Gallery

রেসিপিঃ রঙ চা (রাতের আনন্দ, পুরানো স্টাইল)


সিলেটের শ্রীমঙ্গল আমার জন্মস্থান, বাবার চা বাগানে কাজ করার জন্য আমাদের সেখানে মানে আমাদের মা বাবাকে চা বাগানে থাকতে হত। আমার জন্ম ‘নিরালা ট্রি স্টেট’ নামক চা বাগানে। যতদুর শুনেছি, জন্মের পর আমার নামটা সেই চা বাগানের এক ডাক্তার সাহেব রেখেছিলেন (প্রথমে ‘শাখাওয়াত’ বা ‘সরফরাজ’ এমন কিছু চিন্তা করা হয়েছিল, পরে ত ‘সাহাদাত’তে এসে ঠেকে)!  ফলে তিনটে জিনিষের প্রতি আমার সেই ছোট বেলা থেকে ঝোঁক আছে, একটা হচ্ছে চা পান করা এবং অন্যটা হচ্ছে, নিরিবিলি একেলা নিরালা জীবনযাপন করতে পারা (সহজ কথা হচ্ছে একলা থাকতে পারা) এবং আরেকটা হচ্ছে, অন্যের জন্য আত্মত্যাগ (এটা নামের কারনে হয়েছে হয়ত)!  শুনে হাসবেন হয়ত, কিন্তু এটা বাস্তবতা! আমি চা পান পছন্দ করি চরম এবং দিনের পর দিন একলা কাটিয়ে দিতে পারি, আমি কোলাহল কখনোই পছন্দ করি না! দূর থেকেই আমি কোন বিষয়ের মজা নিতে পারি, কাছে যেয়ে কিংবা গলাগলি করে কোন কিছু পেতে  কখনোই চেষ্টা করি না! আমার এই স্বভাব অনেকেই হয়ত পছন্দ করেন না, তবে এভাবেই আমি নির্ভেজাল মানুষ হয়ে এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে চাই। আমি চাই আমার দ্বারা কারো সামান্যতম ক্ষতি না হউক, আমি না হয় নাই বা পেলাম! তাতে কি!

যাই হোক, রাত অনেক হয়েছে, এই রাতে একটু চা পান করলে মন্দ হয় না! রাত জাগা আমার ব্যাটারীও বেশ পছন্দ করেন। উনাকে চা পানের কথা জিজ্ঞেস করতে জানালেন, রাজী আছেন। আমি রান্নাঘরে গেলাম, পিছনে তিনিও! চলুন আজ রঙ চা হয়ে যাক। তবে এই রঙ চা আমাদের ছোট বেলায় দেখা রেসিপি অনুসারে বানানো হল। এখন এইভাবে আর কোন পরিবারে রঙ চা হয় কিনা আমার জানা নেই। আমরাও বেশীর ভাগ সময়ে দুধ চা পান করি, বিশেষ করে সকালে দুধ চা লাগেই! আপনারা যারা আমার বয়সি তাদের নিশ্চয় এভাবে চা বানানোর কথা মনে আছে, আপনাদের পরিবারেই। চলুন দেখে ফেলি!

উপকরন ও পরিমানঃ (পরিমান আপনি নিজেও করে নিতে পারেন)
– ফিল্টার করা পানি, পরিমান মত (কয় কাপ চা বানাবেন তা আগেই কাপে পানি মেপে নিন এবং সামান্য পানি বেশী দিতে হবে কারন কিছু পানি বাস্প হয়ে উড়ে যাবে, সেইমতে অন্যান্ন উপকরণ যোগ হবে)
– চা পাতা, হাফ চামচে ৪/৫ কাপ হয়ে যাবে, এই চা’তে পাতা কম লাগে
– এলাচি বড় একটা, ৩/৪ কাপের জন্য
– তেজপাতা, মাঝারি একটা দিয়ে ৩/৪ কাপ হবে
– চিনি, যার যা ইচ্ছা, তবে কম চিনিতে এই রঙ চা ভাল লাগে, উন্মুক্ত রাখা যেতে পারে

প্রনালীঃ

আমরা দুই কাপ চা’র পানি নিয়েছিলাম, সামান্য একটু বেশি দিয়েছিলাম (ফলে কিছু পানি বাস্প হয়ে উড়ে যাবার পরে দুই কাপ হয়েছিল)। পানিতে তেজপাতা ও এলাচি দিন।


ভাল করে ফুটিয়ে নিন। এলাচি একটু ছেঁচে দিলে ভাল।


এবার চা পাতা দিন। চা পাতা বেশি দিলে তিতে ভাব চলে আসবে কাজেই কম চা পাতা দিতে হবে, পরিমানে আমি উল্লেখ করেছি!


ভাল করে জ্বাল দিন, ফুটে উঠুক। রঙ বের হবেই!


ব্যস চুলা নিবিয়ে দিন। সামান্য কয়েক মিনিট ঢাকনা দিয়ে রাখুন।


এবার চা পানের কাপ নিন এবং ইচ্ছা হলে আগেই চিনি দিতে পারেন নতুবা চিনি না দিয়ে চিনি আলাদা পাত্রে নিতে পারেন (আমরা চিনি দিয়ে দিয়েছি, কারন আমরা কে কেমন চিনি পছন্দ করি তা জানি!)


এবার চা ঢালুন।


আহ।


চামচ দিয়ে চিনি মিশিয়ে নিন।


ব্যস, হয়ে গেল।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। এই নিন!


চা নিয়ে দুইজন দুই কাজে, আমি কম্পুটারে, তিনি টিভিতে! দলিলদস্তাবেজ অবশ্য ঘুমিয়ে পড়ছে! এই তো, এভাবেই কেটে যাচ্ছে সোনার জীবন, কাটুক। মন্দ কি!

গল্প ও রান্না’র সকল পাঠিক/পাঠিকাদের আমাদের শুভেচ্ছা। ইস, একদিন যদি আপনাদের সবাইকে এমন চা পান করাতে পারতাম, এমন আড্ডা দিতে পারতাম!

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

6 responses to “রেসিপিঃ রঙ চা (রাতের আনন্দ, পুরানো স্টাইল)

  1. ei cup hate manush j vot dise seta bujha jai…….hehe :-p

    Liked by 1 person

  2. ei cup hate manush j vot dise seta bujha jai…….hehe 🙂

    Liked by 1 person

  3. আমিতো সবার আগে আসবো দাদা।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s