গ্যালারি

রেসিপিঃ মাছের মাথা রান্না (ছবি ব্লগ)


সামান্য একটু বড় মাছ কিনলে আমার ইচ্ছা হয় ছবি তুলে রেখে দেই। এটা অনেকের কাছে ভাল লাগবে না বটেই (অনেকে আবোল তাবোল কথা বলেছেন ফিডে), কিন্তু আমি পছন্দ করি। কারন যেহেতু বাজারে রেসিপি লিখি, নিজ হাতে রান্না করি তা হলে এটা স্মৃতি হিসাবে রেখে দিলে অসুবিধা কোথায়? তা ছাড়া আমার মডেল বড় ছেলে, আপনাদের পরিচিত মুখ বুলেট বাবাজীকে দিয়ে এমনিতে আর কোন ছবি তোলা যায় না, আমি এভাবে কিছু হাতে ধরিয়ে একটা সুযোগ বের করি!

তবে আজকাল বয়স বাড়ার সাথে আর মাছ ধরতে চায় না, ফলে আমাকে আরো কিছু টাকা খরচ করতে হয়! এটা অবশ্য নুতন কিছু নয়! কিছু আইসক্রিমের কথা বলে রাজী করানো যায় এখনো। আপনারা যারা আমার সাথে দীর্ঘদিন ধরে আছেন তারা তার এই মাছ ধরার ছবি দেখে অভস্থ্য আছেন, সেই ছোট বেলা থেকে বুলেটকে দিয়ে মাছ ধরিয়ে আসছি। ধারাবাহিক মাছ ধরার সিরিজ আছেও। খুব ছোট সময়ে দুটো বড় গলদা চিংড়ি ধরে তার এই মাছ ধরা শুধু হয়েছিল, এখন সে ৬ষ্ট ক্লাসে পড়ে, মাছ ধরেই যাচ্ছে! তবে বেশী বিগড়ে গেলে, আগামী দিনের কথা বলি, বলি তুমি যদি কখনো বিখ্যাত হয়ে যাও (বা বড় হয়ে) এই ছবি গুলো তোমাকে আনন্দ দিবে।

আরো বলি, তুমি তোমার সন্তানদের বলতে পারবে, এই হচ্ছি আমি, ছোট বেলায় মাছ ধরে আনন্দ পেতাম এবং এই অভ্যাসটা আমার বাবা আমাকে করিয়ে দিয়েছিল। হা হা হা, তবে বিয়ের কথা শুনলে বুলেট ছোট বেলায় অনেক রেগে যেত, এখন সেই ভাব কিছুটা কমেছে! আমার ইচ্ছা ওকে ২২-২৫ এর মধ্যেই বিয়ে করিয়ে দেব!

ছেলে সন্তান বড় হতে থাকে আর বাবা/পিতা থেকে দূরে সরে যেতে থাকে, কথাটা চরম সত্য। দুনিয়ার অনেক সত্য আছে যা বলা যায় না, বলে গেলে লোকে ভুল বুঝবে। তবে বর্তমানের সময় খুব খারাপ, আপনাদের এই ঢাকা শহরে সন্তান  মানুষ করা অনেক কঠিন কাজ। পিতা হয়ে হাড়ে হাড়ে এখন আমি তা বুঝতে পারছি। ছেলে বড় হচ্ছে, এখন বুঝি আপনাদের এই শহর কাউকেই কিছু শিক্ষা দিতে পারছে না। আমাদের পরবর্তী জেনারেশন এখন নানান সমস্যা নিয়ে বেড়ে উঠছে! সময় পেলে বলবো। বর্তমানের ‘মজা লস’, কিংবা ‘ইয়ো’ ‘ইয়ো’ বা ‘পপস’ জেনারেশন দিয়ে আগামীতে এই দেশের কি হবে ভেবেই শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠে। নৈতিকতা, মুল্যবোধ, সততা, সভ্যতা এখন আর কোন স্কুল কলেজে শেখানো হয় না, পরিবারের সামান্য চেষ্টা করা হলেও  তা শিশু কিশোরগন ধরতে পারছে না!

