Gallery

রেসিপিঃ বড় কাট গোশত, আলু, গাঁজর ও পেঁয়াজ (এক্সক্লুসিভ)


কয়েকদিন আগে টিভিতে মধ্যপ্রাচ্যের একটা রান্না দেখছিলাম। আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে দেখা সেই রান্না নিয়ে দুই বন্ধু কথাও বলছিলাম। আলু গোশতের রান্নায় গাঁজরের ব্যবহার আমাদের দুইজনের ভাবনার উদয় ঘটিয়েছিল। আমাদের দেশের রান্নায় গাঁজর তেমন একটা ব্যবহার হয় না! তবে কিছু পরিবারে কাঁচা গাঁজর খাওয়া হয়, কিছু পরিবারে চাইনিজ টাইপের সবজি রান্নায় গাঁজর ব্যবহার করা হয়। তবে বাজারে আকজাল বলতে গেলে সারা বছরেই গাঁজর পাওয়া যায়, দাম বেশি বটে! যাই হোক, যা বলছিলাম, সেই রান্না চোখে গেঁথে গিয়েছিল এবং সেই থেকে ভাবছিলাম, রান্নাটা করেই ফেলবো। মোটামুটি সেই রান্নাটার কিছু চেঞ্জ করেছি এবং দুটো উপকরণ পুরোপুরি দিতে পারি নাই, তা হচ্ছে, দুই পদের ডাল! মশলায় কিছুটা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছি, কারন ওরা যা মশলা ব্যবহার করছিলো, তা আমাদের দেশে সহজ লভ্য নয়! তবে পুরো রান্নায় সে দিনের দেখা রান্না অনুশরন করা হয়েছে!

ওহ, এই রান্নায় রান্নার সহায়ক উপকরণ হিসাবে এই ছুরিটা ব্যবহার করা হয়েছে (হাসবেন না), যা কেনার পর প্রথম ব্যবহার করা হল, ফলে ছবিটা দিয়ে দিলাম!

রান্না ভাল করার পিছনে নানান রান্নার সহযোগী উপকরণের দরকার আছে! যত ভাল উপকরণ হাতের কাছে থাকবে, কাজ করে তত আনন্দ পাওয়া যায়! (ফেবু লিঙ্ক) 

যাই হোক, চলুন রান্না দেখে ফেলি। রান্নাটাকে এক্সুসিভ রান্না ক্যাটাগরীতে ফেলা হল এই কারনে যে, স্বাদে অতুলনীয় ছিল এবং এই রান্না করে আপনিও আপনার পরিবারের সকল সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারেন! এই রান্না টেবিলে পেলে আমি নিশ্চিত যে, কে রান্না করেছে, এটা যে খাবে সে জিজ্ঞেস করবেই! সেই সাথে আপনার নাম তার মনে গেঁথে যাবেই! অন্যদিকে যে এমন রান্না খাবে সে বাকী জীবনে এমন রান্না খুঁজে বেড়াবেই! (আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, কিছু ছবির কালার ঠিক আসে নাই, মোবাইলে ছবি তোলার কারনে, নকিয়া লুমিয়া আমাকে ভোগাচ্ছে! রান্না এবং ছবি তোলা একই সাথে চালিয়ে যাওয়া সহজ ব্যবপার নয়, ফলে লাইট ক্যামেরার খেয়াল রাখা মুশকিল!)

উপকরন ও পরিমানঃ
– গরুর গোসতঃ হাড় ছাড়া বড় টুকরা ৮/১০ পিস
– আলুঃ বড় কাট, তিনটে
– গাজরঃ বড় কাট, মাঝারি দুইটা
– পেঁয়াজঃ তিনটে বড়, চার ভাগ করে কাঁটা (পেয়াজ এখানে সব্জির মত ব্যবহার হয়েছে, আমি ইন্ডিয়ান বড় পেঁয়াজ নিয়েছিলাম আপনারা দেশি নিতে পারেন, দেশী পেঁয়াজে স্বদ আরো বাড়বে)

