Gallery

রেসিপিঃ মটর ডালের ভাঁজি (ইফতারে চমৎকার আইটেম)


রোজার দিন এলে আমাদের ইফতারে অনেক ধরনের আইটেম রান্না হয়ে থাকে। তবে আমাদের দেশে ইফতারে সবাই ভাজাভুজি খেতে সবাই পছন্দ করে থাকি। বিশেষ করে ছোলা বুট ভাঁজি এবং খেসারী বা মুশরী ডালের বরা না থাকলে আমাদের চলেই না, মনে হয় কি যেন খাওয়া হয় নাই। যাই হোক, আমি নিজে বাসায় থাকলে এই ধরনের আইটেম করা হয়ে থাকে, যদিও এখন আর এই সব খাবার খুব একটা বয়স নেই, শরীর সইতে পারে না! আমরা সাধারণত দুই বা তিন আইটেম দিয়ে ইফতার করে থাকি তবে সেগুলো বেশ যত্নের সাথে করা হয়ে থাকে।

গতকাল সকালে বাজারে গিয়েছিলাম, দোকানে মটর ডাল দেখে লোভ সামলাতে পারলাম না। ভাবলাম, মটর ডাল দিয়ে ছোলার ডালের রিপ্লেসমেন্ট হিসাবে আপনাদের একটা ইফতার রান্না দেখিয়ে দেব। ভাবনা মতই কাজ করলাম।

মটর ডালের ছবি তোলা হয় নাই, পূর্বের মটর শুটির একটা ছবি দেখিয়ে দিচ্ছি, এই মটর শুটি পেকেই মটর ডাল হয়ে থাকে। আর এই মটর ডালের ব্যবহার হয়ে থাকে, আপনাদের প্রিয় চটপটিতে, ঘুঘনিতে! কি চটপটির নাম শুনেই মুখে জল এসে গেল! এই মটর ডালের স্বাদ দারুণ, তবে এই ডাল রান্নার পূর্বে প্রায় ১২/১৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। অনেকে এই ডালকে ‘ডাবলি’ও বলে থাকেন! নামে কি আসে যায়! চলুন দেখে ফেলি। সাধারন ও সহজ রান্না।

উপকরনঃ
– মটর ডালঃ ৩০০ গ্রাম, অনুমানিক (আরামসে চার/ছয় জন ভাগ করে নিতে পারবে)
– পেঁয়াজ কুচিঃ মাঝারি তিনটে
– রসুন বাটাঃ এক চা চামচের কম
– আদা বাটাঃ এক চা চামচের কম
– মরিচ গুড়াঃ হাফ চা চামচ (ঝাল চাইলে বেশী দিতে পারেন)
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– শুকনা মরিচঃ কয়েকটা (আমাদের কাছে থাকা শুকনা মরিচের ঝাল কম, তাই একটু বেশী দিয়ে থাকি, আপনারা বুঝে শুনে দেবেন। যদি শুকনা মরিচ না থাকে তবে কাঁচা মরিচ দিয়ে চালিয়ে যেতে পারেন)
– তেলঃ কয়েক চামচ (তেল সামান্য বেশী হলে জমে উঠবে, তবে আমি এই সব রান্নায় সব সময়েই তেল কমের পক্ষে)
– লবনঃ হাফ চা চামচ (লাগলে দেয়া যাবে)
– পানিঃ এক কাপ কম বেশী (সিদ্ধ করার জন্য পানি বাদে)

প্রস্তুত প্রনালীঃ

ছবি ১, মটর ডাল খুব শক্ত। সারা রাত ভিজিয়ে রেখেও আবার সামান্য লবন পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হয়। ছবিটা সিদ্ধ হয়ে যাবার পরের।


ছবি ২, পানি ঝরিয়ে রাখার আগের মুহুর্ত। সিদ্ধ মটরের পানি ঝরাতে দিয়ে মুল রান্নায় চলে যেতে পারেন।


ছবি ৩, কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুঁচি ভাঁজি করে তাতে আসা ও রসুন দিয়ে দিন, শুকনা মরিচ দিয়ে দিতে পারেন।


ছবি ৪, আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে। ভাল করে ভেঁজে নিন।


ছবি ৫, এবার লাল মরিচ গুড়া এবং হলুদ গুড়া দিন।


ছবি ৬, ভাল করে ভেঁজে/কষিয়ে তেল উঠিয়ে নিন।


ছবি ৭, এবার সিদ্ধ মটর দিন।


ছবি ৮, কয়েক মিনিট ভাঁজুন, পরে এমনি দেখাবে।


ছবি ৯, এবার এক কাপ পানি দিয়ে দিন, পানি একটু বেশী হলেও কিছু যাবে আসবে না। কারন পানি শুকিয়ে নেয়া যাবে।


ছবি ১০, আগুন কমিয়ে একটা ঢাকনা দিয়ে কিছু সময় রাখুন। মাঝে নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না। কিছু সময় পরে ঢাকনা তুলে দিয়ে, আগুন বাড়িয়ে দিতে পারেন, পানি উড়ে যাবে।


ছবি ১১, ব্যস, হয়ে গেল। ফাইন্যাল লবন দেখুন। লাগলে দিন।


ছবি ১২, কিছু ধনিয়া পাতার কুঁচি দিন। (আমি বিলাতী ধনিয়ার কুঁচি দিয়েছিলাম)


ছবি ১৩, মিশিয়ে নিন। পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৪, এভাবে টেবিলে পরিবেশন করুন।


ছবি ১৫, দেখেও আনন্দ, খেতেও দারুন। যারা ছোলা খেয়ে অভস্থ্য হয়ে পড়ছেন, আমি তাদের চ্যালেঞ্জ নিতে বলি। একবার খেলে বার বার খেতে মন চাইবেই। (মুড়ি দিয়ে মিক্স করে একবার খেয়ে দেখুন প্লিজ)

ইফতার বা বিকালের নাস্তা হিসাবে চমৎকার চালিয়ে নিতে পারবেন। শিশুরাও আনন্দ পাবে, প্রতিদিন একই নাস্তা থেকে! রান্নায় আমি মনে করি, মাঝে মাঝেই ভিন্নতা প্রয়োজন, তা না হলে যে কোন খাবারই একঘুয়ে হতে বাধ্য।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আমাদের সাথেই থাকুন, আসছি আরো আরো মজাদার রেসিপি নিয়ে।

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s