Gallery

রেসিপিঃ কাটারীভোগ চালের খিচুড়ি ও ১৩ লক্ষ হিটের ভালবাসা!


আপনাদের ভালবাসায় আমরা এগিয়ে চলছি। প্রতিদিন আপনারা আমাদের রান্নার পাতায় আসেন, আমাদের দেখে যান, এটা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের বিষয়! আপনাদের এই ভালবাসা ভুলে যাবার মত নয়। আমাদের চেষ্টা থাকে সব সময়েই রান্নাকে সুন্দরভাবে আপনাদের কাছে হাজির করার এবং যা দেখে আপনারা রান্না করতে পারেন। প্রতিদিন আপনারা অনেকে লিখে থাকেন, ফেসবুকে যোগাযোগ করে থাকেন, এটাও আমাদের জন্য বড় পাওয়া। এই হাটিহাটি পা পা করে গতকাল আমাদের সাইটের ১৩ লক্ষ হিট হয়ে গেল, প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ হিট এবং ৮০০ থেকে ১০০০ আইপি থেকে আপনাদের এই আসা যাওয়া আমাদের চলার পথের পাথেয়। আপনারা আমাদের অভিনন্দন গ্রহন করুন, আমাদের শুভেচ্ছা নিন, আমাদের ভালবাসা আপনাদের জন্য। আনন্দে কাটুক আপনাদের সারা জীবন।

চলুন এই উপলক্ষে আজ হয়ে যাক একটা মজার রেসিপি! হ্যাঁ, আমি ডালে চালে মিশানো খিচুড়ির কথাই বলছি। খিচুড়ি মুলত আমার কাছে ভাত ও তরকারি এক সাথে রান্না করাই! হা হা হা, তবে এই খিচুড়ির একটা আলাদা গুন হচ্ছে, খেতে মজা, রান্না সহজ। একজন নুতন রান্নাকারী এক দফা চেষ্টা করেই এই রান্না করতে পারবেন বলে আমি মনে করি, লাগবো শুধু মনের জোর এবং রান্নার প্রতি মমতা এবং ভালবাসা!

চলুন দেখে ফেলি। তবে আগেই বলে নেই, এমন খিচুড়ি অনেক ভাবে, অনেক কিছু দিয়ে আগেও অনেকবার দেখিয়েছি। এবারের ভিন্নতা হচ্ছে, কাটারীভোগ চাল এবং বরিশালের প্লেন ডাল। বরিশালের প্লেন ডাল হয়ত আপনারা অনেকই এখনো দেখেন নাই তবে এটা হচ্ছে মুগ ডালের মতই, সাইজে একটু বড়, ঘ্রানে একটু আলাদা ভিন্নতা আছে। মুগ ডালের মতই ভেঁজে নিয়ে রান্না করতে হয়। শুনেছি এই ডাল দিয়ে মাছ, মুরগী, গরুর গোসত ইত্যাদিও চমৎকারভাবে রান্না করা করা যায়, চান্স পেলে আমরাও এই রুপ রান্না করে দেখাবো।

উপকরন ও পরিমানঃ (৬ জন অনায়েসে এক বেলা খেতে পারবে)
– কাটারীভোগ চাল, এক কেজি (এই চাল বাজারে পাওয়া যায়, সাধারন চালের চেয়ে দাম একটু বেশী)
– প্লেন ডাল, হাফ কেজি
– পেঁয়াজ কুঁচি, হাফ কাপ, কম বেশী
– আদা বাটা, দুই টেবিল চামচ
– রসুন বাটা, দুই টেবিল চামচ
– জিরা বাটা, এক টেবিল চামচ
– শুকনা মরিচ গুড়া, ১ বা দেড় চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়া, ২ চা চামচ
– গরম মশলা (এলাচি কয়েকটা, দারুচিনি কয়েক পিস, লং কয়েকটা)
– তেজপাতা, দুইটা (যদি থাকে দিতে পারেন, আমাদের ছিল না)
– লবন, পরিমান মত
– কয়েকটা আস্ত কাঁচা মরিচ
– তেল, এক কাপ কম বেশি
– পানি, পরিমান মত, কাটারী ভোগ চাল পানি টানে বেশী, তা ছাড়া প্লেন ডাল শক্ত বলেও পানি লাগে বেশী।

