Gallery

আড্ডাঃ হোটেল হীরাঝিলে এক দুপুর


ছোটবেলা থেকে আমি বন্ধুদের নিয়ে আছি। আজ পর্যন্ত কোন বন্ধু আমাকে অভিযোগ করতে পারবে না এই বলে যে, আমি কোন বন্ধুর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করেছি! আমার কিছু গুন আছে বটেই, আমি বন্ধুত্ব হারাতে চাই না। বিশ্বাস করবেন, আমার এমন কিছু বন্ধু আছে, যাদের সব ভাইই আমার বন্ধু (এমন পরিবার কমের পক্ষে ৭ হবে), একজনকে না পেলে অন্যজনের সাথে আড্ডা দেই। এখনো আমার ছোট বেলার অনেক বন্ধু আমার কাছে আসে এবং এখনো আমরা আড্ডা দেই।

যাই হোক, উপরের কথা গুলো বলার কারন হচ্ছে, গতকাল আমাদের স্কুলের এক বন্ধু আমাদের অফিসে এসেছিল। তার বিশেষ দিক হচ্ছে, সে খাদ্যরসিক, ভাল খেতে পারে! (তবে আমি রান্না করি, ফেবুতে ছবি দেই এটা সে পছন্দ করে না, মুখের উপর অনেক কথা শুনিয়ে দেয়, আমিও এই সব নিয়ে আলোচনা করতে চাই না ওর সাথে! নুতন ফেবু ব্যবহারকারী, একদিন সব নিজেই বুঝে যাবে, কোনটা কি! ফেবু জীবন আর বাস্তব জীবন আলাদা, তাও বুঝবে একদিন!)

অফিসের কাজে আমাকে মতিঝিল যেতে হয়েছিল, সাথে ওকে নিয়ে নিলাম। তখন দুপুর বেলা! ওকে আমি কি খাবে জিজ্ঞেস করতে জানালো মতিঝিলের হোটেল হীরাঝিলে খাবে। ওকে খাবার পছন্দের ব্যাপারে পূর্ন স্বাধীনতা দিলে ও জানালো গ্রীল খাবে! আমি নিজে বোরহানী ও গার্লিক নান যোগ করে দিলাম।

অনুমতি সাপেক্ষে ছবি গুলো তোলা হয়েছে, তবে ছবি তুলতে একটু অপরাগ ছিল! চাঁদিতে চুল নেই বলে।


বন্ধুদের হাসি মুখ দেখতে ভাল লাগে।


খালি প্লেট সামনে নিয়ে বসে থাকা!


সবার আগে বোরহানী চলে আসে, আমি সাথে সাথেই চুমুক দিয়ে দেই! (তবে ঠান্ডা ছিল না!)


ফুল চিকেন গ্রীলটা যেভাবে দিতে বলেছিলাম তা পারে নাই! মানুষ দুইজন ভেবে কেটে চার টুকরা করে দিয়েছিল!


গ্রীলের সাথে ফিক্স সালাদ!


নান ছাড়াই আমাদের খাওয়া শুরু হয়েছিল।


ফাঁকে ওয়েটার আলী ভাই এই সালাদ দিয়ে যায়, জানালো এটা স্পেশাল আমাদের জন্য।


গার্লিক নান, এটা মজাদার ছিলো।


আমার প্লেটের হালচাল! আমি জলদি খেতে পারি!


আমার বন্ধুর খাওয়া দাওয়া চলছে।


ঠান্ডা পানির বিকল্প নেই, পানির নাম জীবন কি আর সাধে বলে।


এই হচ্ছেন আলী ভাই, হাসি মুখ। সামান্য কথা বলে আমাদের কাছাকাছি চলে এসেছিলেন!


আমার জানার ইচ্ছা ছিল কত মানুষ দিনে এই হোটেলে খেতে আসে, সঠিক হিসাব কাউন্টার থেকে দিতে পারে নাই, তবে অনুমানিক জানালো, সারা দিনে চার, সাড়ে চার হাজার মানুষ এই হোটেলে খেতে আসে। দিন ভেদে বেশী কম হয়ে থাকে! প্রায় ৫০ টির বেশী আইটেম আছে! (এই হোটেলের বিশালত্ব বুঝে নিন, এই হোটেলের ব্যবস্থাপনা সাধারন বিষয় নয়! যারা  এই হোটেলের পরিচালনায় আছেন তারা নিশ্চয় স্মার্ট! এদের হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে!)


যাই হোক বিলের কাগজটা তুলে দিলাম (খাবারের দাম জানাতে) ! ফুল গ্রীল ৩৩০ টাকা, গার্লিক নানা ৬০ টাকা পার পিস, বোরহানী ৩৫ টাকা পার গ্লাস!


এই হোটেলে খাবারের অভিজ্ঞতা আমার অনেক দিন আগে থেকেই আছে, এদের বুফে খাবার নিয়ে আগেও লিখেছি। আমি এই ধরনের হোটেল পরিচালনা যারা করেন তাদের সব সময়েই ধন্যবাদ দেই। সুচারুভাবে খাবার পরিবেশন করা, সারা দিনে এত কাষ্টমারদের খুশি করা মোটেও সহজ কাজ নয় কিন্তু তারা তা করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন, বছরের পর বছর।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

(বি দ্রঃ মা, স্ত্রী পুত্রদের রেখে হোটেলে খেতে এখন আর মোটেই পছন্দ করি না। খাবার মুখে দিলেই তাদের কথা মনে পড়ে! মনে হয় কোথায় যেন ভুল হয়ে যাচ্ছে! কিন্তু তবুও কিছু করার নেই, জীবন জীবনের পথেই এগিয়ে চলে! তবে রাতে বাসায় ফেরার সময় স্ত্রী পুত্রদের জন্য গরুর গোশত কিনে নিয়ে নিজ হাতে পোলাও ও থাই চিলি বিফ রান্না করি। এই পোষ্ট হয়ত ওরাও দেখবে, আশা করি আগামীতে ওদের নিয়েও একদিন এই হোটেলে খাব।)

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s