যাই হোক, অনেক কথা বলার আছে, বলবো। সময় পেলে বলবো। আজ চলুন, সাধারন একটা রেসিপি দেখিয়ে দেই। বড় মাছ কিনলে মাছের মাথা খেতে নিশ্চয় আপনাদের ইচ্ছা হয়ে থাকে, আশা করি সাহস নিয়ে রান্না করে ফেলবেন। বড় মাছের মাথা রান্না করতে হাড়ি নির্বাচন জরুরী। যাতে করে ঢেকে রাখা যায় এবং নাড়াতে যেন ভাল জায়গা পাওয়া যায়।  সামান্য ভুলে ভেঙ্গে গেলে রান্নার মুল সৌন্দর্য শেষ হয়ে পড়বে, পরিবেশনে খারাপ দেখাবে। কাজেই পুরো কাজে মনোযোগী হওয়া দরকার।  মুলত এটা মাছের সাধারন রান্নাই।

উপকরনঃ (পরিমান আপনি নিজেই নির্ধারন করতে পারেন)
– মাছের মাথা, সাইজ বুঝে
– পেঁয়াজ কুচি
– রসুন বাটা
– আদা বাটা
– লাল মরিচ গুড়া
– হলুদ গুড়া
– জিরা গুড়া
– ধনিয়া গুড়া
– কাঁচা মরিচ
– লবন পরিমান মত, প্রথমে কম দেয়াই ভাল, পরে দেখে দেয়া যেতে পারে
– তেল, দুই দফা, কম তেলেই রান্না ভাল
– পানি, পরিমান মত
– ধনিয়া পাতার কুঁচি

টুইষ্টঃ ঝোল আরো সুস্বাদু করার জন্য সামান্য ঝিঙ্গে কুঁচি, আপনার না দিলেও স্বাদ হবে।

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)
মাছের মাথা সামান্য ভেঁজে নেয়া যেতে পারেঃ

ছবি ১, কেটে ধুয়ে সামান্য লবন হলুদ দিয়ে মাখিয়ে নিন।


ছবি ২, একটা ফ্রাইপ্যানে কম আঁচে সামান্য তেলে ভাঁজুন।


ছবি ৩, এই ভাঁজিটা মাছটাকে একটু শক্ত করে দিবে। আপনারা চাইলে এই ভাঁজা না করেও রান্না করতে পারেন। মাছ প্রচুর তাজা হলে এই ভাজার প্রয়োজন নেই।

মুল রান্নাঃ

ছবি ৪


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮


ছবি ৯


ছবি ১০


ছবি ১১


ছবি ১২


ছবি ১৩


ছবি ১৪, পরিবেশনা।


ছবি ১৫, বসে পড়ুন।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন।

(সরি, ছবি গুলো ভাল তুলতে পারি নাই, মোবাইলে তোলা। মুল ক্যামেরার নষ্ট হয়ে পড়ছে, উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।)

Advertisements

4 responses to “রেসিপিঃ মাছের মাথা রান্না (ছবি ব্লগ)

  1. vaijan, mas dorar jonno nutun model Bulet k kobe pabo??…
    …Pic no 15 dekhle roja nosto hoye jete pare…..ha ha…

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ রেদোয়ান ভাই।
      হ্যাঁ, এবার ওকে তৈরী করতে হবে। আমার কেনা মাছ গুলো মডেল দিয়ে না দেখালে হবে না! যাই হোক, আশা করছি, আগামী কয়েক মাস পরেই রেডী হয়ে পড়বে। প্রথম কি মাছ ধরাবো তা ভাবছি!
      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. কয়েকটি নির্বাচিত মাছ ছাড়া আমি মাছ ‍ খুব বেশী পছন্দ করি না। তবে বড় মাছের মাথা বিশেষ করে মাথার হাড্ডির ভিতর থেকে বের হওয়া গোস্তগুলো খুব ভালো লাগে।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s