও শান্তি, এরাই আগামী দিনের লেখক।


ছবি ৪, নবীন প্রবীনে মিলে মিশে একাকার! হা হা হা, এটা অবশ্য বাদশা ভাই মানতে চাইবেন না! আমি জানি।


ছবি ৫, বা পাশে বসা কবি রনি! কি করে ব্লগে লিখতে গিয়ে কবির সাহেব কবি হয়ে গেলেন তা শুনলে যে কেহই হাসবে!


ছবি ৬, ছবিতে ঠিক ৭ জন দেখা যাচ্ছে! মাঝের ৪র্থ জন এই জামানার মোষ্ট ওয়ান্টেড ব্যচেলর! এই জীবনে একটা প্রেম জুটলো না! আহা রে!


ছবি ৭, সাধু ভালবেসে সাধু হবার গল্পও জমে উঠছিলো!


ছবি ৮, আড্ডার ফাঁকে খাবার দাবার! আহ।


ছবি ৯, পরীক্ষা শেষ করেই আড্ডায় অংশগ্রহনের মত একজন এখানে আছেন!


ছবি ১০, একজন বলছেন, অন্যরা শুনছেন, পিনপতন আড্ডা হয়ত একেই বলে।


ছবি ১১, এখানে একজন ব্লগার আছেন, যিনি ভালবাসার দোয়াল নামে লিখেন। মানুষটা সত্যই অদ্ভুত, কেহ একবার কথা বললেই প্রেমে পড়ে যাবে।


ছবি ১২, আমাদের সাঈদ ভাই, সব সরকারেরই বিপক্ষ মানুষ! আসল পক্ষ হচ্ছে সততা, সত্য কথা! বলে নেয়া ভাল, দাঁতে ব্যাথ্যার জন্য সাঈদ ভাই কিছু খেতে পারেন নাই!


ছবি ১৩, খাবার দাবারের ছবি না দিলে কি চলে!


ছবি ১৪, যারা গরু খান না তাদের জন্য মুরগী!


ছবি ১৫, খাবার দাবারের পরেও আড্ডা চলছিলো!


ছবি ১৬, চা তো ছিলোই!


ছবি ১৭, এই হচ্ছে আড্ডার শেষ ছবি! (ছবিটা আমি ফেসবুক থেকে নিয়েছি, কে তুলেছেন নামটা খুঁজে বের করছি!)


ছবি ১৮, এই প্যানোরমা ছবিটা তুলেছেন আমাদের হীরা ভাই! চমৎকার এই ছবির জন্য তিনি ধন্যবাদ পাবেন!

যারা ছবি গুলো দেখে এই পর্যন্ত এসেছেন, তারা হয়ত আরো অনেক কিছু জানতে চাইছেন। আসুন আমাদের কবি রনি ভাইয়ের একটা লেখা পড়ি! (সরি রনি ভাই, আপনার পারমিশন না নিয়েই আপনার লেখাটা এখানে তুলে দিলাম)

আড্ডা কেমন হইলো? সবাই আড্ডার ছবি দিতেছে। আমার সাথে তো ক্যামেরা ছিলো না তাই ছবি তুলতে পারি নাই। কিন্তু ক্যামেরা নাই কী বোর্ড তো আছে। তাই লেখনী দিয়াই বোঝানোর চেষ্টা করি আড্ডা কেমন হইলো।

আড্ডাই উপস্থিত দ্বিতীয় ব্যক্তি আমি। দেখি সাঈদ ভাই গাল ফুলিয়ে বসে আছে। একটু পর ঠান্ডা পানি চিবাচ্ছে। কইলাম কেমনে কি? আড্ডার সময় হয় নাই? কেউ আসে নাই? এদিকে আকাশে বৃষ্টির হাতছানি। দুচার ফোটা পড়তে শুরু করেছে। এই সময় জামান আরশাদ আর লুবনা আপা উপস্থিত। তাদের পর পরই একে একে সবাই ঢুকতে লাগলো। ৪টা নাগাদই প্রায় বিশজন উপস্থিত। আমরা আড্ডা শুরু করলাম।

