গ্যালারি

খাবার দাবারের ছবি (ইফতার) ২০১৫ইং


গত বছরে ন্যায় এই বছরেও এমন একটা ইফতারের ছবি সংগ্রহ করে রাখি। আমাদের ইফতারের কি কি খাওয়া হয় বা সাধারন বাংলাদেশী মধ্যবিত্তরা কি করে জীবন যাপন করেন তার একটা নমুনা হয়ে থাকবে, এই সিরিজের এল্বাম গুলো। পাশাপাশি ফেসবুকে আলোচনা একটা বিশেষ দিক, আইটেম গুলোর রেসিপিও পাওয়া যাবে। মন্দ কি!

ছবি ১ঃ সাজিয়ে একটু বুদ্ধি খাটালে কম টাকায়, অনেক আইটেম করা যায়, অল্প অল্প করে বেশ কিছু আইটেম টেবিলে সাজিয়ে তোলা যায়, তবে এর জন্য পরিশ্রম এবং ভালবাসা চাই। (বাজারে প্রায় সব দ্রব্য মুল্যের দাম সাধারন মানুষের লাগালের বাইরে বলেই আমি মনে করি)


ছবি ২ঃ খাইলে খান, না খাইলে নাই! (প্রবাস জীবনের ইফতার এমনি হত, সিলেটি আখনি, রান্না করতো আমাদের সিলেটের Niaz Mahmud, যে সারা বছর রান্নার কথা মুখেও নিত না এবং সারা বছর আমরা হোটেলেই খেতাম! আমি রান্না পারতাম না বলে খাওয়ার পর আমাকে দিয়ে ওরা সব ধোয়ামোছার কাজ করাত! ভুলি নাই!)


ছবি ৩ঃ ইফতারে ছোলার পোলাউ করে দেখতে পারেন, দারুণ লাগে! রেসিপি দেখতে চাইলে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন, খুব সাধারন এবং সহজ। http://wp.me/p1KRVz-O1


ছবি ৪ঃ রোজায় ইফতারে ব্যচেলরদের (যারা পরিবার থেকে দূরে থাকেন) কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। পকেটে টাকা থাকে না, কম টাকায় ইফতার খাওয়া যায় না, আশেপাশে আত্মীয় স্বজনের কাছেও যাওয়া যায় না, লজ্জা ও নানাবিধ কারন থাকে। অনেক সময়ে ভান করে সময় কাটিয়ে দেয়া হয়! তবে আমি এই সময় গুলো পার করে এসেছি, আমি জানি অনেক কিছুই। তবে এখনো ইচ্ছাকৃত ইফতারের সময়ে রাস্তায় হাঁটি!(সুযোগ পেলে বাংলাদেশের দুঃখী মানুষদের কথা লিখবো)


ছবি ৫ঃ অফিস থেকে বের হয়ে বাসার পথেই ছিলাম, কিন্তু বাসায় পৌছাতে পারলাম কই! গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর রাস্তায় পানি জমে সাথে যানজট নিয়ে এক এলাহি কারবার। ফলে শান্তিনগরে একটা নিন্ম মানের হোটেলে ইফতারে বসে পড়ি! ৫০ টাকার ইফতারি, সাথে মুড়ি ছিল, দোকানী ১০/১০ পাবে, স্বাদ ভালই।


ছবি ৬ঃ মানুষকে খেতে দেখলে আনন্দ লাগে।


ছবি ৭ঃ ঘরের খাবারই সেরা, কম টাকায় ভাল খাবার।


ছবি ৮ঃ মোটা মানুষেরা যখন বলেন, আমি খাই না, কম খাই, তখন হাসি এসে যায়! গতকাল ইফতারিতে আবার প্রমান পেলাম। খুব মোটা করে একটা ছেলে আমার টেবিলে বসলো, আমি তাকে খেয়াল রাখছিলাম। বসার আগে কাউন্টারে কি যেন বলে আসলো। আমি নিজের পছন্দ মত কিছু ছোলা সহ কয়েক পদের ভাঁজিয়া, জিলাপি নিয়ে বসছিলাম। সেও দেখি একটা প্লেট নিয়ে একটা বেগুনী, একটা আলু চপ ও কয়েকটা ভাঁজিয়া নিয়ে বসলো। আমি তার প্লেট দেখে আফসোস করছিলাম, এই খাবার তার শরীরের পক্ষে খুব কম মনে হচ্ছিলো। ভঙ্গি ও ধরন দেখে তাকে আমার কাছে ধনী পরিবারের সন্তান মনে হল কিন্তু খাবারে দৈনত্যা দেখে আমি উল্টা পাল্টা ভাবছিলাম! সামনাসমনি বস্তেই কিছু সময় পরে কথা বলতে শুরু করলাম, ছেলেটা জানালো, ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ পড়ে। ক্লাস ছিল, থাকে পুরানো ঢাকায়, বাবা ব্যবসাহী, বাসায় ফিরতে দেরী হবে বলে, এখানেই ইফতার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সাথে মটর বাইক আছে, আব্দুল গনি রোডে পুলিশ উল্টাপাশ দিয়ে যেতে দিচ্ছে না বলে, এখানেই থেমে গেছে। যাই হোক, আরো কথা হচ্ছে, আযান হলে, আমরা ইফতার মুখে দিলাম। সে তার তিন পদ টপাটপ খেয়ে নিল এবং বসে থাকলো, মিনিট দশ পর তার সামনে, দুই প্লেট মোরগ পোলাউ নিয়ে হাজির হানিফ (বেয়ারা, ওকে আমি চিনি), সাথে আলাদা সবজি ও সালাত! আমার খাবার গুলো শেষ হতে না হতেই দেখি দুই প্লেট খতম! যাবার সময়ে অবশ্য বলে গেল, আসি ভাইয়া!


ছবি ৯ঃ এই সময়ে এই ছবি দেয়া উচিত নয়, সরি। তবে আমি এখন হোটেলে এমনি খাবার দিয়ে ইফতার করতে দেখি অনেক মানুষকেই, আমি একদিন ইফতারে এমন খেয়েছিলাম! শরবতটা হোটেল মালিক থেকে ফ্রি ছিল!


ছবি ১০ঃ সাথে সামান্য কিছু মুড়ি, আর কি চাই! (সৌজন্যঃ ভক্ত দা, বন্ধুতা)

 (আপডেট আসছে…………)
Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s