Gallery

রেসিপিঃ আমড়ার শরবত (জুস)


আজকাল আপনাদের এই ঢাকা শহর দুনিয়ার অন্যান্য শহর দেখে দেখে অনেক কিছুতে এগিয়ে যাচ্ছে! সত্য কথা বলতে কি, অনেকভাবেই শহর এগিয়ে যাচ্ছে বা যেতেই হচ্ছে। তবে সাধারন ব্যক্তি বা কিছু মানুষের চেষ্টায় এই শহর এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ ব্যাপারটা উলটা হওয়া উচিত ছিল! সরকার একটা সুন্দর প্রশাসনিক অবকাঠামো এবং বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে কত সুন্দর হয়ে যেত এই দেশ, এই শহর! দুনিয়ার অন্যান্য শহর দেখে তো আমার এমনি মনে হয়! শহরে শহরে কত কর্ম ব্যস্ততা, কে কার চেয়ে কত সুন্দর পরিছন্ন হয়ে উঠতে পারে, এটা দুনিয়ার নানা দেশের নানান শহর না দেখলে বোঝা মুশকিল!

যাই হোক যা বলছিলাম, আগেও আপনাদের এই শহরে অনেক ফলের জুসের দোকান ছিল (সাধারন হিসাব, আমি বড় হোটেল কিংবা পানালয়ের কথা বলছি না) তবে তাতে কোন ভ্যারাইটি ছিল না! পেঁপে কিংবা মাল্টার জুস বা শরবতই পাওয়া যেত! এখন ব্যক্তি প্রচেষ্টায় এই শহরে অনেক গুলো ফলের জুসের দোকান গড়ে উঠছে। থ্যাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চায়না বা মালয়শিয়া দেখে এসে এদেশের অনেক তরুণ অনেক নুতন ব্যবসা নিয়ে বসছে, তারা নানান যন্ত্রপাতি বা ফ্রীজ নিয়ে বসছে! বড় বড় শপিং মল ছেড়ে আজকাল অলিগলিতেও এমন সুন্দর দোকান গড়ে উঠছে!

গত কিছুদিন আগে তেমনি একটা জুসের দোকানে প্রবেশ করে তাদের সাথে নানান কথা বলি। এই জুসের দোকানে আমাদের দেশীয় প্রায় সব ফলের জুস পাওয়া যায়। আম, জাম, পেয়ারা, পেঁপে, লেবু, আমড়া, জাম্বুরা, বরই ইত্যাদি, প্রায় সব দেশীয় ফলফলাদি। কথা বলে জেনেছি সেন্ট্রাল কোল্ডষ্টোরে সারা বছর নানান ফল সংরক্ষন করা হয়ে থাকে এবং প্রতিদিন রোটেশন অনুযায়ী এই ফল থেকে জুস বানিয়ে শহরের নানান পয়েন্টের দোকান গুলোতে পৌঁছে দেয়া হয়। দোকান গুলোতে ফ্রীজ থাকে এবং জুস গ্লাসে ভরে প্যাক করার মেশিন থাকে। কাষ্টমার চাইলেই নানান দামের গ্লাসে তা প্যাক করে দেয়া হয়। চাইলে দোকানে দাঁড়িয়ে পান করতে পারেন, নতুবা হাতে নিয়ে চলতি পথে পান করতে করতে গন্তব্যে এগিয়ে যেতে পারেন! হা হা হা, সময় পাল্টাচ্ছে!

যাই হোক, চলুন আজ আপনাদের সহজ এবং সুন্দর একটা জুস বা শরবত দেখিয়ে দেই। খুব সাধারন ফর্মুলা, কোন বাড়তি ঝামেলা নেই! আমি মনে করি আপনি ঘরে বানিয়ে আপনার প্রিয়জনদের পান করাতে পারেন (দোকানে পাওয়া জুসের সাথে তেমন কোন স্বাদের অমিল হবে না, উপরন্তু আরো ফ্রেশ আরো মজাদার)। চলু দেখে ফেলি। বরিশালের আমড়া দিয়ে এই জুস!

দেশীয় ফলফলাদি বেশি বেশি করে খেয়ে চলুন, এতে নিজের লাভ এবং সাথে দেশের লাভ, দেশের টাকা দেশে থাকছে সাথে ভেজাল মুক্ততো বটেই! চলুন, দেখে ফেলি। গরমে আরাম শরবতে বা জুসে!

উপকরন ও পরিমানঃ (চার গ্লাসের মত)
– কাঁচা আমড়াঃ গোটা চারেক, চার গ্লাসের জন্য
– লেবুর রসঃ ৬/৭ টেবিল চামচ, একটু বেশি হলে আমড়ার কাঁচা ঘ্রান হারিয়ে যায়
– কাঁচা মরিচঃ ১ টা
– চিনিঃ পরিমান মত (যা লাগে বা প্রতি গ্লাসের জন্য ১ টেবিল চামচ)
– লবনঃ হাফ চা চামচ
– পানিঃ চার গ্লাস
(অন্য কিছু যোগ করার প্রয়োজনই নেই)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, আমড়া ছিলে এভাবে নিন।


ছবি ২, লেবুর রস সহ উপরে উল্লেখিত সব কিছু ব্লেন্ডারে দিয়ে দিন।


ছবি ৩, দুই গ্লাস পানি আগেই দিয়ে দিতে পারেন।


ছবি ৪, ভাল করে ব্লেন্ড করে নিন।


ছবি ৫, পানি লাগলে আরো দিয়ে কিছুটা পাতলা করে নিতে পারেন।


ছবি ৬, এভাবে কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিতে পারেন।


ছবি ৭, এবার ছেঁকে একটা বোতলে নিন এবং বাকী পানি দিয়ে দিন।


ছবি ৮, ঠান্ডা হবার জন্য ড্রীপ ফ্রীজে রেখে দিন।


ছবি ৯, মিনিট ২০ পরেই পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। কেহ গরম থেকে ফিরলে পরিবেশন করতে পারেন, তিনি আরাম পাবেন।


ছবি ১০, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।

যাই হোক, যারা রান্না ভালবাসেন এবং প্রিয় মানুষের জন্য একদিন এই শরবত বানিয়ে দেখতে পারেন। আশা করি তারিফ পারেন। ভালবাসার কত নমুনা বুঝতে পারবেন। প্রিয়জন গরমে বাহির থেকে ফিরে আসলে এমনি এক গ্লাস শরবত বানিয়ে একবার তার চোহারা দেখতে পারেন, নিশ্চিত খুশি হবেন। অথচ দেখুন কত সহজে, কত কম খরচে কত মজাদার শরবত!

বিশ্বাস করুন, এমনি এক গ্লাস শরবতের দাম দোকানে ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা মাত্র! আমি যে দোকান গুলোর কথা বলছি, দাম গুলো সেই সব দোকান থেকেই জানা!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আসছি আরো আরো মজাদার রেসিপি নিয়ে। সাথে থাকুন।

Advertisements

3 responses to “রেসিপিঃ আমড়ার শরবত (জুস)

  1. Looking nice and surely i will try this in my home today.

    Liked by 1 person

  2. সেরাম সেরাম সেরাম লাগিলো…
    আজই ট্রাই করবো ইনশাল্লাহ….
    যাজাকাল্লাহু খাইরান

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s