গ্যালারি

রেসিপিঃ কৈ মাছের ঝোল (এত বড় কৈ কে কে দেখেছেন?)


আপনারা যারা আমার সাথে আছেন, আপনারা জানেন যে, আমি অফিস ফিরতি পথে বাজার ঘুরে আসি। কখনো কিছু কিনি, কখনো কিনি না। তবে মাছ বাজারে চক্কর দেয়া আমার একটা অভ্যাস বলা যেতে পারে। এর কারন হল, মাছ বাজার চোখে রাখাতে একটা আলাদা আনন্দ আছে বা পাওয়া যায়! তবে আরো একটা কথা আমি আসলে মাছ বাজার ঘুরে বেড়াই নুতন কোন মাছ বা কেমন বড় মাছ এসেছে তা দেখার জন্য। দর দামের উপরেও একটা নজর রাখি, কারন মাছ কিনতেই হয়, মাছ ছাড়া আর কি খাব?

গতকাল ফিরতি পথে  বাজারে প্রবেশ করে বড় কৈ মাছ দেখে দাঁড়িয়ে পড়লাম। মাছ বিক্রেতার কাছে ছবি তোলার অনুমতি চাইতে হেসে দিল, তোলেন। একটা বড় থালায় ৫টা জীবন্ত কৈ, এত বড় কৈ আমি আর কখনো দেখি নাই। এদিকে হাইব্রীড কিনা জিজ্ঞেস করতে জানালো, ওরা জানে না, তবে গোপালগঞ্জ থেকে নিয়ে এসছ্‌ সেখানে চাষ বা বাজারে পাওয়া যায়। আমি ভাল করে দেখলাম, হাইব্রীড কৈ আমি জীবনে এক/দুই বার কিনেছি, স্বাদ দেখার জন্য। অন্য দোকানে এখনো আছে, সেই কৈ মাছের সাথে এই কৈ মাছের মিল নেই, এই কৈ মাছ গুলো আমাদের দেশী ছোট কৈ মাছের মত, রং রূপ পুরাই দেশীয়, শুধু সাইজ বড়।

যাই হোক, ফাঁকে দাম জিজ্ঞেস করে নিলাম, ৪৫০ টাকা কেজি চাইছিলো, পরে কি মনে করে বলল এক দাম ৪০০ টাকা! যাই হোক, আমি সব চেয়ে বড়টা নিয়ে ওজন করতে বললাম, ৮৫০ গ্রাম! এই মাছ বাসায় কাঁটা দুরহ হবে ভেবে, আস্ত পরিষ্কার করে পিস না করেই নিয়ে বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরেই কাজে নেমে পড়লাম। প্রথম ভাবছিলাম আস্তই রান্না করে ফেলবো, পরে মনে হল, মাছের গায়ে মশলা পাতি না প্রবেশ করলে, কেহ খাবে না! ফলে ছোট পিস করে নিলাম এবং মাছের সাধারন রান্নাই করে নিলাম।

উপকরন ও পরিমানঃ
– কৈ মাছঃ বড়, ছোট পাতলা পিস করে নেয়া
– পেঁয়াজ বাটাঃ চার চা চামচ
– আদা বাটাঃ হাফ চামচ
– রসুন বাটাঃ এক চা চামচ
– জিরা বাটাঃ হাফ চা চামচ
– মরিচ গুড়াঃ হাফ চামচ
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচের কম
– লবনঃ পরিমান মত, দুই ধাপে
– তেলঃ ৪/৫ টেবিল চামচ (তেল কম দিয়ে রান্নাই ভাল)
– কাঁচা মরিচঃ দুইটা/চারটা (মরিচ পছন্দ করলে না চিঁরে আরো কয়েকটা দিতে পারেন)
– পানিঃ পরিমান মত (হাফ কাপ)
– ধনিয়া পাতার কুচিঃ যারা পছন্দ করেন এবং ইচ্ছানুযায়ী (না হলে নাই)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১


ছবি ২, এটাই ছিল সব চেয়ে বড়, ওজন ৮৫০ গ্রাম।

মুল রান্নাঃ

ছবি ৩


ছবি ৪


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮


ছবি ৯


ছবি ১০


ছবি ১১


ছবি ১২


ছবি ১৩


ছবি ১৪


ছবি ১৫, ফাইন্যাল লবন দেখে নিন। লাগলে দিন, না লাগলে ‘ওকে’ বলে আগে বাড়ুন। ধনিয়া কুঁচি দিন (আমরা বিলাতি ধনিয়া কুঁচি দিয়েছিলাম)


ছবি ১৬, ঝোল কেমন রাখবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। ঝোল কমাতে চাইলে আগুন বাড়িয়ে চুলার কাছের থাকুন, নাড়াতে হবে, তবে মাছ নাড়াতে সাবধান, ভেঙ্গে যাবে! হাতল ধরে নাড়ালেই ভাল হবে। আমি আক্টু ঝোল রেখেছিলাম, গরম ভাতের সাথে এই ঝোল আমার কাছে ভাল লাগে।


ছবি ১৭


ছবি ১৮, এই ছিল আমাদের রাতের খাবারের আয়োজন।

যারা নুতন মাছ রান্না করবেন বলে ভাবছেন, এভাবে সে কোন মাছ নিয়ে রান্না করেই দেখুন। শুরু হয়ে যাক, আমাদের রান্না ভালবাসা!

ফেসবুক স্ট্যাটাসঃ  কৈ মাছটির ওজন ৮৫০ গ্রাম, এত বড় কৈ মাছ আমি আমার জীবনে প্রথম দেখালাম! কিছুক্ষন আগে রান্না করে খেয়ে স্বাদ দেখলাম, আমার কাছে খারাপ লাগে নাই! তবে হাইব্রিড বলে কিনতে অনেকক্ষণ ভেবেছিলাম!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

2 responses to “রেসিপিঃ কৈ মাছের ঝোল (এত বড় কৈ কে কে দেখেছেন?)

  1. আমিও এই কৈ মাছ খাই। আমার কাছে স্বাদে, গন্ধে দেশী কৈ এর মতই ভালো লাগে।
    একটা কৈ মাছ ৪ টুকরো করা যায় এমন সাইজের মাছ রোজার আগে ২৫০/৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে সিলেটে!

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s