গ্যালারি

রেসিপিঃ মাছের সহজ ভর্তা (১৪ লক্ষ হিটের ভালবাসা)


আজ সকালে আমাদের গল্প ও রান্না সাইটে ১৪ লক্ষ হিট হয়ে পড়লো, এটা অত্যান্ত আনন্দের সংবাদ। আপনাদের ভালবাসায় আমরা এগিয়ে চলছি। সেই সাথে এটাও লক্ষ করলাম আজকের দিনটা সত্যই একটা স্মরনীয় দিন। আজ সারা বিশ্ব থেকে ৪,৫৬০ টি হিট হয়েছে এবং ভিজিটর আইপি মানে ভিজিটর এসেছেন ১,৩৬৫ জন, এখনো দিন শেষ হতে আর কয়েক ঘন্টা বাকী। আজকের সেরা রেসিপি দেখা হয়েছে চিকেন ভেজিটেবল স্যুপ সিলেটের আখনী পোলাউ রান্না, এযাবৎ ১৮৮ ও ১৮৪ বার আজ দেখা হয়েছে। আজকে সেরা ভিউ দেশের তালিকায় আছে বাংলাদেশ, আমেরিকা, ইন্ডিয়া, ইংল্যান্ড এবং কানাডা। যথারীতি আজকেও পুরানোদের পাশাপাশি নুতনরাও এসেছেন, গুগল সার্চ করে। সার্চ ইঞ্জিন গুগলে এখন বাংলায় কোন রেসিপি দেখতে চাইলে আমাদের লিঙ্ক আগে তুলে দেয়, এটাও আনন্দের বিষয়। আপনাদের সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং আপনারা যারা নিয়মিত আমাদের উৎসাহ দিয়ে থাকেন, তাদের জন্যও আমাদের দোয়া থাকলো।

প্রায় এযাবৎ ৮ শত রেসিপি এখন আমাদের ঝুলিতে আছে। আমি নিজেও এখন কোন রেসিপি বের করতে চাইলে সার্চ হেল্প নিয়ে থাকি, কি কি আছে সেটা আমিও ভুলে যাচ্ছি! সাইটের ডান দিকে খাবারের নাম লিখে সার্চ করলে যদি সেটা থাকে তবে তা দেখিয়ে দেয়া হয়। তার পরেও আমার মনে হয় এখনো অনেক কিছুই বাকী, এখনো অনেক সাধারন খাবারের রেসিপি বাকী আছে। যাই হোক, আমার চেষ্টা চলবে। আমি চাই, আমাদের বাংলাদেশের নিত্য খাবার গুলো সহজ করে আপনাদের সামনে হাজির করার জন্য। আরো আরো। তবে একটা ব্যাপার হচ্ছে, এর বাইরে এত রেসিপির বাইরে আমাদের আর কি কি এখনো আছে?

রান্না এবং রেসিপি নিয়ে আমি অনেক কথা বলি, আপনাদের সাথে নানান বিষয় নিয়ে গল্প করি। আমি আমার রেসিপি টার্গেট কারা সেটাও আপনাদের অনেকবার জানিয়েছি, ব্যচেলর্স এবং প্রবাসী ভাই বোন বন্ধুরাই আমার টার্গেট, যারা নুতন রান্না করতে চান। আমি রান্নার টেকনিকটাই শুধু আপনাদের কাছে সহজ করে হাজির করে দিতে চাই, পরিবেশন এবং নানান দিক নিয়ে আমি তেমন আগ্রহী নই। রান্না শেষে আপনি সেটা সোনার বাটিতেও পরিবেশন করতে পারেন, এটা আপনার ইচ্ছা। রান্না করা এবং সেটা স্বাদ হচ্ছে কি না, সেটাই আমার ইচ্ছা। স্বাদ না হলে সোনার বাটিতে পরিবেশন করা হলেও সেই খাদ্যের কোন মুল্য নেই আমার কাছে।

তবে আপনারা আমাকে একটু কন্সিডার করতে হবে, আপনাদের ভালবাসা দিয়েই। রান্না এবং ছবি একসাথে তোলা মোটেই সহজ কাজ নয়। প্রতিটা রেসিপির জন্য কমের পক্ষে ১২/১৫টা ছবি তোলা, পাশাপাশি রান্না করে যাওয়া মোটেই সহজ কাজ নয় (ছবি আপলোড এবং সাজিয়ে পোষ্ট আকারে আপনাদের সামনে আনা তো আরো জটিল ব্যাপার)। প্রতিটা রান্নায় ধোয়ামোছা, কাটাকুটি ইত্যাদিও সহজ নয়। তবে এই বিষয়ে এবং রান্নায় আমার স্ত্রী সাহায্য করেন বলে বেঁচে যাই, আমি উনার কাছে কৃতজ্ঞ আছি সব সময়ে, রান্নার মুল বিষয় গুলো আমি উনার কাছ থেকেই শিখেছি। তবে রান্নায় আমার সারা অন্তর জুড়ে আছে বলে আমি একটু বেশি ধৈর্য ধরে থাকি। ছেলেদের জন্য অবশ্যই রান্নাঘরে এভাবে টিকে থাকা কঠিন। আপনাদের ভালবাসা এইজন্য আরো বাড়াতে হবে, যাতে আরো ধৈর্য নিয়ে টিকে থাকতে পারি! হা হা হা…।