আড্ডার শুরুতেই সাঈদ ভাই একটা নাতি দীর্ঘ বক্তব্য দিল। কিভাবে আ.শ.ম এরশাদ ভাইয়ের ডেঙ্গুর কল্যানে এই আড্ডার সূত্রপাত হইলো এবং ভেন্যূ চেন্জ কইরা প্রবতর্নায় আনার হেতু কি তাহাই বক্তব্যর বিষয়। বক্তব্যর পর পরই তেলের পিঠে আর চা এসে গেল। আড্ডার প্রথমেই সবাইকে সবার পরিচয় দিতে বলা হলো। কারন অনেকেই নতুন আসছেন। কে জানতো এই পরিচয় পর্ব দিয়েই পুরো আড্ডা শেষ হয়ে যাবে। মোটামুটি সাড়ে চার ঘন্টা লাগছে এই পরিচয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা সারতে। কালপুরুষ সব চেয়ে প্রবীন নবীন ব্লগার দিয়েই এই পর্বের শুরু।

কালপুরুষ দা’র ভাল নাম হুমায়ুন বাদশা। তিনি কিছুদিন আগে অসুস্থতা থেকে ফিরে এসেছেন। সেই বর্ণনার সাথে কিভাবে ব্লগে আসলেন, তার বৈবাহিক থেকে চাকরী জীবন সব মিলিয়ে পরিচয় এর সাথে আড্ডা। কথার ফাকেঁ ফাকেঁ প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে বিভিন্ন জনেরা। কালপুরুষ দা এক মেয়ের কাছে জীবনে একবারই হেরে গিয়ে সেকেন্ড হয়েছেন সেই গল্পও করতে ভুললেন না।

কালপুরুষ দা থেকে স্কাই দা। ব্লগের ছন্দের জাদুকর। তার ভাল নামটাও এই আড্ডার উছিলায় জানা হলো। এর পর জামান আরশাদ ভাই, রিটন ভাই, মাহফুজ মেহেদী ভাই, বিন ইয়ামিন ভাই, লুবনা আপা পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি আড্ডা আর হেসে কেদেঁ গড়াগড়ি। উপস্থিতি ইতিমধ্যে বাড়ছে। ত্রিশ পার হয়ে গেছে। দু চারজন এসেছেন ব্লগার কি আজব চিড়িয়া দেখতে এমনটি জানা গেল। একজনকে পাওয়া গেল তিনি ব্লগারদের সব লেখাই পড়েন কিন্তু ব্লগার নন।

আড্ডা নিয়ে সবচেয়ে লাফালাফি করা নদী আপা আসল সবার শেষের দিকে। নাসরীন আপা আর সরোয়ার ভাই এলেনই না। দুজনেই কি নাকি সমস্যাই আটকে গেছেন। নদী আপা যেমন আসলেন দেরীতে চলেও গেলেন সবার আগে। তিনি অসুস্থ তাই। তবে আড্ডায় আসা সবশেষ ব্লগার পরিচয় ধারী ব্যক্তিটি বোধহয় রুবিনা ঢাকা। আড্ডায় যেমন কাছের মানুষরা এসেছে তেমনি সেই সুদুর সিলেট থেকে জেড এইচ সৈকত ভাইও এসেছে। কেউ এসেছে নারায়নগন্জ কেউ বুড়িগন্গার ওপার। এদিকে সেই পরিচয় পর্ব কিন্তু চলছে। ব্লগ নিয়ে হতাশা , আশা দুই রকম কথায় উঠে আসছে পরিচয় পর্বের সাথে সাথে। জাকির ভাই মানে ভালবাসার দেয়াল ভাইতো পুরাই ব্লগারদের অন্যরকম সাহস দিয়া ফেলল। আপনি ব্লগার এই পরিচয় আপনি লুকাবেন কেন বরং আরও বেশী করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন আপনি ব্লগার। এরকম জামান একুশে, সাহাদাত উদরাজী, পাশা ভাই অনেকের কথায় পরিচয় পর্বের মধ্যেই অনেক অনেক আড্ডার খোরাক হয়ে গেল।