প্রনালীঃ
ডাল প্রিপারেশনঃ

ডাল ভেঁজে নিতে হবে। ঘ্রান বের হলেই নামিয়ে নিতে হবে।


পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তার পর ধুয়ে নিতে হবে।

চাল প্রিপারেশনঃ

কাটারী ভোগ চাল কিছুটা বড় এবং মোটা, তবে খেতে স্বাদ। চাল গুলো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে। এর পরেই মুল রান্নায় যাওয়া যায়। তবে সব সময়েই রান্নার আগে মুল উপকরণের সাথে অন্যান্য উপকরণ আছে কি না এবং সেই সব উপকরণ হাতের কাছে নিয়ে নেয়া উত্তম।

মুল রান্নাঃ

কড়াইতে তেল দিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুঁচি ও সামান্য লবন দিন।


আগুন মাঝারি আঁচে, ভাঁজুন। গরম মশলা, আদা, রসুন ও জিরা বাটা দিন।


ভাঁজুন।


এবার হাফ কাপ পানি দিন এবং মরিচ হলুদ দিয়ে কষিয়ে নিন।


আগুন মাঝারি আঁচে, মরিচ হলুদ দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে তেল উঠিয়ে নিন।


এবার ডাল দিয়ে দিন।


এবার মিশিয়ে নিন, কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিন।


দুই কাপ পানি দিন।


ঢাকনা দিয়ে মাধ্যম আঁচে রাখুন, ডাল গলে যাক। সময় লাগবে, অপেক্ষা করুন।


ডাল নরম হয়ে গেলে ঘুটনী দিয়ে ভেঙ্গে দিন, কিছু শক্ত বা গোটা থাকলে সমস্যা নেই।


এবার, চাল দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন।


প্রায় দেড় লিটার পানি দিন, চাল ডাল দুটোই পানি টানে অনেক। এই সময়ে লবন দেখুন, পানি কিছুটা কটা হতে হবে, লবন দিয়ে মাধ্যম আঁচে চুলা রেখে ঢাকনা দিয়ে দিন। মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দেবেন এবং পানি আরো লাগবে কিনা তা দেখুন, কিছু পানি গরম করে রাখুন।


এই অবস্থায় এসে যাবে। যদি শক্ত থাকে বা চাল ঠিক ময় ফুটে না তবে আরো পানি দিতে পারেন।


আমাদের কিছু পানি দিতে হয়েছিল।


চুলায় একটা তাওয়া দিয়ে (আগের রেসিপি গুলোতে দেখিয়েছি) আবারো হাড়ি ঢাকনা দিয়ে রাখুন।


হ্যাঁ, ঝরঝরে খিচুড়ি পেয়ে যাবেন। মাশাআল্লাহ। ১০০ ভাগ প্রস্তুত।


এই খিচুড়ি আপনি আপনার ইচ্ছা মত যে কোন কিছুর সাথে খেতে পারবেন। ডিম ভাঁজা, গোস্তের তরকারি, সবজি ইত্যাদি যে কোন কিছু! কিছু না থাকলে, শুধু একটু আচার/অম্বল দিয়েও সাঁটিয়ে দিতে পারেন, ব্যাপার না!

আশা করি, চান্স পেলে এই খিচুড়ি রান্না করবেন।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আমরা আসছি আরো আরো নুতন মজাদার রান্না নিয়ে আমাদের সাথে থাকুন।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

7 responses to “রেসিপিঃ কাটারীভোগ চালের খিচুড়ি ও ১৩ লক্ষ হিটের ভালবাসা!

  1. ami play store theke golpo o ranna serch diye pachhi na . plz help .

    Like

  2. Could you tell me what kind of dal you have used for thia recipe?

    Liked by 1 person

  3. পড়তে পড়তে খুদা লেগে গেলো

    Liked by 1 person

  4. পড়ে ভালো লাগলো , কাজে লাগাব । আর হুম লেখক কে অবশ্যই ধইন্যা পাতা , sorry ধন্যবাদ । :))

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s