চলুন, আজ খুব সহজ আর একটা সাধারন ভর্তার রেসিপি দেখি। আপনাদের হাতের কাছে থাকা যে কোন বড় মাছের টুকরা দিয়ে এই ভর্তা বানিয়ে ফেলতে পারেন। সময় মিনিট ১৫ লাগবে। মাছের টুকরায় বা গুলোতে সামান্য হলুদ মরিচ গুড়া এবং লবন মাখিয়ে আগে রেখে দিতে পারেন, তার পর সোজা ভেঁজে ফেলুন। এই ভাঁজা মাছ দিয়েই আজকের ভর্তা। এমন ভর্তা সাধারনত মুখে অনেক রুচি এনে দেয়! যখনার কিছু খেতে ইচ্ছা হয় না, তখন এমন ভর্তা আপনার মুখে রুচি এনে দিবে, সামান্য একটু ঝাল হলে তো কোন কথাই নেই! পাক্কা তিন প্লেট চলিয়ে দিতে পারবেন।  চলুন!

উপকরনঃ (পরিমান আপনি নিজেই নির্ধারন করতে পারেন)
– মাছের টুকরা ভাঁজা, আমরা রুই মাছ নিয়েছিলাম, দুই টুকরা, সামান্য লবন, হলুদ ও মরিচ গুড়া দিয়ে খুব কম তেলে ভেঁজে নিতে হবে (মাছ ভাঁজার রেসিপি গুলো দেখে নিতে পারেন)
– পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা বা ভেঁজেও নিতে পারেন
– শুকনা মরিচ ভাঁজা বা কাঁচা মরিচ কুঁচি, ঝাল একটু বেশী হলে ভাল লাগে
– ধনিয়া পাতার কুঁচি, দিন যা লাগে, যদি ভাল লাগে
– লবন পরিমান মত, প্রথমে কম দেয়াই ভাল, পরে দেখে দেয়া যেতে পারে
– সরিষার তেল, কয়েক চামচ

প্রনালীঃ

ছবি ১, মাছ ভেঁজে নিন। বেশি কড়কড়ে ভাঁজা নয়!


ছবি ২, এবার মাছের কাঁটা গুলো আলাদা করে ফেলে দিন।


ছবি ৩, মাছ এভাবে জমিয়ে ফেলুন।


ছবি ৪, এই হচ্ছে পরিমান মত সব উপাদান। এটা সেটা বেশি কম হলে স্বাদ কিছুটা এদিক সেদিক হবে, কিন্তু তাতে কি! তবে লবনের পরিমাণটা বুঝে শুনে দিতে হবে। প্রথমে কম লবন দিয়েই মাখানো শুরু করতে হবে। *কাঁচা পেঁয়াজে যাদের আপত্তি আছে তারা পেঁয়াজ ভেঁজে নিতে পারেন *শুকনা মরিচ না থাকলে কাঁচা মরিচ কুঁচি দিয়েও এই ভর্তা বানাতে পারেন।


ছবি ৫, মরিচ এবং লবন দিয়ে মাখা শুরু করতে পারেন।


ছবি ৬, মাখুন।


ছবি ৭, মাখুন।


ছবি ৮, মলে মলে মাখুন। এই মলাতেই স্বাদ বেরিয়ে আসবে!


ছবি ৯, আহ…।।


ছবি ১০, এবার সরিষার তেল নিন এবং সরিষার তেল দিয়ে ভাল করে মেখে, ফাইন্যাল লবন ও ঝাল স্বাদ দেখুন। লাগলে দিন।


ছবি ১১, ব্যস পরিবেশনের প্রস্তুত। গরম সাদা ভাতের সাথে আরামসে খেতে বসে পড়ুন। ডিলিশিয়ার্স আইটেম। এই দুনিয়াতে ভর্তার উপরে কি কোন কথা আছে, না নাই!

আবারো আবারো আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা। আশা করি, সাথে থাকবেন, আমরা আসছি আরো আরো চরম স্বাদের খাবারের রেসিপি নিয়ে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

4 responses to “রেসিপিঃ মাছের সহজ ভর্তা (১৪ লক্ষ হিটের ভালবাসা)

  1. Congratulation for 1400000 Valobasa….

    Liked by 1 person

  2. Jedin theke site ti bookmark kore rekhechi daily ekbar holeo du mere jai. Keep it up 🙂

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s