Gallery

রেসিপিঃ শিং মাছের ঝোল (কম মশলা ও তেলে)


আপনারা যারা আমার সাথে আছেন, তারা জানেন যে, আমি রাতেই প্রায় বাজার করি ও রান্না করি (অবশ্য সংসারের মুল বাজার কোন ছুটির দিনেই করে থাকি)। অফিস ফেরার পথে বাজারে ডু দেয়া আমার পুরানো অভ্যাস! আজ রাতে মাছ বাজারে প্রবেশ করতে আমার পরিচিত মাছ বিক্রেতা আমাকে বড় বড় শিং দেখিয়ে লোভ লাগিয়ে দিল। ইশারায় জানলো, নেন, দাম রাখুম নে কমাইয়্যা! হা হা হা। বড় ঢালায় মাছ গুলো বেশ লাগছিলো! বাঙ্গালী ভাই বেরাদরেরা বড় মাছ দেখলে কিনবে না, এটা কি করে হয়! সাহস করে হাফ কেজি চাইতে জানান দিল, হাফ কেজি বিক্রি হয় না! কি আর করা এক কেজি কিনতে হল!

বাসায় ফিরেই কাজে নেমে পড়লাম। স্ত্রীর মেজাজ কেমন আছে সেটা আড় চোখে দেখে নিয়ে বললাম, তাজা মাছ চারটে একটু কেটে দাও না, রান্না করবো! কথায় কাজ হল, তিনি রাজী হলেন। যে কোন মাছই কেটে কুটে পরিষ্কার করা একটা কঠিন কাজ বলে আমি স্বীকার করি। তবে পেঁয়াজ বাটা ছিল না,  তিনি যখন মাছ পরিষ্কার করে দিচ্ছিলেন, ফাঁকে আমি ছোলানো পেঁয়াজকে বেঁটে সাইজ করে নিয়েছি! বাকী সহ হাতের কাছেই ছিল!

স্বভাবিক ভাবে, তেল কম এবং কম মশলায় আমার রান্না! তবে স্বাদের কমতি নেই! বেশি তেল ব্যবহারে আমার আপত্তি আছে অনেক। একটু সামান্য বেশি তেল দিলে যে কোন রান্না নিয়ে আর কোন টেনশনে থাকতে হয় না বটেই! তবে ভিন্ন দিকে চিন্তা করলে তেল আসলে আমাদের বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব নষ্ট করে দিচ্ছে! বয়স বাড়ায় এখন বুঝি এই সব! তেল শরীরের মুল অংশ হার্টে সমস্যা তেরী করে দেয় দ্রুত। শরীর মুটিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং ইত্যাদি ইত্যাদি। অন্য দিকে শিশুদের জন্যও বেশি মশলা ও তেলে রান্না খাবার কখনোই সুফল বয়ে আনে না। পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি তো আছেই, মাসে দুই লিটারে সংসার চালালে বেশী তেলের রান্নায় ছয় লিটার লাগিয়ে অর্থের বারটা বাজিয়ে দেয়া যায়! সংসারের উপার্জনকারী ব্যক্তিই বুঝেন, টাকা রুজি কত কঠিন, এই টাকার জন্য তাকে কত কষ্ট সইতে হয় কিংবা কত ঘুষ, চুরি করতে হয়! তেল মশলা ব্যবহারকারী সংযমী ও বুদ্ধিমান হলে মধ্যবিত্ত এই উপার্জনকারী ব্যক্তি এই চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন, তাকে মিথ্যা, চুরি, চামারী করতে হয় না! আরো কত কি! (এই সব নিয়ে লিখলে সাগরের পানি কালি হলেও কম পড়বে!)

যাই হোক, চলুন রান্না দেখে ফেলি। এই রান্না স্বাভাবিক ভাবে যারা নুতন রান্না করছেন তাদের জন্যই। যারা মনে করেন মাছ রান্না কঠিন, তাদের আমি এই রান্নায় আমন্ত্রন জানাই, আসুন, ওপেন চ্যালেঞ্জ নিন। রান্না স্বাদ না হলে, আমি তো আছিই!

উপকরন ও পরিমানঃ
– শিং মাছঃ ২০০ গ্রাম বা কম বেশী হবে, আমি হোটেল ষ্টাইলে গোটা রেখেছি, চাইলে টুকরা করা যেত
– পেঁয়াজ বাটাঃ তিন চা চামচ
– আদা বাটাঃ হাফ চামচ
– রসুন বাটাঃ এক চা চামচ
– মরিচ গুড়াঃ হাফ চামচ
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচের কম
– লবনঃ পরিমান মত, দুই ধাপে
– তেলঃ ৪/৫ টেবিল চামচ (তেল কম দিয়ে রান্নাই ভাল)
– কাঁচা মরিচঃ দুইটা/চারটা (মরিচ পছন্দ করলে না চিঁরে আরো কয়েকটা দিতে পারেন)
– পানিঃ পরিমান মত (এক কাপ বা বেশী, ঝোল চাইলে একটু বেশী দিন)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে তবে মোবাইলে তোলা এই ছবি গুলোয় রান্নার রং আজকাল সঠিক আসছে না!)