এরই মধ্যে খাবার দেওয়া হয়েছে। পরোটার সাথে শিক কাবাব আর সালাদ। খাওয়ার ফাকে ফাকে চলছে পরিচিতি পর্ব । ব্লগার রাফাত নূর, মোকসেদুল ইসলাম সহ আরও কয়েকজন নতুন/পুরাতন ব্লগার তাদের কর্মকান্ড দিয়ে আমাদের মত রিটার্ড ব্লগারদের সাথে নিজেকে আড্ডায় সামিল করে ফেলল। আড্ডার মধ্যে সাবেক ব্লগের সাবেক মডারেটর শুভ্র ভাই ফোন দিয়ে শুভেচ্ছা জানাইছে। আ.শ.ম এরশাদ ভাইও শুভেচ্ছা জানাইছে। তিনি এখনও অসুস্থ। আড্ডায় দুজন বউ এনেছেন একজন বাচ্চা এনেছেন। সরি তিনটা বউ। লুবনা আপাকেও এই কাতারে ফেলতে হবে। এছাড়া তুলা ভাবী আর ডাক্তার ভাবী। ডাক্তার ভাবীর ওখানে ব্লগারদের বউদের চিকিৎসা ফ্রি দেওয়া হবে। শুধু কষ্ট করে একটু নারায়নগন্জ যেতে হবে। তুলা ভাবী সেই আগের ভাবীই আছেন। নীল সাধু ভাইয়ের সাধুতাই এখনও পুরাই মুগ্ধ। জামান একুশে ভাই তার সুইট বাচ্চাটি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। তিনি মাত্র একুশ বছর বয়সে পিতা হয়েছেন। সবাইকে বাল্য বিবাহ করবার পরামর্শও দিলেন।

শেষ মানুষটি পরিচয় দেওয়া শেষ করার সাথে সাথে আড্ডাও শেষ হয়ে গেল। সাঈদ ভাই ছিলেন শেষ মানুষ। তিনি জানালেন তিনি চান আমরা ব্লগাররা যেন হারিয়ে না যাই, আমরা যেন লেখালেখিটা চালিয়ে যায়, আমরা যে মতেরই হই না কেন আমাদের আত্বার বন্ধন যেন টিকে থাকে। এগুলো সবারই মনের কথা। দ্বিমতের অবকাশ নেই। তাই সবাই সহমত হইলো। এমন আড্ডা ভবিষ্যতে জারি রাখার ব্যাপারেও সকলেই সহমত পোষন করিলো।

এরপর কালপুরুষ দা কে সম্মাননা দেওয়া। কিছু বই আর পেইন্টিং। জানা গেল সম্মাননা পত্রটি যে দোকানে বাধাই করতে দেওয়া হয়েছে সেই ব্যাটা আজ দোকানই খোলেনি। গতকাল অচল ঢাকার কারনে ডেলিভারী না নিতে পারাই এই বিরম্বনা। সম্মাননা পত্র তাকে পরর্বতিতে দেওয়া হবে এমন অঙ্গীকারও করেছেন সাঈদ ভাই।

খেল খতম পয়সা হজম। সব কিছু ভালই ভালই শেষ। সি আই এ, এফ বি আই, কে.জে.বি কারও দেখা মিললো না। তাই এবার ছবি তোলার পালা। লাইনে বেলাইনে ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দ। আরেক পশলা চা। একে একে বিদায় নেওয়া। এইতো আড্ডার সালতামামি। ক্যামেরা ছাড়া কতটুকু বোঝা গেল?

কবি রনি ভাইয়ের লেখার লিঙ্কঃ এখানে 
আরো জানতে চাইলে, ইভেন্টে দেখুনঃ এখানে 

সবাইকে শুভেছা, আশা করি এমন আড্ডা আগামীতেও আরো হবে। আমি থাকবো।
(উপস্থিত সবার নাম নিতে পারি নাই বলে কেহ মনে কিছু নিবেন না, আমরা আমরাই তো!)

One response to “আড্ডাঃ ব্লগার্স মিটআপ (ছবি ব্লগ ১১/০৯/২০১৫ইং)

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s