Gallery

রেসিপিঃ ঝটপট গরুর গোসত রান্না (মায়ের হাতের)


গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আম্মার সাথে কিছু সময় কাটাবার সুযোগ হয়েছিল। আমার আম্মার হাতের পাট শাঁকের একটা ঝটপট ভাঁজি আপনাদের দেখিয়েছি, সেখানে কিছু কথা বলেছি। আমি যখন মায়ের হাতের রান্না দেখি আমি অবাক হয়ে যাই, কি করে এমন মজাদার রান্না করেন। তিনি রান্না করেন দ্রুত এবং পরিচ্ছন্নভাবে। তবে উনার রান্না দেখে আমার এটাই মনে হয়, রান্না হচ্ছে পুরাই অভিজ্ঞতা ভিত্তিক ব্যাপার। সত্য কথা, রান্না করতে করতে এক সময়ে হাতই উপকরণ ও পরিমান বলে দেয়। আম্মাকে দেখে আমি এটা বুঝতে পারি।

(রিপিট) যাই হোক, চলুন আমার মায়ের হাতের একটা রান্না দেখি। বলে নেই, আমার মা এখন নিয়মিত রান্না করেন না, প্রবাসে ছিলেন অনেক দিন। ফিরে এসেছেন। এখন আপাতত গ্রামের বাড়িতে আছেন। এখন মাঝে মাঝে রান্না করেন। গতকাল আমি বাড়ীতে গেলে তিনি রান্না করেছিলেন, আমি সহযোগী হিসাবে ছিলাম। আমার মায়ের রান্নায় একটা ব্যাপার আমার কাছে খুব আশ্চর্য্য মনে হয়, তিনি খুব ঝটপট রান্না করেন, টের পাবার আগেই উনার রান্না শেষ হয়ে পড়ে। এত দ্রুত তাল লয় মিলিয়ে রান্না করেন যে, আমি অবাক হয়ে পড়ি।

আমাদের গ্রামের বাড়ী। শহরে আমাদের তেমন কিছু নেই।

গতপরশু দুপুরে আমি ও আম্মা এক সাথে দুপুরের খাবার খেয়ে ছিলাম। আমাদের রান্না ছিল গরুর গোসত এবং পাট শাক ভাঁজি (আগের রেসিপিটাই)। আমি দুটো খাবার তুলতে পরেছি। চলুন আজ গরুর গোশত রান্না দেখি। এমন রান্না আমি আগেও আপনাদের দেখিয়েছি কিন্তু এটা দেখার পর মনে হয়েছে, এর চেয়ে সহজ আর কি হতে পারে। এত কম উপকরণে আর কি খাবার চাই?

উপকরন ও পরিমানঃ
– গরুর গোসতঃ ৭০০ গ্রাম প্রায়, হাড় ছাড়া
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ হাফ কাপের কম
– রসুন বাটাঃ ২ চা চামচ
– আদা বাটাঃ ২ চা চামচ
– দারুচিনিঃ ২ সেমি, ২/৩ টুকরা
– এলাচিঃ ৩/৪ টা
– লাল মরিচ গুড়াঃ এক চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ এক চা চামচ
– জিরা গুড়াঃ এক চা চামচের কম
– লবন পরিমান মত, দুই ধাপে
– তেলঃ হাফ কাপের কম (চর্বি থাকলে আরো কম দিতে পারেন)
– পানি (পরিমান মত, ঝোল কেমন রাখবেন তার উপর নির্ভর করবে)

প্রনালীঃ

কড়াইতে তেল দিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুঁচি দিলেন।


আগুন মাঝারি আঁচে, তার পর একে একে সামান্য লবন, এলাচি, দারুচিনি, আদা, রসুন, জিরা, লাল মরিচ গুড়া ও হলুদ দিতে লাগলেন এবং নাড়ালেন। মাঝে হাফ কাপ পানি দিয়েছেন।


কষিয়ে তেল উঠিয়ে নিলেন।


এর পর গোশত (যা আগেই ধুয়ে রেখেছিলেন) দিলেন।


আগুন মাঝারি আঁচে, ভাল করে মিশিয়ে নিলেন।


ঢাকনা দিয়ে দিলেন।


এই সময়ে অন্য চুলায় পাটশাক ভাপিয়ে নিচ্ছিলেন।


আমাদের খাবার টেবিল। এর উলটা দিকেই রান্নাঘর। রান্নাঘর এবং ড্রাইনিং টেবিলের মাঝে একটা জানালা আছে, ইচ্ছা হলে খাবার দাবার এই জানালা দিয়ে পারাপার করা যায়!


গোশত দেখে নিলেন, শক্ত থাকায় এবং অন্য চুলা থেকে গরম করা প্রায় দুই কাপ পানি দিলেন। এবং স্বাদ না দেখেই আরো একটু লবন দিলেন। মনে হল রঙ দেখেই লবন লাগবে বুঝতে পারছিলেন।


ব্যস, আবার ঢাকনা। ফাঁকে তিনি অন্যান্য কাজ শেষ করলেন। এক ফাঁকে আমাকে বললেন, আগুন নিবিয়ে দিতে।


কিছু সময় পরে আমি ঢাকনা উল্টে দেখলাম, রান্না শেষ!

আমাদের পরিবারে সাধারন ভাবে পাওয়া মশলা গুলো দিয়েই রান্না, স্বাদ অসাধারন।  যারা নুতন রান্না করছেন, আশা করি এই রান্নাটা আপনাদের কাজে লাগবে।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আমরা আসছি আরো আরো নুতন মজাদার রান্না নিয়ে আমাদের সাথে থাকুন।

কৃতজ্ঞতাঃ আমার আম্মা ফিরোজা বেগম

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s