ছবি ১, কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ বাটা ভেঁজে হলদে করে তাতে আদা ও রসুন বাটা দিয়েও ভেঁজে নিন।


ছবি ২, হাফ কাপ পানি দিয়ে দিন। আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে।


ছবি ৩, মরিচ ও হলুদ গুড়া দিন। ভাল করে মিশিয়ে নিন। কষিয়ে তেল উপরে উঠাতে হবে।


ছবি ৪, এবার মাছ গুলো দিয়ে দিন, নাড়িয়ে মশলা মাখিয়ে নিন। আগুন অনেক কম।


ছবি ৫, কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক কাপ পানি দিন, মিশিয়ে নিন এবং কিছু সময়ের জন্য ঢাকনা দিয়ে রাখুন।   আগুন কমে থাকবে।


ছবি ৬, এই রকম দেখাবে (মোবাইলের ছবি ভাল হচ্ছে না)!


ছবি ৭, আরো কিছু সময় পরে এমনি দেখাবে। ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলে আগে বাড়ুন।


ছবি ৮, আগুন নিবিয়ে দিন, ঢাকনা দিয়ে মিনিট পাঁচ রাখুন। ব্যস, হয়ে গেল।


ছবি ৯, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। আমি একটু ঝোল রেখেছি।


ছবি ১০, দেখুন কত কম তেল!


ছবি ১১, আহ…।।


ছবি ১২, সাদা ভাতের সাথে পরিবেশনা।

রেসিপির পাঠক, পাঠিকা, ভাই বোন বন্ধুদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারাই বলুন, মাছ রান্না কি কঠিন? না মোটেই না! শুধু একদিন রান্না করেই দেখুন!

আমরা আসছি আরো আরো মজাদার রান্না নিয়ে, আমাদের সাথেই থাকুন, আশা করি সময় কাটবে ভাল। রান্না হচ্ছে ভালবাসা, আমি সব সময়েই প্রমান করে দিতে পারবো! হা হা হা…

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন।

  • শিং মাছ পাটায় বা পাথরে ঘষে নিলে ভাল পরিষ্কার হয়।

6 responses to “রেসিপিঃ শিং মাছের ঝোল (কম মশলা ও তেলে)

  1. শিং মাছ , বাসন মাজার মাজুনি দিয়েও পরিস্কার করা যায় সহজে । রান্নার দেখেই বুঝা যাচ্ছে কেমন হয়েছে খেতে । তেল কমে রান্না করা ভালো কিন্তু আমরা তেল বেশী দিয়ে রান্নায় অভ্যস্ত । ভালো লাগলো আপনার সহজ রেসিপি ।

    Liked by 1 person

  2. দাঁড়ান একটু ঢোঁক গিলে নিই …. 🙂

    Liked by 1 person

  3. শিং মাছের ঝোল আমারো প্রিয়। পেঁয়াজের দাম যে ভাবে বাড়ছে তাতে আর পেঁয়াজ আমাদের মত মানুষ খেতে পারবেনা। তখন তেলে কালোজিরে আর কাঁচামরিচ ফোড়ন দিয়ে হলুদ, মরিচ, আদা, রসুন, জিরা দিয়ে কষিয়ে তারপর মাছ দিয়ে ঝোল করে খেয়ে দেখেন। অনেক মজা হয়।

    তেল বোধহয় ৪/৫ চা চামচ দিয়েছেন। কারন ৪/৫ টেবিল চামচ তেল কিন্তু কম নয়।

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন। বাজারে তো এখন আগুন, কেহ অবশ্য এই সব নিয়ে আর কথাও বলে না! বলেই বা কি হবে, আসলে এক শ্রেনীর ফাড়িয়া টাকা কামিয়ে নিচ্ছে মাত্র।

      হ্যাঁ বোন, আপনার রেসিপিটা নোটে তুলে নিলাম। ৪/৫ চামচের কম দেয়া দরকার ছিল, তবে আমার অনেক রান্নায় দেখবেন, রং ফ্যাকাশে। আমি সব সময়েই তেল কমে রান্নার চেষ্টা করি। শুভেচ্ছা নিন।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s