Gallery

রেসিপিঃ বেগুন ও শুঁটকী রান্না (গ্রামীন রান্না)


আমাদের গ্রামের বাড়ীর ঘরের পিছনের দিকটায় কয়েকটা বেগুনের ছারা লাগিয়েছিলেন আমার আম্মা, সেই চারা বেগুনের গাছ বড় হয়েছে, এখন তাতে বেগুন ধরছে। গত কয়েকদিন আগে আম্মা আমাদের সেই বেগুন গাছের কিছু বেগুন পাঠিয়েছেন। আম্মা জানেন আমি এই বেগুন শুটকী দিয়ে রান্না করে খেতে পছন্দ করি। হাতে পেয়েই রান্না করে ফেলি! আমি বাসি হয়ে যাবার আগেই খেয়ে স্বাদ নিতে চাই।

এই বেগুন দেখতে তেমন না হলেও খেতে স্বাদ আছে। রুপের বড়াই নেই, তাতে কি! হা হা হা, তবে আরো একটা কথা এই বেগুনের বোঁটায় কাটা থাকে এবং ভিতরে পোকাও বসবাস করে। কেটে কুটে যা পাওয়া যায় তা দিয়েই রান্না করা চলে। চলুন সহজ এই রান্না দেখি ফেলি।

উপকরনঃ
– বেগুনঃ ৫০০ গ্রাম, অনুমানিক
– শুটকীঃ ১০০ গ্রাম, অনুমানিক (একটু বেশী দিতে পারলে আরো ভাল)
– আলুঃ ছোট দুই টা (আমু পাতলা করে কেটে দিলে স্বাদ বেড়ে যায়, না দিলেও নাই।
– পেঁয়াজ কুচিঃ মাঝারি তিনটে
– রসুনঃ এক চা চামচের কম
– মরিচ গুড়াঃ হাফ চা চামচ (ঝাল চাইলে বেশী দিতে পারেন)
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– কাঁচা মরিচঃ কয়েকটা
– তেলঃ কয়েক চামচ (তেল সামান্য বেশী হলে জমে উঠবে)
– লবনঃ হাফ চা চামচ (লাগলে দেয়া যাবে)
– পানিঃ এক কাপ কম বেশী

প্রস্তুত প্রনালীঃ

ছবি ১, কড়াইতে তেল গরম করে তাতে লবন, পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন ও মরিচ দিয়ে ভাল করে ভাঁজুন।


ছবি ২, পেঁয়াজের রঙ হলদে হয়ে যাবে।


ছবি ৩, এবার শুঁটকী (কেটে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিন) দিয়ে দিন।


ছবি ৪, আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে। মরিচ ও হলুদ গুড়া দিন।


ছবি ৫, পানি দিন।


ছবি ৬, ভাল করে জ্বাল দিয়ে কষিয়ে তেল উঠিয়ে নিন।


ছবি ৭, এবার আলু (পাতলা করে কেটে রাখা) দিয়ে দিন। আগুন কমিয়ে দিন।


ছবি ৮, কয়েক মিনিট পরে এমনি দেখাবে।


ছবি ৯, এবার বেগুন দিয়ে দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ১০, আগুন কমিয়ে একটা ঢাকনা দিয়ে কিছু সময় রাখুন। মাঝে নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না।


ছবি ১১, এবার কাপের বাকী পানি দিয়ে দিন (এই পানি গরম হলে ভাল হবে, ঠান্ডা হলেও চলবে)


ছবি ১২, আগুন মাঝারি রেখে ঢাকনা দিয়ে রাখুন।


ছবি ১৩, বেগুন সিদ্ধ হয়ে গেলে আগুন কমিয়ে দিন এবং নাড়িয়ে নিন।


ছবি ১৪, কিছুক্ষন পরেই এই অবস্থায় এসে যাবে। ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে চুলা নিবিয়ে দিন। ঝোল না চাইলে, আগুন বাড়িয়ে ঝোল কমিয়ে ফেলতে পারেন, বেগুন শুঁটকী মাখামাখি হয়ে যাবে। আমি শুটকীর ঝোল পছন্দ করি, ফলে কিছু ঝোল রাখি সব সময়েই।


ছবি ১৫, ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৬, গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।

যারা বেগুন পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটা নিশ্চয় আনন্দ দায়ক হবে। বিশ্বাস করুন, আমি শুধু এই রান্না দিয়েই এই বেলার ভাত খেয়ে উঠেছি।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আমাদের সাথেই থাকুন, আসছি আরো আরো মজাদার রেসিপি নিয়ে।

  • এই ধরনের রান্না বড় লোহার কড়াইতে করুন, আগুন ভাল লাগে এবং নাড়াতেও সুবিধা। স্বাদ ভাল হয়। (অভিজ্ঞতা থেকে জানালাম)

2 responses to “রেসিপিঃ বেগুন ও শুঁটকী রান্না (গ্রামীন রান্না)

  1. এভাবে ছবি দেবেন না , জিভের জল সামলান দায় হয়ে যায় , তার মধ্যে আবার শুটকি , যেটা আমার খুব প্রিয়।

    Liked by 1 person

  2. Nice hoiyce…. Tomorrow Roja ….so waiting for ROJA recipe ….

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s