গ্যালারি

রেসিপিঃ থাই চিলি বিফ (এক্সক্লুসিভ)


থাইল্যান্ড, চীন, জাপান, কোরিয়া সহ এই সব ধরনের দেশ গুলোর খাবার দাবারের একটা উল্লেখ যোগ্য দিক হল, এরা সব সময়ে রান্নার যে সকল ভেজষ ব্যবহার করে থাকে তা সব সময়েই কাঁচা এবং সতেজ। রান্নার সময়েই এরা এই সকল ভেজষ থেতিয়ে দিয়ে রান্না শুরু করে। আমাদের রান্না গুলোতে এটা নেই। আমরা সব সময়েই ভেজষ গুলো বেঁটে রেখে দেই এবং রান্নার সময় তা থেকে দিয়ে রান্না শুরু করি। আগে তো পেঁয়াজও বেঁটে রাখা হত (এখনো কিছু পরিবারে হয়ত হয়), এখন সময় বদলেছে। পেঁয়াজ এখন আর বেঁটে রাখা হয় না, পেঁয়াজ কুঁচি দিয়েই রান্না শুরু করা হয়। যাই হোক, দুনিয়ার কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়, পরিবর্তনশীল। আমাদের ছোট বেলায় দেখা রান্নার অনেক কিছুই এখন পাল্টে গেছে, আরো বদলে যাবে। দেশ এবং মানুষের অর্থনীতি পাল্টে গেলে রান্নাবান্নাও পাল্টে যায়। একটা দরিদ্র পরিবারে যা চলে তা কি ধনী পরিবারে চলবে? না!

চলুন, কথা তো চলতেই থাকবে, কথার কি আর শেষ আছে? দুনিয়াতে যতদিন মানুষ থাকবে কথা (গল্প) ও রান্না চলতেই থাকবে! চলুন আজ থাইল্যান্ডের রান্নার অনুকরনে একটা রান্না দেখে ফেলি। থাইল্যান্ডের প্রায় মশলাপাতি ঠিক আছে, তবে ধনেপাতা সহ আরো কিছু মিসিং, নেই বলেই। তবুও এটাকে থাই চিলি বিফ বলাই যেতে পারে। আমি বিদেশী রান্নায় এখনো তেমন আগ্রহ দেখাই না, আমি আমাদের দেশের সহজ রান্না গুলো নিয়েই থাকতে চাই, সে কারনে কখনো বিদেশী রান্না করলেও দেশি ছাপ থাকেই। এবং আমার চেষ্টা থাকে রান্না যাতে আপনারা সহজেই ধরে ফেলতে পারেন, সাথে স্বাদের একটা ব্যাপার তো থাকেই। রান্না করলেই তো চলে না, খেতেও হয়!

চলুন, দেখে ফেলি।

উপকরন ও পরিমানঃ
মুল উপাদান – ৫০০ গ্রাম গরুর গোশত, হাড় ছাড়া, জুলিয়ান কাট, কিছুটা লম্বা করে

(এক বাটি সসেস মিক্স)
– সয়া সস, ১ টেবিল চামচ
– ফিস সস, ২ টেবিল চামচ
– টমেট সস, ৩ টেবিল চামচ
– কয়েক চামচ পানি

(কয়েক চামচ ভেজষ, নিম্নের যা মিলিয়ে চেঁচে নিতে হবে)
– রসুন কোষ চেঁচা, ৩ টা
– আদা কুঁচি, সামান্য
– কাঁচা মরিচ চেঁচা, ২/৩ টা (ঝাল বুঝে)
– চিনি, হাফ চামচের কম

(অন্যান্ন)
– তেলঃ ৫/৬ টেবিল চামচ (তেল কম দিয়ে রান্নাই ভাল, তবে আমাদের সামান্য কিছু তেল বেশি হয়েছিল, আপনারা কম তেলেই রান্না করুন)
– কাঁচা মরিচঃ কুঁচি, দুইটা (যারা আরো ঝাল চাইবেন)
– পানিঃ পরিমান মত
– লবনঃ সসে কিছুটা লবন থাকে বলে কম দিয়ে শুরু করতে হবে।
– লেমন রাইন্টঃ দুই চিমটি (বেশি নয়)

রান্নার প্রদ্ধতিঃ

ছবি ১, কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবন দিন।


ছবি ২, চেঁচা ভেজষ গুলো দিন এবং ভাল করে ভাঁজুন।


ছবি ৩, ভাঁজুন। হলদে হয়ে ঘ্রান বের হবে।


ছবি ৪, এবার কেটে ধুয়ে রাখা গোশত গুলো দিন।


ছবি ৫, ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ৬, আগুন থাকবে মাঝারি আছে।


ছবি  ৭, ঢাকনা দিয়ে দিন।


ছবি ৮,  গোশত নরম হতে সময় দিতে হবে।


ছবি ৯, গোশত নরম হল কিনা দেখে নিন, না হলে আরো একটু পানি দিতে পারেন, সময় নিন। পানি না দিয়েও আগুন কমিয়ে বেশী সময় নিয়ে রান্না করতে পারেন।


ছবি ১০, গোশত নরম হয়ে এলে এবার সসেস মিক্স দিয়ে দিন।


ছবি ১১, এবার আগুন বাড়িয়ে দিন।


ছবি ১২, সামান্য সময় ঢাকনা দিয়ে রাখতে পারেন।


ছবি ১৩, ঝোল কমিয়ে এলে কাঁচা মরিচ কুঁচি দিন।


ছবি ১৪, লেমন রাইন্ট (লেবুর খোসার সবুজ অংশের কুঁচি) দিন। (থাইরা এখানে লেমন গ্রাস ও কারি পাতা ব্যবহার করে)


ছবি ১৫, চাইলে এখানে আপনি ধনিয়া পাতার কুঁচি দিতে পারেন। (আমাদের না থাকার কারনে দেই নাই)


ছবি ১৬, ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার ফাইনাল লবন স্বাদ দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ‘ওকে’ বলে আগে বাড়ুন! চুলা বন্ধ করে কয়েক মিনিট ডাকনা দিয়ে রাখুন, ব্যস!


ছবি ১৭, ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। পোলাউ, রুটি বা পরোটার সাথে চমৎকার মানাবে।


ছবি ১৮, স্বাদ অসাধারন। পিলিজ লাগে, এক দিন রান্না করেই দেখুন না, সব কিছু তো হাতের নাগালেই আছে, শুধু আপনার ইচ্ছা। আশা করবো আপনার প্রিয়জনরা এই রান্না খেয়ে আপনার তারিফ করবে। আর তারিফ শুনতে কার না ভালো লাগে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

2 responses to “রেসিপিঃ থাই চিলি বিফ (এক্সক্লুসিভ)

    • ধন্যবাদ বোন, আমরা শুরুতেই ভেজষের সাথে নিয়ে নিয়েছিলাম। আপনি চাইলে চিনি ১৩ নং ছবির সময়েও দিতে পারেন। আর চাইলে চিনি এড়িয়েও যেতে পারেন, স্বাদে সামান্য কম হবে এই তো। যারা চিনি পছন্দ করেন না, তাদের জন্য চিনি দেয়ার দরকার নেই।

      আপনাকে শুভেচ্ছা। উত্তর দিতে দেরী হল বলে সরি।
      আশা করি আপনার দিন আনন্দে কাটছে, কাটুক।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s