– পেঁয়াজ কুঁচিঃ ৩/৪ চামচ (রান্না শুরু করার জন্য)
– দারুচিনিঃ ২ সেমি, ২/৩ টুকরা
– এলাচিঃ ২/৩ টা (খুলে)
– লংঃ ৪/৫ টা
– রসুন বাটাঃ ২ চা চামচ
– আদা বাটাঃ ২ চা চামচ
– লাল মরিচ গুড়াঃ এক চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ এক চা চামচ
– জিরা গুড়াঃ হাফ চা চামচের কম
– ধনিয়া গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– লবনঃ পরিমান মত, দুই ধাপে
– তেলঃ হাফ কাপের কম (গোশত ভেঁজে যা বাকী থাকে তা দিয়েই রান্না)
– পানিঃ পরিমান মত, ঝোল থাকবে না তবে গোশত নরম হতে যে পরিমান লাগে বা ঝোল রাখতে পারেন

– কাঁচা মরিচঃ কয়েকটা
– ধনিয়া পাতার কুচিঃ ৫/৬ চা চামচ (কম বেশি, আপনার পছন্দের উপর নির্ভর করবে)

(রান্নার পর মোটামুটি এক কেজির মত হবে এমন ভেবেই এই রান্নার পরিমান দেয়া হয়েছে)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)
রান্না শুরুর আগে এই কাজ গুলো করে নিতে পারেন, দুই চুলায় রান্না হলে তাড়াতাড়ি হবেঃ (ছবি বেশি বলে ডিটেইলসে যাওয়া চলে না)

ছবি ১, আলু ও গাঁজর এভাবে কেটে সামান্য লবন দিয়ে হাফ সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।


ছবি ২, পেঁয়াজ কেটে ধুয়ে রাখুন।


ছবি ৩, গোশত কেটে ধুয়ে এক চিমটি হলুদ দিয়ে মেখে রাখুন। রান্না বসিয়েই গোশত গুলো উপরের ছবির মতো করে ভেঁজে নিয়ে তুলে রাখতে হবে। বেশী না আবার কমো নয়!

মুল রান্নঃ

ছবি ৪, গোশত ভেজে তুলে রাখার পর সেই হাড়িতেই রান্না শুরু করা যেতে পারে। গরম তেলে কিছু পেঁয়াজ কুঁচি ও হাফ চা চামচ লবন দিয়ে রান্না শুরু করুন। ভাঁজুন।


ছবি ৫, পেঁয়াজ হলদে হয়ে এলে আদা, রসুন দিন।


ছবি ৬, দারুচিনি, এলাচি, লং দিন, কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিতে পারেন। ভাঁজুন। ভাঁজা হলে সামান্য পানি দিন।


ছবি ৭, এবার হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরা গুড়া দিন, ভাঁজুন।


ছবি ৮, চমৎকার ঘ্রান বের হবে, আগুন মাঝারি রাখুন। তেল উঠে আসতে দিন।


ছবি ৯, এবার ভেঁজে রাখা গোশত দিয়ে দিন। কিছুক্ষন কষান।


ছবি ১০, এবার এক কাপ পানি দিয়ে আগুন মাখারি রাখুন। গোশত নরম হতে সময় দিতে হবে।


ছবি ১১, ঢাকনা দিয়ে দিন।


ছবি ১২, মাঝে মাঝে উল্টে নাড়িয়ে দিন। গোশত নরম হল কি না দেখতে ভুলবেন না। গোশত নরম হলেই পরের পর্বে।


ছবি ১৩, এবার পেঁয়াজ দিন।


ছবি ১৪, আগুন বাড়িয়ে দিতে পারেন, মিশিয়ে নিন।


ছবি ১৫, ৫/৭ মিনিট পরেই হাফ সিদ্ধ করে আলু ও গাঁজর দিন।


ছবি ১৬, ভাল করে মিশিয়ে নিন।  সামান্য কষিয়ে গেলে আর একটু পানি (গরম হলে ভাল) দিতে পারেন।


ছবি ১৭, যদি একটু বেশি ঝোল রাখতে চান তবে আরো পানি দিতে (গরম) হবে।


ছবি ১৮, ঢাকনা দিন, আগুন মাঝারি আঁচে হবে। অপেক্ষার পালা। চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না।


ছবি ১৯, মিনিট ১০/১৫ (আগুনের উপর নির্ভর করবে) পরে এমনি অবস্থায় এসে গেলে, কয়েকটা কাঁচা মরিচ আস্ত দিতে পারেন। গ্রামার বাড়বে!


ছবি ২০, ঝোল তেমন না চাইলে মাখা মাখায় চলে যেতে পারেন। তবে এই পর্যায়ে ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন, লাগলে দিন। না লাগলে ‘ওকে’ বা ‘ওয়াও’ বলে আগে বাড়ুন! ঝোলের স্বাদেই রান্না কেমন হল, বুঝে যাবেন।


ছবি ২১, এবার ধনিয়া পাতার কুঁচি ছিটিয়ে দিন (এটা অনেকে সহ্য করছেন না জানি, তবে আমাদের দেখা সেই রান্নায় এভাবেই করা হয়েছিল)।


ছবি ২২, মিশিয়ে নিন, চুলা বন্ধ করে কয়েক মিনিট ঢাকনা দিয়ে অপেক্ষা করুন।


ছবি ২৩, এই নিন পরিবেশনা। খাবারের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ২৪, সাদা ভাত, পোলাউ বা রুটি বা পরোটার সাথে পরিবেশন করতে পারেন। দারুণ স্বাদ।


ছবি ২৫, রান্নার স্বাদের জন্য আমার বড় ছেলে ও স্ত্রী খেয়ে তাদের সাউন্ড বন্ধ করে ফেলেছিল! হা হা হা, দুনিয়াতে রান্না করেও মুখ বন্ধ করা যায়! তবে মনে রাখুন, রান্না খারাপ হলে মুখ বন্ধ হয় না! বাকীটা বুঝে নিন!

(ছবি একটু বেশী হলে বলে সরি, তবে আগামীতে যখন আমাদের দেশেও ফার্ষ্টার নেট আসবে, তখন এই ছবি গুলো লোড হতে তেমন সময় নিবে না, আমি বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ভাবছি!)

সবাইকে শুভেচ্ছা। আপনাদের সময় কাটুক আনন্দে।

বি দ্রঃ এই রান্নায় উৎসাহ যোগিয়েছেন আমার বন্ধু এনামুল গনি শ্যামল

Advertisements

11 responses to “রেসিপিঃ বড় কাট গোশত, আলু, গাঁজর ও পেঁয়াজ (এক্সক্লুসিভ)

  1. bhaijan amar mukhe pani aisa porse…ei khabar dekhe…..Akhon jodi apnar pet kharap hoy , tobe amar kisu korar nai…….next time parcel kore pathaye diben….if you want to save your belly from loss mosson…………………ha ha .TC.

    Liked by 1 person

  2. Vaia onek upokar hoy apnar ranna dekhe.best wishes to you

    Liked by 1 person

  3. Vaiya, Oven chara vanilla or chocolate cake / Pizza bananor recipe jodi kokhon try koren,please diben. R apnar recommendation e Al-Kaderia hotel e kheyechi,khub valo legeche bashar shobar

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন।
      আপনারা আমাদের রেসিপি সাইট পছন্দ করেন জেনে ভাল লাগে। কেক, চকোলেট কেক, পিঁজা ইত্যাদি বানাতে যে সময় এবং উপকরণ দরকার তা এখন যোগাড় করা এবং সময় পাই না। তবে আশা করি আগামীতে আপনাদের ও আমার জন্য বানাতে পারবো।
      আল-কাদেরীয়া হোটেলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেয়েছেন জেনে খুশি হলাম। মাঝে মাঝে হোটেলে খেলে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
      শুভেচ্ছা থাকলো।

      Like

  4. ওয়াও ! দারুণ রেসিপি ! অসাধারণ। আচ্ছা গরুর মাংসের বদলে মুরগী ব্যবহার করা যাবে? নাকি মুরগী ব্যাবহার করলে কোন মসলা পরিবর্তন করতে হবে??

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s